বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বিমানবন্দর নামকরণে আগরতলায় প্রদেশ বিজেপি'র মিছিল ও সমাবেশ - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১৮

বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বিমানবন্দর নামকরণে আগরতলায় প্রদেশ বিজেপি'র মিছিল ও সমাবেশ

তন্ময় বনিক,আগরতলাঃ
মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর মাত্র ৩৯ বছর বয়সে, এতো কম সময়ের মধ্যে আধুনিক ত্রিপুরা গড়েছেন। ওনাকে আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার বলা হয়। বাংলাদেশ থেকে আসা রিফিউজিদের এই রাজ্যে থাকার জায়গা দিয়েছেন। আর বিগত সরকার তাদের শাসনকালে ত্রিপুরা এবং জনজাতিদের অনুন্নতই করে রেখেছে। এভাবেই মহারাজা ও বামফ্রন্টের মধ্যে তুলনা টানলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। আগরতলা বিমানবন্দরের নয়া নামকরণ হয়েছে মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বিমানবন্দর। এর মধ্য দিয়ে ভিশন ডকুমেন্টে দেওয়া আরও একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করলো রাজ্যের নয়া সরকার। তাই প্রদেশ বিজেপি'র পক্ষ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে আগরতলায় মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। 
বুধবার(১১জুলাই) স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান থেকে মিছিল শুরু হয়। 
শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমার পর সমাবেশ হয় রবীন্দ্র ভবনের সামনে। সেখানে দলের রাজ্য সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মা, শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ, সমাজকল্যান ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, প্রদেশ বিজেপি'র সাধারণ সম্পাদিকা প্রতিমা ভৌমিক সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন তার বক্তব্যে তৎকালীন সময়ে মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্যের এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের ত্রিপুরার উন্নয়ন নিয়ে যে চিন্তাধারা তা জনসমক্ষে তুলে ধরেন। অন্যদিকে কড়া সমালোচনা করেন বামফ্রন্টের। তিনি বলেন, নয়া সরকার "এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা'" গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। এছাড়া নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এনইসি এর বৈঠকেও এই বিষয় উত্থাপন করেন বলে জানান এবং তাতে উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উৎসাহ পেয়ে এখন নেশামুক্ত রাজ্য গড়ার কথা ভাবছেন এই কথাও বলেন। ত্রিপুরার মহারাজাকে সম্মান জানাতে এবং ত্রিপুরাবাসীর সম্মানের কথা ভেবে কেন্দ্রীয় সরকার মাত্র একদিনের ক্যাবিনেট বৈঠকে আগরতলা বিমানবন্দরের নাম মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্যের নামে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরজন্য মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যে এখন জনমুখী সরকার হয়েছে। এবছর রাজ্যের সাহসী বাজেট করা হয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশংসা করেন উপমুখ্যমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মার। এই বাজেটের মধ্য দিয়ে স্বনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার দিকে নজর দেওয়া হয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে কতটা মনযোগী হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং কে এনইসি'র চেয়ারম্যান করেছেন। এনইসি'র বৈঠকে উঠে আসে আইটি হাব হবে উত্তর পূর্বাঞ্চলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী সারা দেশকে দিশা দেখাতে চাইছেন। সেই দিশাতেই ত্রিপুরা সরকার এগিয়ে যেতে চাইছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী আরও একবার মহারাজা বীরবিক্রমের প্রসঙ্গ টানেন। বলেন, মহারাজের আধুনিক ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে ৩৭ লক্ষ মানুষকে কাজ করতে হবে। সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও রাজ্যের নয়া সরকারের কাজকর্মের প্রশংসার পাশপাশি বামফ্রন্টের তীব্র সমালোচনা করেন। 
এই সভার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারও কিছুটা সেরে নেন বিজেপি নেতৃত্বরা। এদিনের এই কর্মসূচীতে জনজাতিদের উপস্থিতি ছিলো বেশ ভালোই। 

ছবিঃ সুমিত কুমার সিংহ
১১ই জুলাই ২০১৮ইং           

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here