কুম্ভমেলায় শাহী স্নানের পথে---- রীণা দাশ - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

কুম্ভমেলায় শাহী স্নানের পথে---- রীণা দাশ

 স্বস্হানের মায়া মোহ ছেড়ে এস্হান ওস্হান ঘুরে দেখার ইচ্ছে সবসময়ের।পরিবেশ, পরিস্হিতি,সময় কখনো কখনো বাদী হয়ে উঠে।ইচ্ছে হলেই সব ইচ্ছে পূরণ হয় না তাই।স্কুলে পড়াকালীন অবস্হায় কিছু কিছু বই ঘাটাঘাটি করেছিলাম।আজ আর সব বইয়ের নাম ও তার লেখককে একসাথে জুড়তে পারি না।এ আমার স্মৃতিভ্রমের ফসল বৈ কিছু নয়।তবে কিছু কিছু বইয়ের লাইন মাথায় চেপে আছে এখনো।জীবনশৈলীতে জুড়ে রাখি এই লাইনগুলো।
এমনই একটা লাইন ---"কোন কিছুতে মোহ রাখতে নেই,মোহ মায়া বাড়িয়ে দেয়।আর এই মায়া সংসারের বন্ধন বাড়িয়ে তোলে।বন্ধনই মানুষের সকল দুঃখের কারণ।"
যখন পড়েছিলাম তখন অনুভবে আসে নি।এখন বুঝতে পারি এক জায়গায় থাকতে থাকতে আমাদের ওই জায়গার প্রতি আমাদের মোহ চলে আসে।ওই মোহমুক্তির জন্যই স্হান পরিবর্তন করে কিছুদিনের জন্য ঘুরে আসা প্রয়োজন।সুযোগ পেলে তাই চলে যাই কোথাও না কোথাও।এবার মেঘ না চাইতে জল হাতে পেলাম।হয়ত বা একেই বলে ঈশ্বরের ডাক।

দিনটি 21 শে ডিসেম্বর 2018। টি ভিতে প্রয়াগে কুম্ভমেলার প্রস্তুতি পর্ব দেখছিলেন কর্তাবাবু।রাত দশটা।হঠাৎ হাঁক পাড়লেন।বললেন ,চলো শাহী স্নান সেরে আসি।আকাশ থেকে পড়ার অবস্হা। বিনা আয়োজনে অনুষ্ঠানের মত।ছেলের বোর্ড এক্সাম সামনে।তাই ঘুরাঘুরির ভাবনা আপাতত দূরেই রেখেছিলাম।কিন্তু কর্তাবাবুর আস্কারায় সায় দিতে হল।সাথে সাথে বাইরে পাঠরত ছেলেকে ফোন।প্রত্যুত্তরে অবাক করার বিষয় ,শাহী স্নানের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।এয়ার টিকিট হয়ে গেছে।আগরতলা টু বেনারস ।ফ্লাইট ,এয়ার ইন্ডিয়া।দিন 11th jan 2011।সময় 11.25 mint.অনুভব হলো ঈশ্বরের ডাকের।কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া সর্ব বৃহৎ সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মানবমিলন মহোৎসবে যোগদান করতে যাচ্ছি বলে মানসিক উত্তেজনার পারদ তরতর করে বেড়ে উঠছিল ।

যাবো দুজনেই ।একে অপরের সাথী হয়ে।বারকয়েক ট্যুর করেছি দঙ্গল বেঁধে।কিন্তু এ বারে মনে হলো দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ হয় তীর্থভ্রমণ হয় না।ভ্রমণ যদিও বিভিন্ন জনে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে করে থাকে,আমার উদ্দেশ্য ছিল দেখা ও জানা।নিজেকে খোঁজা।এ ভ্রমণ করতে হয় নীরবে নির্জনে।আত্মস্হ হতে না পারলে তীর্থভ্রমণের তৃপ্তি আসে না।তাই বিনোদনের পাশাপাশি ধর্মবিহারকে প্রাধান্য দিতেই দল ছোট করে নেয়া।

যাওয়ার ব্যবস্হা হলো।কিন্তু থাকবো কোথায় ,এ নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হলো।রাত এগারোটায় ফোনে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের এক কর্মকর্তার সাথে কথা হলো।পরের দিন সকাল আটটায় খবর এলো পরমার্থ সাধক সংঘের দয়াল মহারাজজীর সাথে কথা বলতে হবে।ফোন করে চলে গেলাম আমতলী,আগরতলায় উনার বাড়িতে।কথার ফাঁকে ফাঁকেই ফোন করছিলেন আর একে একে সব জায়গায় আমাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্হা সেরে নিচ্ছিলেন।থাকা খাওয়ার খরচা বাবদ কোন দরকষাকষি নেই,ফিক্সড প্রাইস বলেও কিছু নেই।মহারাজজীর সাথে কথা বলতে গিয়ে উনার অভিব্যক্তি দেখে রামকৃষ্ণ দেবের ----"ঈশ্বরের বালক স্বভাব "এই লাইনটি মনে পড়ে গেছিল সেদিন।শুধু বললেন, গঙ্গাজল দিয়েই তো গঙ্গাপূজো করতে হবে,কিছু একটা দিয়ে দিন। 
থাকার ব্যবস্হা করে আসার পর থেকে দিন গোনা শুরু হল।কাঙ্খিত দিন 11th jan 2019.শাহী স্নান হবে 15th 2019.মকর সংক্রান্তি তিথিতে।ছেলের ইচ্ছে আমরা যেন দুদিন বেনারসে কাটিয়ে যাই।সেইমত দয়াল মহারাজজী বেনারসেও ভোলাগিরি আশ্রমে মাধবানন্দজীর সাথে কথা বলে আশ্রমেই থাকা খাওয়ার ব্যবস্হা করে দিলেন।মাথাপিছু দুশো টাকা করে প্রতি দিন।দুবেলা অন্ন ব্যঞ্জন ,দুবেলা চা টিফিন।প্রথমে শুনতে ঠাট্টা মনে হয়েছিল,পরে ভাবলাম সত্যই বলেছেন।শিক্ষকতায় আছি বলে কথাও বেশি বলি।মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলাম ,এত কম টাকায় কি করে ম্যানেজ করবেন।উত্তর যা পেলাম ,এরপর আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাধ জাগে নি।বললেন ,মানবসেবার জন্য এর চাইতে বেশি কেন লাগবে।কেবল ভাবলাম আমরাও তো মানুষ,আমাদের এত এত রোজগারে আমাদেরই তো উদরপূর্তি হয় না আবার মানবসেবা।ভোগের চূড়ান্ত সীমায় আমাদের বাস আর উনাদের ত্যাগের চূড়ান্ত সীমায়।যৎসামান্য দানের বিনিময়ে আশ্রমবাসীরা অন্য ভক্তজনদের জন্য যেটুকু করছেন আমরা বিনিময়ে তা করতেও দ্বিধাগ্রস্ত।

(ক্রমশঃ)

ছবিঃ সংগৃহীত

রীণা দাশ, ত্রিপুরা

১০ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ইং

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here