ত্রাণের চাল বিতরণে অনিয়ম ছিল এবং আছে, এদের দমন করতে হবে শক্ত হাতে ঃ পি.আর. প্ল্যাসিড, জাপান - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

ত্রাণের চাল বিতরণে অনিয়ম ছিল এবং আছে, এদের দমন করতে হবে শক্ত হাতে ঃ পি.আর. প্ল্যাসিড, জাপান

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার সময়কার অনেক ঘটনা পুরোপুরিভাবে মনে না থাকলেও কিছু বিষয় আমার স্পষ্ট মনে আছে। ১৯৭১-এ যুদ্ধ চলাকালে কিছু রাজাকারের সহায়তায় পাকিস্তানী সৈন্য গান পাউডার ছিটিয়ে আমাদের পুরো ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। আমরা তখন নিরুপায় হয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম নিরাপদ আশ্রয়ে। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, বিজয় লাভের পর বাবা মা ভাইবোন সহ পোড়া বাড়িতে ফিরে এসেছি। বাড়ির অবস্থা দেখে পরিবারের সবাই ভেঙ্গে পড়লেও সবকিছু নতুন করে গড়ার উদ্যোম নিয়ে বাবা কাজ শুরু করলেন। অনেকদিন পর্যন্ত আমরা পোড়া টিনের ছাপড়া ঘরে তখন সব ভাইবোন মিলে রাত যাপন করেছি। একদিন তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ফনিভূষণ মজুমদার তাঁর দলবল নিয়ে বাড়িতে এলেন। এরপরই প্রচুর চাল আসে বাড়িতে এলাকায় অসহায়দের মাঝে বিতরণ করার জন্য। কম্বলও এসেছিল প্রচুর। আমার যতটা মনে আছে চাউল বিতরণের জন্য এলাকার মাতব্বরদের নিয়ে বাবা কমিটি গঠন করে তাদের মাধ্যমে অসহায়দের মধ্যে চাল বন্টন করেন। সবার মাঝে চাল বন্টন করার পর কিছু চালের বস্তা অবশিষ্ট ছিল যা পরবর্তীতে বাকী যদি কেউ থেকে থাকে তাদের মধ্যে বন্টন করার জন্য বাড়ির উঠোনেই ওপেন রাখা ছিল। যাদের সহায়তায় পাকিস্তানিরা আমাদের বাড়িতে সেই সময় আগুন লাগিয়েছিল তারাই রটাতে শুরু করলো আমরা গরীবের চাল আত্মসাত করতে বাড়তি চাল লুকিয়ে রেখেছি। এ কথা শোনার পর বাবা আবার জরুরীভাবে কমিটির সবাইকে ডেকে বললেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই চাল বাড়ি থেকে বিলি বন্টন করে বাবাকে যেন দায় মুক্ত করা হয়। তাই পরের সপ্তাহেই আবার সেই অবশিষ্ট চাল তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়। তখন এই ত্রাণ বিতরণের যে দায়িত্ব বোধ ও আত্মসচেতনতা সেটা অন্য কারো বেলায় না হলেও খুব কাছ থেকে দেখেছি বাবার ভূমিকা পালনের মাধ্যমে। দেশ স্বাধীন হবার এতকাল পর (প্রায় অর্ধ শত বছর) দেশে লোক সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যাও। সবকিছু বৃদ্ধির সাথে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বোধ যেখানে বৃদ্ধি পাবার কথা সেখানে দেখছি তার পুরো উল্টো চিত্র। করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) থেকে আক্রান্ত রোগীদের ভয়াবহ অবস্থার মাধ্যমে যেখানে সাড়া পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে মহামারীর মত দুর্যোগ সেখানে বাংলাদেশের মত ঘনবসতি লোকের দেশে এর অবস্থা যেন আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে না পারে সেজন্য প্রায় সারা দেশ লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশে এ নিয়ে, যখন যে সমস্যা হচ্ছে তখন সেই সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু লকডাউন করলেই তো আর সব সমস্যার সমাধান হবে না। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি খাবার নিয়েও। এজন্য সরকার হাতে নিয়েছে অসহায়দের কাছে ত্রাণ বিতরণের। দেশে বেশ কিছুদিন ধরে ত্রাণ বিতরণ করতে শুরু করা হয়েছে কিন্তু ত্রাণ বিতরণের বিভিন্ন সেল্ফি সামাজিক সাইটে ভাইরাল হচ্ছে যা দেখে অবাকই হতে হয় ত্রাণ দেবার ধরন দেখে। সেখানেই ক্ষ্যান্ত নেই রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা। প্রতিদিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যার পাশাপাশি চাল আত্মসাতের যে সংবাদ মিডিয়াতে উঠে আসছে তা সত্যিই দুঃখ জনক। শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে গরীব দুঃখি ও অসহায়দের উদ্দেশে আনা চাউল নিজেদের গোডাউনে নিয়ে ভরছে। এই যদি হয় বর্তমান দুর্যোগ মোকাবেলার অবস্থা তাহলে দেশের এই দুযোগপূর্ণ অবস্থায় সরকার কিভাবে যে সমস্যা থেকে উত্তরণ লাভ করবে জানি না। বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় খুব দুঃখ করে এই চোরদের কথাই বলেছিলেন, এত কষ্ট করে ভিক্ষা করে আনি বিদেশ থেকে আর এই চাটার দল চেটে খেয়ে ফেলে সব, আমার দুঃখি মানুষের ভাগ্যে কিছু জোটে না। যে কথা গুলো শক্ত কন্ঠে বলে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বলেই মনে করা হয় সেই ঘুষখোর চোরের দল সংঘবদ্ধ হয়ে তার সর্বনাশ করেছিল। আজ তার কন্যা ক্ষমতায় থেকে যে ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে চেষ্টা করছেন তার ফল শ্রুতিতে দেখছি দলীয় লোকেরাই যেন তার সর্বনাশ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। দেশের কোথাও না কোথাও থেকে প্রতিদিন চাল চুরির ঘটনা ফাঁস হচ্ছে। এসব চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে কিছু অসাধু চেয়ারম্যান, মেন্বার এবং কিছু পথভ্রষ্ট দলীয় নেতা কর্মী। ধরাও পরছে চোর গুলো। কোথায় তারা যথাযত দায়িত্ব পালন করে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করবে তা না করে আরো দুর্বল করতে যেন উঠে পড়ে লেগেছে। স্বাধীনতার পর যারা এই চুরির সাথে জড়িত ছিল তারা না হয় স্বাধীনতা উত্তর দেশে বুঝে না বুঝে করেছে কারণ ওদের মধ্যে অনেকেই ছিল হয়তো যারা এই স্বাধীনতা চায় নি পরবর্তীতে মেনে নিতে পারে নি যে কারণে বঙ্গবন্ধুর সব কাজ থামিয়ে দেবার জন্য কৌশলে এমন চুরির সাথে জড়িত ছিল কিন্তু এখন তো পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের তো সেই বিষয় না বোঝার কথা নয়। কেন তারা এই চুরি করে হতদরিদ্র অসহায় মানুষদের কপালে লাথি মারছে? যে কারণে দেশে আজ এই ত্রাণ বিতরণের প্রয়োজন হয়েছে সেই বিষয় যদি সরকারী দলের লোকেরা না বোঝে তাহলে আল্লাহ না করুন, এই পাপের ফল যে তাদের ভোগ করতে হতে পারে সেই চিন্তা কি একবারও মনে আসে না তাদের? বঙ্গবন্ধুর আমলে যা তিনি উদারতার কথা বলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন নি আজ তা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার কঠোর হস্তে তা নিয়ন্ত্রণ করছে, এটাই যেন অনেক আশার আলো। এই চোরদের ধরে কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে, না হলে দেশবাসীকে এযাত্রায় আগের চেয়ে অনেক বেশী মাসুল দিতে হতে পারে যা উত্তরণের পথ খুঁজে পাবে না সহজে।

--------------- পি.আর. প্ল্যাসিডঃ জাপান
প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক

১৩ই এপ্রিল ২০২০

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here