এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল, হিসাব কষছে পরীক্ষার্থীরাঃ বাংলাদেশ - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল, হিসাব কষছে পরীক্ষার্থীরাঃ বাংলাদেশ

প্রভাষ চৌধুরী, ঢাকা ব্যুরা অফিস,আরশিকথাঃ
বাংলাদেশে এই বছর এইচএসসি ও সমামানের পরীক্ষা করোনার কারণে বাতিল করেছে সরকার। ডিসেম্বরে চূড়ান্ত ফলাফল দেয়া হবে পরীক্ষার্থীর জেএসসি ও এসএসসির ফলাফল মূল্যায়ন করে। এ সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী, অভিভাবক মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে, করোনার মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে না, এ জন্য স্বস্তি প্রকাশ করেছে অনেকে। কিন্ত উচ্চ মাধ্যমিকের পড়ালেখা একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিধায়, সরকারের এই সিদ্ধান্তে কতটা সময়পোযাগী তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে, সরকারের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বর্তমান অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া প্রায় অসম্ভব। তাই ঝুঁকি এড়াতে এই ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে পরীক্ষা নিতে যে পরিমান লোকবল বা অবকাঠামো দরকার, তা সরকাররের নেই বা তা নেয়ার মতো সময়ও নেই। তাছাড়া, পরীক্ষা দিতে গিয়ে যদি কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে যায়, তবে পরবর্তীতে তাকে মূল্যায়ন কিভাবে করা হবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এ রকম নানা বিষয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় সরকারের উচ্চ মহল থেকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে গ্রীন সিগল্যান দেয়া হয়।
পরীক্ষা বাতিলে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সাথে প্রথম কলকাতার তাৎক্ষনিক আলাপ হয়। সে সময় শিক্ষার্থীরা জানান এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা যে অনিশ্চিয়তার মধ্যে ছিল তার অবসান হয়েছে। তবে, চূড়ান্ত ফলাফল কি হয় সে বিষয়ে তাদের খানিকটা চিন্তাও রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায় যাদের রেজাণ্ট জেএসসি ও এসএসসিতে খারাপ ছিল, তাদের জন্য একটা সুযোগ ছিল এইচএসসিতে ভালো করার। কিন্তু সে সুযোগটা তাদের হাত ছাড়া হয়ে গেলো। তাই তারা এখন চুড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় আছে।
রাজধানী ঢাকার বিএফ শাহিন কলেজের শিক্ষার্থী সয়ন ইসলাম প্রথম কলকাতাকে জানান, এইসএসসি পরীক্ষা হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অংশ নিতে হতো। তাই এই সিদ্ধান্ত এক দিক থেকে ভালো। তবে মূল ফলাফল না আসা পর্যন্ত স্বস্তি প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
তবে অনেক শিক্ষার্থী মনে করছে পৃথিবীর কোন দেশেই এখনো এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে বিদেশের কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়গুলো এই সিদ্ধান্তটিকে কিভাবে মূল্যায়ন করবে তা এখন ভাবনার বিষয়। কারণ উচ্চ মাধ্যমিক শেষে অনেক ছেলে মেয়ে দেশের বাইরে পড়তে যায়। তাই এ ক্ষেত্রে সমস্যা সৃস্টি হতে পারে। এই ধরণের অনেক বিষয় অমিমাংসিত রয়েছে বলে মনে করছে এ খাতের সংশ্লিষ্টরা, যা হয়তোবা সময় মত সমাধানের রাস্তা খঁজে পাবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত আবার অনেকের লাভও করেছে। যেমন এইচএসসি ও সমামানের পরীক্ষায় একবার ফেল করার পর, যারা এবার পরীক্ষায় বসায় প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তাদের ভালোই হয়েছে। গতবার এই পরীক্ষায় যারা ফেল করেছেন তাদেরও জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন ‘গতবার যারা ফেল করেছে, তাদেরও জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।’
গতবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। গত বছর উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল করেছিলেন তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী। যারা এবার সকলেই নিশ্চিত পাশ করবেন। আর এইবার প্রথমবারের মতো উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ফলাফল বের হবে যেখানে কোন ফেল থাকবে না।

আরশিকথা বাংলাদেশ সংবাদ
৮ই অক্টোবর ২০২০

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here