যেভাবে ১৩ ঘন্টা পর ডুবন্ত লঞ্চের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন সুমনঃবাংলাদেশ রিপোর্ট - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

যেভাবে ১৩ ঘন্টা পর ডুবন্ত লঞ্চের ভেতর থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন সুমনঃবাংলাদেশ রিপোর্ট

আবু আলী, ঢাকা, ৩০ জুন ॥ বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার হন সুমন ব্যাপারী। এটি এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর দেবাশিষ বর্ধন বলেন, লঞ্চডুবির প্রায় ১৩ ঘণ্টার পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ‘আমরা ধারণা করছি উদ্ধার হওয়া এই ব্যক্তি সম্ভবত ইঞ্জিন রুমে ছিলেন। সাধারণত ইঞ্জিন রুম এয়ারটাইট হওয়ার কারণে সেখানে পানি প্রবেশ করে না। ১০টা ১০ মিনিটের দিকে কুশন পদ্ধতি ব্যবহার করে জাহাজ ভাসানোর চেষ্টা করা হলে সম্ভবত ইঞ্জিনরুম খুলে যায়। সে সময় তিনি বের হয়ে আসেন। এরপর তাকেজরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৩০ জুন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে বসে দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে সুমন ব্যাপারী বলেন, 'লঞ্চ যখন ডোবে, তখন আমি ঘুমাচ্ছিলাম। লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার সময় ঘুম ভাঙে। শুধু বুঝতে পারলাম, লঞ্চটি ধাক্কা খাইলো। আর কিছু খেয়াল নাই। কিসের মধ্যে ছিলাম আল্লাহ জানেন, তবে ভেতরে এক জায়গায় খাড়ায় ছিলাম রড ধইরা।' দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া লঞ্চটি সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জ ছেড়ে আসে, সেসময় তিনি ইঞ্জিন রুমের সাইডে বসা ছিলেন বলেও জানান। এসময় সুমন ব্যাপারী জানান, মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামে তার বাড়ি। তিনি একজন ফল ব্যবসায়ী। সদরঘাটের বাদামতলী ফলের আড়তেই ব্যবসা। ব্যবসার কাজেই ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে সুমন বলেন, 'আমার কাছে মনে হইলো ১০ মিনিট ছিলাম, আল্লাহ যে ক্যামনে ১২-১৩ ঘণ্টা পার কইরা দিলো বলতে পারি না। আমি ভেতরে কিসের মধ্যে ছিলাম, কিচ্ছু বুঝতে পারি নাই, তবে পানির তলে ছিলাম এইটুক জানি।' সেখান থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আল্লাহ বাইর কইরা নিয়ে আসছে। বের হওয়ার সময় কিচ্ছু বুঝি নাই। বের হওয়ার পর আমারে উদ্ধার কইরা নিয়ে আসছে। পানির মধ্যে যখন ছিলাম, তখন সাঁতার কাটার ফোম দেখসিলাম চোখের সামনে, হাতরায় নিতে পারতেসিলাম না, পরে লোহার রড ধরে বসে ছিলাম। নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল কিনা জানতে চাইলে সুমন ব্যাপারী বলেন, 'নিঃশ্বাস আল্লাহ দিসে। না দিলে তো মইরাই যাইতাম। ওপরে যখন উঠি, তখন কিছুই বুঝতে পারি নাই, ক্যামনে উঠলাম কীভাবে উঠলাম। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা এম এ সাত্তার সরকার জানান, সুমনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে এখনও। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন, কথাবার্তা বলছেন। আমরা কিছু টেস্ট করবো, তারপর সিদ্ধান্ত নেবো। অন্যদিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়েছে। আর সেখান থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চে তল্লাশি চালিয়ে এই কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিকেলে আরও এক লাশ ভেসে উঠে। এই নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী দল প্রথমে লঞ্চটি খেজুরবাগ ঘাট এলাকায় নদীতে উল্টো করে। পরে এর ভেতরে তল্লাশি চালায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো তল্লাশি চলছে। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক জানান, ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চ সদরঘাট লালপট্টি থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। লঞ্চটি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। এতে মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত ১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। ধাক্কা দেওয়া লঞ্চ ময়ূর-২ জব্দ করা হয়েছে। লঞ্চের চালক পলাতক। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক, মাস্টার, সুকানিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল রাতে নৌপুলিশ সদরঘাট থানার উপপরিদর্শক মো. শামসুল বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এই মামলা করেন। প্রসঙ্গত, সোমবার (২৯ জুন) বুড়িগঙ্গায় মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা 'মর্নিং বার্ড' নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে। লঞ্চে ৫০ যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, লঞ্চে শতাধিক যাত্রী ছিল। দু’টি লঞ্চের সংঘর্ষের পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত ৩৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অনেকে এখনও নিখোঁজ আছে। লঞ্চডুবির ১৩ ঘণ্টা পর একজনকে জীবিত উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

৩০শে জুন ২০২০

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner