চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে পণ্য পরিবহনের সূচনা - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে পণ্য পরিবহনের সূচনা

নিজস্ব প্রতিনিধি,আগরতলা,আরশিকথাঃ
বাণিজ্যের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের " পূবে সক্রিয় হও " (অ্যাক্ট ইস্ট) নীতি বাস্তবিক রূপ পেলো।বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে স্থলপথে বৃহস্পতিবার(২৩ জুলাই) পরীক্ষামূলক ভাবে পণ্য পরিবহনের সূচনা হয়েছে।এদিন সকালে আখাউড়া সুসংহত স্থলবন্দর প্রাঙ্গনে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সবুজ পতাকা নেড়ে পণ্য বোঝাই চারটি ট্রেলারের আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করেন।এই চারটি ট্রেলারের মধ্যে দুটিতে রয়েছে রড এবং অপর দুটিতে রয়েছে ডাল।৫০টন রড বোঝাই ২টি ট্রেলার আগরতলার বোধজংনগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।৫০টন ডাল বোঝাই ২টি ট্রেলার এখানে আনলোডের পর ট্রাকে করে আসামের করিমগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।
এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজ্যবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।তিনি বলেন,এই দু'জন প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই এটা সম্ভব হয়েছে।এই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় রাজ্যের এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,আজ রাজ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।আজ থেকে চট্টগ্রাম - আগরতলা স্থলপথে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে।আগে হলদিয়া বন্দর থেকে ১,৬০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাজ্যে পণ্য সামগ্রী আসতো।এখন হলদিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ট্রানজিট কার্গো পৌঁছে গেছে মাত্র ৬০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেই।এতে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও অনেকটা কমেছে।
আগামী ডিসেম্বর মাসে সাব্রুমের ফেণী নদীর উপর ব্রিজ চালু হয়ে যাবে।বাংলাদেশের দাউদকান্দি থেকে সোনামুড়া পর্যন্ত জলপথ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।কিন্তু কুমিল্লার কাছে কয়েকটি বড় ব্রিজ থাকায় সোনামুড়ায় জলপথে পণ্য পরিবহন শুরু হতে পারেনি।দু'চার দিনের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট চলে আসবে।সরকার ধর্মনগর - আগরতলা পর্যন্ত রাস্তাটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।রাজ্যে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন,যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে ত্রিপুরার অর্থনীতির চেহারাই বদলে যাবে।এতে নির্মাণ সামগ্রী,ওষুধ,নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম যেমন কম্বে তেমনি কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
এদিন বিশেষ অতিথির ভাষণে ত্রিপুরাস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার কিরীটি চাকমা বলেন,এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি দু'দেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।সম্মানিত অতিথির ভাষণে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন,চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে জলপথে পণ্য পরিবহন শুরু হওয়ায় আগামীদিন ভারত-বাংলাদেশ শিল্প-বাণিজ্য ও পর্যটনে লাভবান হবে।এদিনের অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ল্যান্ডপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার আগরতলার সুসংহত চেকপোস্টের ম্যানেজার দেবাশিষ নন্দী,শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা পি কে গোয়েল,১২০নং বিএসএফ  ব্যাটেলিয়নের কমান্ডেন্ট রতীশ কুমার সহ বহু ব্যবসায়ী ও উৎসাহী জনসাধারণ।


তথ্যসূত্রঃ তথ্য ও সংস্কৃতি অধিকার
ত্রিপুরা সরকার

ছবিঃ সুমিত কুমার সিংহ
আরশিকথা
২৩শে জুলাই ২০২০ 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner