আমাদের নীরবতার ইতিহাস - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৮

আমাদের নীরবতার ইতিহাস




একটি যাত্রীবাহী বাস ড্রাইভার, হেলপার এবং কনডাক্টর এই তিনজন দ্বারা পরিচালিত হয়। তাতে যাত্রী থাকে গড়ে ৬০জন. বাসটি প্রতিটা সিগনালে ইচ্ছাকৃতভাবে বাঁকা হয়ে থামে, পেছনের গাড়ির পথ রোধ করে, যানজট সৃষ্টি করে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করে...আপনি সিটে বসে নীরবে বিরক্তি প্রকাশ করেন ...মুখে কোনো কথা বলেন না. অর্থাৎ ৬০জন যাত্রী ৩জন মানুষের কাছে জিম্মি. আপনি ঝামেলা পছন্দ করেন না বলেই নিরব থাকেন..অথচ আপনি খিটখিটে মেজাজ নিয়ে অফিসে পৌঁছাচ্ছেন কিংবা বাসায় ফিরে স্ত্রী সন্তানদের সাথে দূর্বাবহার করছেন..কিন্তু ঐ ৩জন মানুষকে আপনি কিছুই বলছেন না..
এই নীরবতার ইতিহাস আপনার জীবন পরিক্রমায় ঘটেই চলেছে.

পুরান ঢাকাই বিশ্বজিৎকে রড, চাপাতি দিয়ে মারতে মারতে তার সাদা শার্ট রক্তে লাল হয়ে গেল, দুস্কৃতিকারীরা সংখ্যায় হয়তো ৫০জন ছিলো..তারা ঘটনাটি ঘটালো শত শত মানুষের সামনে. আপনি সেই দৃশ্যের ছবি তুললেন, ভিডিও করলেন কিন্তু তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলন না.
আপনি আনন্দ করতে পছন্দ করেন, ঝামেলা করতে নয়...তাই তো আনন্দ উৎসব করার জন্য আপনি চলে যান ১লা বৈশাখে টিএসসি চত্ত্বরে..সেখানে আপনার আনন্দ মিছিলে ছুটে আসে লাখ লাখ মানুষ...সেই লাখো মানুষের ভীড়ে হয়তো ৩০জনের একটা দল আপনার চোখের সামনে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করল, একজন বাবার হাত থেকে তার মেয়েকে টেনে নিয়ে গেল. আপনি সেই অসহায় বাবার চোখের দিকে, তার অসহায়েত্বের দিকে তাকিয়েও কিছু বললেন না..কারণ আপনি ঝামেলায় জড়াতে চান না.
এই ঘটনা টেলিভিশন ও পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হলো আপনি জাতি হিসেবে লজ্জ্বা পেলেন, নীরবতা পালন করলেন..অথচ তার পরেই বছর একই জায়গায় নির্মমভাবে মাত্র তিনজন জঙ্গি খুন করলো অভিজিতকে...তার প্রিয়তমা স্ত্রী সাহায্যের জন্য আকাশ বাতাস চিৎকার করলো...আপনি নীরবে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখলেন....শুধু আপনিই নয়, যে মানুষগুলোকে আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো মানুষের নিরাপত্তার জন্য...তারাও সেই তামাশাই সামিল হলো...
সর্বশেষ গুলশানের বুকে নেমে এলো স্বরণকালের ভয়াবহতা...শুনেছি আপনি নাকি তাতে স্তম্ভিত....
তো মহাশয়, আপনি কি মনে করছেন নীরবে স্তম্ভিত হওয়ার দিন এখনও আছে....? আর কি করলে, আর কি ঘটলে আপনি জেগে উঠবেন....আপনার নীরবতা ভাঙবেন.... ? ...আপনি কি জানেন, আপনার এই নীরবতা ভাঙার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো কিছু দেশ তার বাহিনী প্রস্তুত করছে.. নাকি আপনি হয়তো এটা জেনেও আপনার নীরবতার ধ্যানভঙ্গ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ....আপনার নীরবতায় আমাদের ইতিহাস আরো সমৃদ্ধ হবে হয়তো...তবে আপনি কী হারাতে যাচ্ছেন....সেটা কিন্তু আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে. তবে সেই কল্পনার রাজ্যে যাবার আগে আপনি শুধূ মনে রাখবেন এখনও এই দেশে, এই পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বেশি... সময় এসেছে আপনি সেই জনশক্তির স্বদব্যবহার করুন, নইলে টিভিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে দেখেছেন-- মাত্র একটা বাঘ কিভাবে শত শত মহিষের সামনে একটা একটা মহিষকে কিভাবে ছিবড়ে খায়...আপনাকেও একইভাবে ছিবড়ে খাবে..আর মানুষ থেকে একটা গরু মহিষে পরিণত হবেন !

প্রতিবেদনঃ জহির রায়হান,বিশিষ্ট লেখক ও কবি,বাংলাদেশ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here