হিন্দুরা মূর্তিপূজার মাধ্যমে নিজের ভগবানের সঙ্গে একাত্মতা বোধ করে" -- সাউথ কোরিয়া থেকে ডঃ শুভ্র চক্রবর্তী - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৯

হিন্দুরা মূর্তিপূজার মাধ্যমে নিজের ভগবানের সঙ্গে একাত্মতা বোধ করে" -- সাউথ কোরিয়া থেকে ডঃ শুভ্র চক্রবর্তী

সাউথ কোরিয়া থেকেঃ
বহুদিন ধরেই খ্রিস্টান মিশনারীরা ভাস্কর্য, মূর্তি এইসবের পুজো করতে চায় না [Swami Vivekananda and Non-Hindu Traditions- A universal Advaita by Stephen E. Gregg] উল্টে, ক্যাথলিক চার্চগুলো প্রভু যীশুর মূর্তির উদ্দেশ্যে মদ, রুটি ইত্যাদি প্রদান করে এবং পুজোও করে। এটাই ভাগ্যের বিড়ম্বনা। মূর্তি পুজোর ব্যাপারটা মুলত হিন্দু ধর্মের সাথে জড়িত। আমরা বিশ্বাস করি প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে মূর্তির পুজো করতে হয়। এতে মূর্তির একটা আলাদা রূপের প্রকাশ ঘটে। এখানে একটা বিশেষ ঘটনার উল্লেখ না করে থাকা যাচ্ছে না। ঘটনাটা অনেক আগের। রাজস্থানের অন্তর্গত আলোয়ারের মহারাজা, মঙ্গল সিং ওনার কেন্দ্রে স্বামী বিবেকানন্দকে আমন্ত্রণ করেন।

ওনার সঙ্গে ধর্ম, বিশ্বাস ইত্যাদি নিয়ে কথোপকথনের সময়, উনি স্বামীজি কে জিজ্ঞেস করেন যে এই মাটি, কাঠ বা ধাতু দিয়ে তৈরী মূর্তি পূজা করে কি লাভ হয়। এর মধ্যে তো প্রাণও থাকে না এবং এটা কাউকে আশীর্বাদও করতে পারেনা।এর কোনো মানে হয় না। তাই আমি আমার এই অঞ্চলের মধ্যে এরকম যা যা পাবো, সব ধ্বংস করে ফেলব।

শুনে স্বামী বিবেকানন্দ মহারাজ কে দেয়ালে ঝুলন্ত ওনার মৃত বাবার একটা ছবি আনতে বললেন। উনি আনার পর মহারাজ কে ওই ছবির উপরে থুথু ফেলার জন্য বললেন। উনি আরো বললেন এই ছবি তো রক্ত, মাংস, হাড়বিহীন এবং এতে তো প্রাণও নেই, এটা তো আশীর্বাদও করতে পারেনা। মহারাজার চেহারাটা নিজের অজ্ঞতার জন্য লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। স্বামীজি তখন বললেন, ঠিক একই রকম ভাবে হিন্দুরাও ওই মূর্তির মাধ্যমে নিজের ভগবানের সঙ্গে একাত্মতা বোধ করে।

ঠিক একই রকম ভাবে শিকাগো শহরের ধর্মসভায়ও স্বামীজি বক্তব্য রেখেছিলেনঃ
'কুসংস্কার মানুষের বড় শত্রু. কিন্তু দ্বীচারিতা তো আরো খারাপ. খ্রিস্টান রা গির্জায় কেন যায়? ক্রস ওদের কাছে পবিত্র কেন? প্রার্থনা করার সময় কেন? মুখটা উপরের দিকে করে রাখে? একটা ক্যাথলিক গির্জায় এতো ছবি কেন থাকে? Protestant রা যখন প্রার্থনা করে, ওদের মনের মধ্যে এত ছবি থাকে কেন? মূল কথা হল যে মনের মধ্যে যদি কোন ছবি না থাকে, তাহলে মনে হবে যেন আমরা শ্বাস না ফেলে বেঁচে আছি. মনের অভ্যন্তরের বেঁচে থাকা ধারণাকেই আমরা বস্তু দিয়ে তৈরী প্রতিমার রূপ দান করি আবার তেমনি উল্টোটা ও সত্যি।

( From the ages, Christian missionaries are refusing the worship of sculptures, statues and idols [Swami Vivekananda and Non-Hindu Traditions- A universal Advaita by Stephen E. Gregg], instead irony is, the Catholic Churches worship, offer wine and bread to the statue of Jesus. The veneration of murtis (idol) is based on believe, association and respect for Hindus. We believe murti (symbol of god representation) has life (pran-pratistha) to make it vibrant, I must tell you an incident that happened long back when Mangal Singh (Maharaj of Alwar, Rajasthan) had invited Swami Vivekanada ji in his constituency and during the conversation of religion and faith, he promptly told Swami ji “What is the use of worshiping statue, which is merely made of clay, stone, wood or metal, neither it has life nor it can bless anyone, Its meaningless and I am thinking to destroy it all over in my territory then Swami Vivekananda ji asked Maharaj’s Minister to bring a portrait of his Maharaj Mangal Singh’s deceased father, which was hanging on the wall and requested to bring it down and spit on it, because the portrait doesn’t have bones, flesh, blood and it can’t bless also. Maharaj Mangal Singh was shocked and felt abash for his ignorance. Swami ji explained the same way Hindu people see relate and connect with their God through Murti (Idols) puja. In the same context Swami Vivekanand ji had said very aptly on World Parliament of Religions Chicago: 
“Superstition is a great enemy of man, but bigotry is worse. Why does a Christian go to church? Why is the cross holy? Why is the face turned toward the sky in prayer? Why are there so many images in the Catholic Church? Why are there so many images in the minds of Protestants when they pray? My brethren, we can no more think about anything without a mental image than we can live without breathing. By the law of association, the material image calls up the mental idea and vice versa.”)

লেখকঃ ডঃ শুভ্র চক্রবর্তী,গবেষক, সাউথ কোরিয়া 

বঙ্গানুবাদঃ প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী, ব্যাংক আধিকারিক,ত্রিপুরা
১৪ই জুলাই ২০১৯

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here