এবারও সীমিত আকারে ইলিশ যাচ্ছে ভারতেঃ বাংলাদেশ - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

এবারও সীমিত আকারে ইলিশ যাচ্ছে ভারতেঃ বাংলাদেশ

আবু আলী, ঢাকা, আরশিকথা ॥
এবারও শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসেবে সীমিত আকারে ইলিশ রফতানি হবে ভারতে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবার ইলিশপ্রিয় বাঙালিদের রসনাবিলাসের জন্য কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি। এসব ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশের নয়টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি সংস্থাকে ১৫০-১৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গল ও বুধবারের দিকে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি শুরু হবে। ইতিমধ্যে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা-২ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। গত বছরও শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসেবে ৫০০ টন ইলিশ ভারতে রফতানির অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১ আগস্ট ইলিশসহ সব ধরনের মাছ রফতানি নিষিদ্ধ করে সরকার। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে অনুমতি দেয়া হয়। তবে গত বছর পূজার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির ব্যবস্থা করেছিলেন। তাতে দারুণ খুশি হয়েছিলেন এপার বাংলার ইলিশপ্রিয় বাঙালিরা। এবার রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের ভোক্তারা নিশ্চয়ই আরও বেশি খুশি হবেন। অন্যদিকে ভারতে বাংলাদেশের মিঠা পানির মাছ রফতানি বেড়েছে: ভারতে বাংলাদেশি মিঠা পানির সাদা মাছ রফতানি বেড়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও বেড়েছে দেশে। তবে দাম কম থাকায় ভারতীয় রুই মাছ আমদানি হচ্ছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। সূত্র জানিয়েছে, গত ৩ বছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ২০৫ মার্কিন ডলারের বাংলাদেশি মাছ ভারতে রফতানি হয়েছে। যার পরিমাণ ছিল এক কোটি ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮২ কেজি মাছ। একই সময় ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৯৫ লাখ ৪৭ হাজার ২৯৭ ডলার মূল্যের মাছ। যার পরিমাণ এক কোটি ৩০ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৮ কেজি। বেনাপোলের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতে মাছ রফতানি হয়েছে ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪ কেজি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩০ কেজি এবং গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার আট কেজি মাছ। আর ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ১৬ হাজার ৩২৫ কেজি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৮ কেজি ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৮ লাখ ২৩ হাজার ৯১৫ কেজি। করোনার কারণে গত এপ্রিল ও জুন মাসে বাংলাদেশ থেকে মাছ রফতানি হয়নি। জুলাই মাসে রফতানি হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৯২ কেজি মাছ। যার মূল্য ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪৮০ ডলার। জুন ও জুলাই মাসে আমদানি হয়েছে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৭ কেজি। যার দাম ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৬৭৯ মার্কিন ডলার। গল আগস্ট মাসে রফতানি হয়েছে তিন লাখ আট হাজার ৯৬৬ কেজি মাছ; যার দাম ৭ লাখ ৭২ হাজার ৪১৫ মার্কিন ডলার। একই মাসে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৫ কেজি মাছ। যার দাম ১১ লাখ ৯১ হাজার ৯১৬ মার্কিন ডলার। শার্শা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, ভারত থেকে আমদানি হয় রুই, কাতলা, সামুদ্রিক ও স্বাদু পানির মাছ। আর বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয় পাবদা, গুলশা, টেংরা, পাঙাশ, হিমায়িত চিংড়ি, কার্প, ভেটকিসহ অন্যান্য মাছ। এর মধ্যে পাবদা মাছের চাহিদা বেশি হওয়ায় মোট রফতানি ৪০ শতাংশই পাবদা। পাবদা মাছ বেশি উৎপাদিত হয় যশোর জেলায়। ভারত থেকে যেসব মাছ আমদানি হচ্ছে এগুলো এখন স্থানীয়ভাবেই ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। আমদানি করার প্রয়োজন নেই। আমদানি বন্ধ হলে আমাদের দেশের চাষিরা ব্যাপক লাভবান হতেন। যশোরের শার্শা উপজেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি মাছ উৎপাদন হচ্ছে জানিয়ে আবুল হাসান বলেন, এ উপজেলার ১৫টি বাঁওড়, ২৭১টি ঘের, ১০টি বিল ও ছয় হাজার ৬১৯টি পুকুর মিলে মোট ছয় হাজার ২৩৯ হেক্টর জলাশয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এখানে বছরে ২২ হাজার ৪৮৫ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। কিন্তু স্থানীয় চাহিদা মাত্র সাত হাজার ৫৭২ টন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত মাছ অন্যান্য এলাকায় ও ভারতে রফতানি করা হয়। যশোরের শার্শা উপজেলার মাছ রফতানিকারক আবদুল কুদ্দুস বলেন, ভারতে পাবদা ও কার্প জাতীয় মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা সাধারণত পাবদা, টেংরাসহ অন্যান্য মিঠা পানির মাছ রফতানি করে থাকি।

আরশিকথা
১২ই সেপ্টেম্বর ২০২০

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here