কুম্ভমেলায় শাহী স্নানের পথে-----দ্বিতীয় পর্ব - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

কুম্ভমেলায় শাহী স্নানের পথে-----দ্বিতীয় পর্ব

ক্যালেন্ডার অনুযায়ী উড়ানে চাপার দিন উপস্হিত।ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ গোছানোই ছিল।গত রাতেই গুগুল বলে দিয়েছিল তাপমাত্রা।সেইমত শীতবস্ত্র জাঁকিয়ে নিয়েছিলাম।সকাল সাড়ে নটা।বিমান উড়বে সাড়ে এগারোটায়।চেক ইন সেরে লাউঞ্জে বসে আছি।মনটা ফুরফুরে ।কেননা এবারের যাত্রা অন্যরকম ছিল।উন্মাদনা তুঙ্গে।
সর্ববৃহৎ ধর্মমহাসম্মেলনে উপস্হিত হতে যাচ্ছি যেখানে কোটি লোকের সমাবেশ ঘটবে।সেই ভীড়ে নিজেকে হারাবো,এ শুধু কল্পনা নয়,কল্পনারও অতীত। 
সময় সুমুখে।বোর্ডিং পাস হয়ে গেল।উড়ান প্রথমে কোলকাতার মাটি ছুঁবে এরপর বেনারসের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এয়ারপোর্ট।কোলকাতা বিমান বন্দর থেকে প্রচুর ভিন্ দেশী যাত্রী আরোহণ করলেন।ভাষা পুরোপুরি না ঠাহর করতে পারলেও টুকরো টুকরো কথায় বোঝা যাচ্ছিল,উনারাও আমাদের মতই কুম্ভমেলায় যাচ্ছেন।সবারই চোখমুখ জ্বলজ্বল করছে খুশিতে।অব্যক্ত সেই ভাষা।বিকেল চারটে ।হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্হান বেনারসের মাটিতে পা রাখতেই ছেলের রিং টোন বেজে উঠল।রুটির টান ছিল না,তবে রুজির টান ছিল।ওইটা ওই মূহুর্তে পাক্কা হলো।তীর্থযাত্রাটা ছেলে শুরু করিয়ে দিয়েছিল।ছেলে ভালো খবর দিল যাত্রার শুরুতে ,এর চেয়ে সুখের আর কিছু নেই।ঈশ্বরকে প্রণাম জানিয়ে প্রিপেইডে ভাড়ার বাড়বাড়ন্ত দেখে এয়ারপোর্টের বাইরে হাফ ভাড়ায় সোজা বেনারস ভেলোপোড়া পুলিশ ষ্টেশানের কাছে ভোলাগিরি আশ্রমে নিবাসে।সেখানে দুদিন কাটিয়ে বেনারস পর্ব শেষ করে এবার প্রয়াগে কুম্ভের পথে।
13th jan 2019 সকালে বেনারসের বিখ্যাত পুরি সব্জি সাথে জিলিপি টিফিন হয়ে গেল।কথার ফাঁকে জানলাম ,বেনারসের জিলিপির কথা।এখানে সকালেই সবাই জিলিপি খাবে।বাসী হয়ে যাওয়া জিলিপি কেউ নাকি খায় না।তাই সকালের পর আর জিলিপি পাওয়া যায় না।বেনারস ঘুরতে এলে আর কিছু না হোক জিলিপি খেয়ে যেতে হবে।এমন সুস্বাদূ জিলিপি আমি এ বয়স অব্দি খাই নি।
আশ্রম ছেড়ে বেরিয়ে গেলাম।সকাল সাড়ে আটটা।আমাদের সাথী মহারাজ আচার্য্য মহামন্ডলেশ্বর স্বামী প্রণবাচৈতন্যপুরীজি এবং ব্রহ্মচারী জ্ঞানানন্দ মহারাজ জী।পাড়ি দেব 125 km.পথ।গন্তব্য প্রয়াগরাজ।চলার পথে ইহজগত নিয়ে বিদগ্ধ আলোচনা।এমন সুযোগ আবার হবে কিনা কে জানে।বাইরে আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন।অন্তর জুড়ে যে সংসার আকাশ তাও কুয়াশাচ্ছন্ন,ঝাপসা,ধূসর।মহাত্মাগণের আলোচনা শুনলে এমনই ভাবের উদ্রেক হয়।মনের কুয়াশা দূরীভূত করার চেষ্টা করলেও আবার সেই পঙ্কেই এসে মজে যেতে হবে।তবু চলার পথে যতটুকু পেলাম তাই কুড়ায়ে নিলাম কৃপণের মতো আটকে রেখে চলবো এই ভাবনায়।ঘন্টা তিনেকের পথ হুট করে চলে এলাম।

নামতে হবে যোশী ব্রিজ।গঙ্গার উপর তৈরী।গাড়ী থেকে দেখছিলাম ঢেউ খেলানো সব তাবু বসে আছে গঙ্গা যমুনার দুই পাড় জুড়ে।যেন মায়ের অঞ্চল বিছানো সন্তানদের জন্য।এক অভূতপূর্ণ দৃশ্য।চোখ ঠাহর হবার নয়।এ মনুষ্য সৃষ্ট না ঈশ্বর সৃষ্ট বুঝা মুশকিল।
এবার সাধু মহারাজজীরা আমাদের তাবুতে পৌঁছে দিয়ে উনাদের জন্য নির্দ্দিষ্ট তাবুতে চলে যাবেন।আমাদের ঠিকানা ছিল "সেবাধাম"।পনের নম্বর সেক্টর।পরিচালনায় দয়াল মহারাজ এবং ঋষীকেশ মহারাজ।আমাদের গ্রহণ করলেন ঈশ্বরীয় আপ্যায়নে।তাবুতে ছোট ছোট রুম ভাগ করা হয়েছে পলিথিন সিট দিয়ে ।মাথার উপর ছনের ছাউনি।মাটিতে ছন,পলিথিন সিট।এর উপর জনপ্রতি লেপ,তোষক ও বালিশ।
আহা ----জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা ,সঞ্চয় করে রাখার মত।এত সুন্দর ব্যবস্হাপনা,মনে হয়েছিল অট্টালিকার পোড়া ইট একবারের জন্য হলেও এই কাঁচামাটির প'রে চুমু খেয়ে যাবে।বাঁশ ফাঁলি করে আটকানো।।আকাশের পুরো রং পলিসিট ভেদ ক‍রে আমরা যারা ছিলাম তাদের ছুঁয়ে দিয়ে যেত দিনের চার প্রহর।সেই রং এ কাউকে অবিকল চেনার উপায় ছিল না।প্রথমে সঙ্গী ছিলাম আমরা দুজন দুজনার।তারপর একে একে সঙ্গীর বহর বেড়ে গেল।বার জনাতে একটা রুমে আমরা বৃহৎ পরিবার।কোলকাতার কোন্নগরের মূখার্জি দম্পতি ও সাহা দম্পতি।সাথে আগরতলা জয়নগর নিবাসী রায় সাহেব ও উনার ছেলে ভাইপো।মূর্শিদাবাদ থেকে আগত আরো তিনজন।পুরো তাবু জুড়ে লোকে লোকারণ্য।সবার উদ্দেশ্য মকর সংক্রান্তির পূণ্য প্রভাতে শাহি স্নান।

তাবুতে ঢুকেই ফ্রেশ হয়ে চা টিফিন নিয়ে একটু এলাহাবাদ ঘুরে আসা।কারণ পরের দিন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে ভ্রমনার্থীদের কথা ভেবে -------- 

(ক্রমশঃ)

রীণা দাশ, শিক্ষিকা
ত্রিপুরা

১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ইং 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner