সিনেমার ইতিহাসে সৃষ্টির স্বীকৃতি স্বরূপ NATIONAL AWARD পেয়েছিলেন ত্রিপুরার অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

সিনেমার ইতিহাসে সৃষ্টির স্বীকৃতি স্বরূপ NATIONAL AWARD পেয়েছিলেন ত্রিপুরার অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য

আরশিকথা বিশ্বাস করে প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কিছু শ্রেষ্ঠ ভাবনা থাকে।এক জীবনে কেউ তা প্রকাশ করার সুযোগ পায় আবার অনেকেরই অপ্রকাশিত থেকে যায়।আবার এমনও আছে যে প্রকাশ করার সুযোগ পেলেও নানা পরিস্থিতি কিংবা বাস্তবতার চাপে সেই ভাবনাকে নিয়ে বেশিদূর এগোনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
ত্রিপুরা রাজ্যের মাটিতে জন্ম নিয়েছেন অনেক প্রতিভাধর ব্যক্তিত্বরা।বর্তমান সময়েও প্রতিভার বিচারে এই রাজ্য কারোর থেকে পিছিয়ে নেই তার বহু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সবার কাছেই রয়েছে।আরশিকথা এক দায়বদ্ধতায় বিশ্বের দরবারে সেইসব উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে বদ্ধ পরিকর।জন্মলগ্ন থেকেই 'আরশিকথা হাইলাইট' বিভাগে আমরা সেইসব প্রতিভাধর এবং তাদের সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরছি।
আজ যার কথা আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবো তিনি হলেন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য।জন্মস্থান উত্তর ত্রিপুরার প্রসিদ্ধ শহর ধর্মনগর।গতানুগতিক জীবনধারার বৈপরীত্যে থাকা অর্ধেন্দুবাবু যৌবনের সূচনা থেকেই তার ভেতরের শ্রেষ্ঠ ভাবনাকে আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন।সেই ভাবনার বহিঃপ্রকাশের অস্থিরতাই একদিন তাঁকে তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।সিনেমা তৈরি করার নেশায় নানা অপ্রতুলতা থাকা সত্ত্বেও জীবনে অনেক ঝুঁকি নিয়ে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের সোনার সন্তান তথা গর্ব স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য

 

যাকে সিনেমার ইতিহাসে অসামান্য সৃষ্টির তথা প্রথম 'Khasi Eastmancolor Film ' তৈরি করার স্বীকৃতি স্বরূপ ' NATIONAL AWARD ' প্রদান করেন ভারতের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ তথা ৭ম রাষ্ট্রপতি  জ্ঞানী জৈল সিং।

এই সম্মানিত চলচ্চিত্রকারের সম্বন্ধে যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করা গেছে তার থেকে জানা আরও জানা যায় যে শান্তিনিকেতনের শিক্ষাকালের সময় অর্ধেন্দুবাবুর নিকটবন্ধু ছিলেন প্রবাদপ্রতিম অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় মহাশয়ের সুযোগ্য সন্তান তথা স্বনামধন্য চলচ্চিত্রকার সন্দীপ রায়।জানা যায় ওইসময় শান্তিনিকেতনের এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ' গুপী গাইন বাঘা বাইন ' নাটকে সন্দীপ রায় এর সহ-অভিনেতা হিসেবে বিখ্যাত ' গুপী ' চরিত্রে অভিনয় করে অনেক সুনাম অর্জন করেছিলেন অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য।এছাড়া তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন হলিউডের জনপ্রিয় বংশীবাদক কাজু মাৎসুই।জাপানের খ্যাতনামা এই ব্যক্তিত্ব একদা শান্তিনিকেতনের অতিথি বক্তা ছিলেন।টোকিও থেকেই তাঁর হাতে ছিলো বাঁশের তৈরি ' শাকু হাচি ' - আমরা যাকে বাঁশি বলি অনেকটা তাই।তবে চেহারাটা একটু মোটাসোটা আর তাতে ফুটো থাকে সাতটি,আটটি নয়।এই বাঁশিটি দিয়েই হলিউডের অনেক সুরকারকেই কাৎ করে দিয়েছেন কাজু মাৎসুই।প্রসঙ্গত,তাঁর ' শাকু হাচি ' তৎকালীন সময়ে হলিউডি সঙ্গীতের একটি বড় উপাদান ছিলো।শোগান,সাদার্ন কমফোর্ট,আইসম্যান,স্ট্রিট অফ ফায়ার,আনকমন ব্যালাড ইত্যাদি ছবিতে বাঁশির সুরে দর্শকের মন জয় করেছেন কাজু।

অর্ধেন্দুবাবুর খাসি ভাষায় প্রথম কাহিনী চিত্র ' মানিক রহিতং ' -এ বিখ্যাত হলিউড বংশীবাদক কাজু মাৎসুই বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ছবির সুর করেছিলেন।সেই সময় ( ২ মার্চ,১৯৮৪) যুগান্তর পত্রিকার প্রতিবেদককে এক সাক্ষাৎকারে সবিস্তারে অর্ধেন্দুবাবু জানান যে তাঁর ছবির নায়ক 'মানিক' মেঘালয়ের একজন গরীব বাঁশিবাজিয়ে।মেঘালয়ের বাঁশিতেও থাকে সাতটি ফুটো।যে ধরনের ফোক এলিমেন্ট কাজু মাৎসুই এর বাঁশির জাদুতে আছে তাতে ' মানিক রহিতং ' সিনেমায় তাঁর বাঁশি ব্যবহার করলে দর্শকের মন জয় করতে পারবে ছবিটি।
' মানিক রহিতং ' ছবিটি গড়ে উঠেছিলো প্রাচীন একটি লোকগাঁথার রূপকথাকে কেন্দ্র করে।খাসিয়া জাতির মানুষ,সংস্কৃতি আর দেশের মাটির সুখদুঃখ হাসিকান্নাকে সকলের সামনে উপস্থিত করার মূল লক্ষ্যে তৈরি হয়েছিলো ' মানিক রহিতং '। ছবিতে জাপান ও মেঘালয় এক বিন্দুতে পরিলক্ষিত হয়েছিলো। সেইসময় আজকাল পত্রিকায় (১০ ফেব্রুয়ারি,১৯৮৪) এই ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে খুব সুন্দর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিলো।
এছাড়া বলিউডের প্রখ্যাত প্রযোজক তথা নির্দেশক জি পি সিপ্পি সাহেবও ত্রিপুরা রাজ্যের কৃতি সন্তান তথা চলচ্চিত্রকার অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য এর ভূয়সী প্রশংসা করে এই ছবির বিষয়ে মুল্যবান মতামত ব্যক্ত করেন।
জানা যায়  জীবৎকালে বহু খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে এসেছিলেন অর্ধেন্দুবাবু।জীবনের মূল্যবান সময়ে স্বপ্ন সাকার করতে এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত কলকাতায় চলে এসেছিলেন তারপর থেকে জীবনের বেশীরভাগ সময় সেখানেই কাটিয়েছিলেন।এছাড়া জানা যায় ছবির কাজ নিয়ে তাকে গৌহাটিতেও অনেকটা সময় থাকতে হতো। জীবনের শেষ মুহূর্তেও সেখানেই ছিলেন তিনি।

আসামের একটি ঐতিহাসিক ফিল্ম  "ILLUSTRATED MANUSCRIPT OF ASSAM " নিয়ে অনেকদিন ধরেই তাঁর কাজ চলছিলো। ১৯৯১ সালে গৌহাটিতে সেই কমব্যস্ততার মধ্যেই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক তথা ত্রিপুরা রাজ্যের গর্ব অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য।
এই খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের সম্পর্কে যতটুকুই তথ্য আমরা যার সহায়তায় সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি পরিশেষে তার কথা না বললে গোটা বিষয়টা হয়তো অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।তিনি হলেন বাংলা সিনেমার ইতিহাসে ব্যতিক্রমী ছবি ' মোহর ' এর পরিচালক তথা প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য এর আপন ভাগ্নে সপ্তক চ্যাটার্জি।
এছাড়াও আমাদের পরম সৌভাগ্য যে তিনি আরশিকথা'র প্রধান উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম একজন।আরশিকথা'র নানা ভিডিও প্রোজেক্টের অন্যতম একজন নির্দেশক।আগামীদিনে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী প্রোজেক্টে তিনি আমাদের সহায়তা করছেনবর্তমানে তিনি কর্মসূত্রে কলকাতায় অবস্থান করছেন।তার দেওয়া তথ্যেই আমরা জানতে পারি যে ত্রিপুরা রাজ্যের এই কৃতি সন্তানকে সম্মান জানাতে ত্রিপুরা বিধানসভার মাননীয় ডেপুটি স্পিকার তথা বর্তমান বিজেপি সরকারের বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন মহাশয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং ব্যবস্থাপনায় ধর্মনগরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন টাউন হলটির নতুন নামকরণ করা হচ্ছে ' অর্ধেন্দু স্মৃতি ভবন '।

আরশিকথা'র তরফেও রাজ্যের গর্ব তথা দেশের স্বনামধন্য এই চলচ্চিত্র পরিচালক অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য এর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়ে গেছে।পরিশেষে আরশিকথা পরিবারের পক্ষ থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের গর্ব তথা চলচ্চিত্র পরিচালক অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য এর প্রতি অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা জানাই।।

প্রধান সম্পাদকের কলমে   

১০ই জুন ২০২০
                 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner