ইমক্যাবের সেমিনারঃ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়: তথ্য মন্ত্রী, বাংলাদেশ-ভারতের মানুষের আকাঙ্খার জায়গা এক: দোরাইস্বামী - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

ইমক্যাবের সেমিনারঃ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়: তথ্য মন্ত্রী, বাংলাদেশ-ভারতের মানুষের আকাঙ্খার জায়গা এক: দোরাইস্বামী

আবু আলী, ঢাকা, আরশিকথা ॥

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচন এলে বিএনপি ও কিছু দল ভারত বিরোধিতাকে সামনে এনে প্রচারণা চালায়। যাদের সহযোগিতা ছাড়া এ দেশের স্বাধীনতা সম্ভব ছিল না, তাদের বিরোধিতা করে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বৈরিতা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়, একথা তারা বুঝেও বোঝেন না। আবার বুঝলেও রাজনীতির স্বার্থে অপরাজনীতি করেন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস কাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকদের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্কের উপর জোর দিয়ে বলেন, পরস্পরের সন্দেহ ও সংশয় দূরে রেখে একসঙ্গে চলার মধ্য দিয়ে দুই দেশই সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে। তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক টেকসই হওয়ার মূলনীতি ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে আছে। এখন আমাদের উচিৎ সন্দেহ ও সংশয় দূরে কাজ করা। কারণ সন্দেহ ও অবিশ্বাসের কোনো জায়গা এখানে নেই।

বাংলাদেশে কর্মরত ভারতের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সংগঠন ‘ইমক্যাব’ সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে  সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন তথ্য উপদেষ্টা ও অবজারভার’ সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসকাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ। বিষয়বস্তুর ওপর মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করবেন সিনিয়র সাংবাদিক ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব। 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো খবর প্রচার করা উচিত না, যাতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার কারণে ১৯৭৪ সালে ভারতের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তির কারণে আমরা ভারতের কাছ থেকে আমাদের ছিটমহলের অধিকার ফিরে পেয়েছি। অথচ এ চুক্তি নিয়ে একটি মহল বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে ভারতের সহযোগিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত করতে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের জেল থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বব্যাপী জনমত গঠন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে যেন ফাঁসি দেওয়া না হয়, সেজন্য ৩০টির মতো দেশ সফর করেছিলেন তিনি। 

ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, পৃথিবী খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পারস্পরিক সহযোগিতার েেত্র আমরা যত দ্রুত এগোতে পারব, তত দ্রুতই আমরা একসঙ্গে সমৃদ্ধি লাভ করতে পারব। দুই দেশের সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করে দোরাইস্বামী বলেন, আমি দেখেছি, সহযোগিতা বাড়লে উন্নতিও বাড়ে। সুতরাং আমার জন্য যেটা ভালো নয়, সেটা আপনার জন্য ভালো হবে না এবং আপনার জন্য যেটা ভালো নয়, সেটা আমার জন্য ভালো হবে না। আমরা যদি এটা অনুসরণ করি, তাহলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করা হবে। 

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যেমন বৃদ্ধি হয়েছে, তেমনি সে সম্পর্ক ধ্বংসেরও চেষ্টা হয়েছে। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট করেছেন। প্রতিবেশীদের মধ্যে নানা সমস্যা থাকে। সে সমস্যা আন্তরিকতার সঙ্গে সমাধান করতে হবে।  

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন সবচেয়ে উচ্চমাত্রায়। তবে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। কিছু বিষয়ে এখনও অমীমাংসিত। তিস্তা চুক্তি নিয়ে হতাশা রয়েছে। 

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রথম ভারত সফরে গিয়ে ইন্দিয়া গান্ধীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তার সৈন্যদের প্রত্যাহার করেছিলেন। এটি ছিলো কূটনৈতিক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রমাণ। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের মর‌্যাদার, শ্রদ্ধার ও সম্মানের সম্পর্ক। এটিই আমাদের পথরেখা। এগিয়ে যাওয়ার জায়গা।


আরশিকথা বাংলাদেশ সংবাদ

২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০২১

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner