অন্তর্দাহ..... আগরতলা থেকে সসীম আচার্য এর ছোট গল্প - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১

অন্তর্দাহ..... আগরতলা থেকে সসীম আচার্য এর ছোট গল্প

অন্তর্দাহ.....


শ্রাবণের যৌবনাবতী বর্ষা  বাইরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । মাতাল হাওয়ায় একে অপরের গায়ে ঢলে ঢলে পড়ছে বাগানের গাছগুলো।  শ্রাবণের ধারা তাদের করেছে  লজ্জাহীন- অনাবৃত। 

           বর্ষা ভীষন প্রিয় শান্তার। তার ভাললাগা- ভালবাসার দিন বলেই হয়তো বাঁধন- হারা শ্রাবণ ধারা  মহাশূন্যের ওপার থেকে তপ্ত পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ছে বিরামহীন ভাবে। সকাল সকাল স্নান সেরে এলো চুলে শান্তা এসে দাঁড়ায় খোলা জানলায়। হাত বাড়িয়ে বৃষ্টিকে ছোঁয়। এক মুঠো জল ছিটিয়ে দেয় মাথায়- মুখে। চোখ বন্ধ করে বলে- "এসেছে বরষা ওগো নব- অনুরাগিণী, ওগো প্রিয়সুখভাগিনী" । বর্ষা তুমি যেও না, তুমি থাকো আজ আমার দুয়ারে, আমাকে তৃপ্ত করো- মুছে দাও সব গ্লানি !!

            হঠাৎ যেন কলিং বেলটা বেজে উঠল! এই ঘন বর্ষায় কে এলো? শান্তা ছুটে যায় দরজায় -- কৈ কেউ নেই তো? পিয়া কি চলে এলো? দুষ্টুমি করছে তার সঙ্গে ? পিয়া- পিয়া , না পিয়ার তো বিকেলের আগে আসার পারমিশন মেলেনি - তবে? এদিক ওদিক তাকায়- ঠিক শুনেছে তো সে? বেলটা বেজেছিল? "মা" - পিয়া গুটি গুটি পায়ে সামনে এসে দাঁড়ায়। "একি পিয়া এই ভরা বর্ষায় তোর বাবা তোকে এখুনি ছেড়ে দিল!" টেবিলে রাখা পিয়ার ছবিটা যেন খিল খিল হেসে বলে "মা তুমি না----"। সম্বিৎ ফেরে শান্তার। পিয়ার ছবির সামনে এসে দাঁড়ায় । গত রাতেই পিয়ার ছবিটা টেবিলে সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে। পিয়ার পছন্দের ড্রেস- জন্মদিনের কেক্ সাজার জিনিস সব কিনে পিয়ার ছবির সামনে সাজিয়ে রেখেছে। পিয়ার উনিশ তম জন্মদিনটা মা-মেয়েতে নিবিড় ভাবে পালন করবে আজ। প্রায় দুমাস পর মাত্র আজকের রাতটি শান্তার কাছে থাকার পারমিশন মিলেছে পিয়ার। এক এক বার শান্তার ইচ্ছে করে নীলকে ফোন করে বলে - "নীল, পিয়া কি শুধু তোমার? আমার কাছে এসে থাকবে , এই জন্য তোমার পারমিশন লাগবে কেন?  প্লিজ নীল এতো নিষ্ঠুর হয়ো না!" কিন্তু পারেনা শান্তা। দু- একবার যে মোবাইল হাতে নেয়নি তা নয়, কিন্তু মোবাইল হাতে নিলেই এক রাশ ইগো তার ইচ্ছেটাকে দমিয়ে দিয়েছে। গুনে গুনে প্রায় বারোটি বছরের বিচ্ছেদ। পাশাপাশি দুটি বিল্ডিং এ দুজনের অফিস- কিন্তু  এই বারো বছর এই ইগোই যেন তাদের কে ঠেলে দিয়েছে পূবে-পশ্চিমে। অথচ পাশাপাশি এই অফিস দুটোই একসময় দুজনকে কাছে টেনে এনেছিল- শেষে প্রেম- তারপর বিয়ে।পাঁচ বছরের প্রেমে যত দিন গেছে সম্পর্কে এসেছে  গভীরতা। স্বপ্নের মাধুরী তাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে অসীম অনন্তে! মধুমাখা এই দিনগুলোতে দুজনের মধ্যে যে রাগ- অনুরাগ-বিরহ - বেদনার বেসুরো হাওয়া বয়নি তা নয়, কিন্তু তা ছিল সাময়িক, পরক্ষনেই আরো গভীর ভাবে একে অপরকে কাছে টেনে নিয়েছে। 

             ছোট থেকেই শান্তার গান- নাটক- আবৃত্তি এসবের প্রতি ঝোঁক ছিল প্রচন্ড। বাবার হাতে গড়া শান্তা ছোট থেকেই মঞ্চে উঠতে অভ্যস্ত । পেয়েছে বহু পুরস্কার - সন্মান - হাততালি। জীবনের স্বপ্নগুলি অঙ্কুরিত হয়েছে এই মঞ্চকে ঘিরেই। পরিচয়ের পর থেকে নীল'ই ছিল শান্তার যেকোন অনুষ্ঠানের প্রথম প্রশংসক। শান্তার গর্বে গর্বিত নীল প্রশংসার মালায় তাকে অলংকৃত করত। সবার হাততালি প্রশংসা ছাপিয়ে নীলের প্রশংসাই শান্তাকে উদ্দীপ্ত করতো। বিয়ের পরের বছরই পিয়া কোলে অাসে। পিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে স্বপ্নের সিঁড়িগুলি বাইতে শুরু করে নীল ও শান্তা। শরতের নীল আকাশের শুভ্র ছেঁড়া তুলোর মতো সংসারের টুকরো টুকরো অশান্তি গুলো ভেসে গেছে পিয়াকে কেন্দ্র করেই। দেখতে দেখতে কেটে যায় মিষ্টি মধুর কয়েকটি বছর। কিন্তু হঠাৎ যেন কিছু কালো মেঘ জমতে শুরু করে,  কাল বৈশাখীর দমকা হাওয়া এলো মেলো করে দিতে থাকে নীল-শান্তার সুখের নীড়। হঠাৎ যেন নীল ক্রমশ অসহিষ্ণু হতে থাকে। শান্তা বুঝতে চেষ্ঠা করে নীলের এই পরিবর্তনের কারন কি? শেষে একদিন থাকতে না পেরে শান্তা নীলের কাছে 

কারণ জানতে চায়। নীল যেন অনেকদিন ধরেই শান্তার এই প্রশ্নটার অপেক্ষাতেই ছিল। সে মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ধীরে ধীরে নিজেকে সংযত রেখে বলে-- "শান্তা ছোট থেকেই অনেক নাটক- কবিতা পাঠ করেছো, অনেক হাতেতালি প্রশংসাও কুড়িয়েছো- এবার  এসব বন্ধ করো । পিয়া বড়ো হচ্ছে, প্রকৃত মা এর দায়ীত্ব পালন করো।" পিয়া তখন হাঁটার পাঠ চুকিয়ে দৌড়তে শিখে গেছে। অফিস ফেরত নীলের মুখে অাচমকা এই কথাগুলো শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল না শান্তা। অবশ্য কিছুদিন থেকে নীলের হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়ায় শান্তার মন   ঝড়ের একটা পূর্বাভাস পাচ্ছিল। কিন্তু ঝড়টা যে তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়গুলো নিয়ে তা সে কল্পনাও করতে পারেনি। শান্তা কয়েক মুহুর্ত যেন পাথর হয়ে যায়। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে না পেরে নীলকে কথাটা রিপিট করতে বলে। নীল এবার একটু ঝাঁঝ মেশানো গলায় কথাগুলো রিপিট করে।নীলকে যেন মুহুর্তে খুব অচেনা ঠেকছিল শান্তার। তবু নিজেকে সংযত রেখে শান্তা ধীরে ধীরে বলে-- "অামি তো চাকুরি-সংসার-পিয়া সব সামলে মঞ্চে যাই নীল। তোমাকে তো এই গুলি নিয়ে তো ভাবতে হয়না! তাহলে তোমার আপত্তি কিসে?" নীল এবার সরাসরি বলে - "অামি চাইনা তোমার মঞ্চের রোগ গুলোকে দেখে দেখে পিয়া বড়ো হোক। "রোগ!! কি বল্লে তুমি গান বাজনা নাটক এগুলি অামার রোগ?" নীলের কথায় শান্তা বাক্ রুদ্ধ হয়ে যায়!! নিজেকে কি ভাবে সামলাবে বুঝতে পারে না। একটু ধাতস্থ হয়ে বলে- "নীল যে গুলোকে তুমি রোগ বলছো এই গুলি আমার রক্তে মিশে আছে , ছোট বেলায় এই গুলি শিখতে গিয়ে বাবা আর শিক্ষকের অনেক বকুনি খেতে হয়েছে, আর তুমি বলছো-----প্লিজ নীল এই সব আমাকে ছাড়তে বোল না, অামি পাগল হয়ে যাব--। তুমি দেখো আমি ঘর সংসার পিয়া সব সামলে নেব, তোমাকে ওসব নিয়ে ভাবতে হবেনা"। শান্তার কথায় নীল কিছু  বলে না, কিন্তু দিন দিন তার আচরণ ক্রমশ কঠিন হতে থাকে। শান্তাও মঞ্চ ছাড়তে পারেনি। ঘরের দম বন্ধ করা পরিবেশে প্রেম ভালবাসা স্বপ্ন সব কিছু যেন উধাও হয়ে যায়! শেষে কখনো কখনো অসহিষ্ণু নীলের হাত উঠতে থাকে শান্তার গায়ে। তুমুল ঝড়ে লন্ড ভন্ড হয়ে যায় নীল- শান্তার ছোট্ট সংসার! শেষে একদিন এক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে শান্তা পেল নীলের বিষ মাখানো তীর-- "তোমার জগৎ নিয়ে তুমি থাকো শান্তা। আমি অার মানিয়ে নিতে পারছিনা, তাই পিয়াকে নিয়ে চল্লাম , অামাদের কাছে আসার চেষ্টা করোনা। তবে মা হিসেবে পিয়াকে তুমি মাঝে মাঝে ফোনে পাবে।"  তিন তিনটি রাত ঘুমাতে পারেনি শান্তা। কখনো মনে হয়েছে নীলের কথামতো সব ছেড়ে ফিরে যাবে নীলের কাছে।পরক্ষনেই তার অন্য মন তাকে আঁকড়ে ধরে বলেছে- ' শান্তা তোমার যশ খ্যাতি সন্মান তোমার নিজের অর্জিত । ছোটবেলা থেকে তিলে তিলে অর্জন করেছ।  তোমার প্রিয় দর্শকরা তোমাকে মঞ্চে দেখতে চায়, তুমি তাদের ফেলে কোথায় যাবে? শুধুই ঘর সংসার তোমার জীবন হতে পারেনা'। মাঝে মাঝে পিয়া মোবাইলে কান্নাকাটি করতো, কাঁদতো শান্তাও, কিন্তু নীল দুজনের ইচ্ছাকেই দমিয়ে দিয়েছে। এই ভাবেই কেটে যেতে থাকে মাস- বছর। পিয়া বড় হতে থাকে । জেদের বশে শান্তাও আঁকড়ে ধরে মঞ্চকে। পিয়া দেখতে দেখতে এখন কলেজ পড়ুয়া। একাই চলে আসতে পারে মা'র কাছে, কিন্তু বাবার সন্মতি পেলে তবে। মাঝে মাঝে শান্তার আবদার পিয়া হয়ে নীলের কাছে পৌঁছলেও পিয়ার পারমিশন মেলেনা। অবশ্য প্রতিটা জন্মদিনই পিয়া মা'র কাছে থাকার অনুমতি পেয়ে এসেছে। আজো আসবে- তবে বিকেল চারটার আগে পারমিশন মেলেনি। শান্তা অার পিয়া এতেই খুশি। বিশেষ দিন, তাই শান্তা ভোরে ঘুম থেকে ওঠে স্নান সেরে ঠাকুর ঘরে ঢুকে পরে। পিয়ার লাড্ডু খুব পছন্দ , তাই আজ ঠাকুরের কাছে লাড্ডুই চড়িয়েছে শান্তা, আর সব সময়ের মতো আজও একটাই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছে, পিয়ার সংসারটা যেন তার মতো না হয়। পিয়া যেন স্বামী সংসার নিয়ে সুন্দর একটি জীবন কাটাতে পারে। পিয়া চারটার পর আসবে , তাই রান্নায় ব্যস্ত হয়ে পরে শান্তা। পিয়ার পছন্দের সব জিনিস অাজ রান্না করছে শান্তা- কষা মাংস, চিংড়ির মালাইকারী, লুচি পায়েস। কাজের ফাঁকে ফাঁকে জানলায় দাঁড়িয়ে বাইরের বৃষ্টিকে ছুঁয়ে যায় আর ঘড়ির দিকে তাকায় , অার কত টুকু সময় বাকি! ঘড়িটা যেন আজ অলস ভাবে ঘুরছে।  এক সময় তার রান্নাও শেষ হয়ে যায়। সময় যত এগিয়ে অাসছে শান্তার মন তত অশান্ত হয়ে উঠতে  থাকে। সব খাবার টেবিলে সাজিয়ে রাখে। পিয়ার আবদার - মা যেন সব সময় সেজে গুজে থাকে। তাই রান্না সেরে হাত মুখ ধুয়ে শান্তা এবার বসে আয়নার সামনে। পিয়ার মন মতো শৃঙ্গার করতে হবে। 

            সকাল থেকে অশ্রান্ত ধারার  পর বৃষ্টি যেন এখন ক্লান্ত। ঢিমে তালে চলছে। পিয়ার জন্মদিন বলেই আজ অফিসে যায়নি শান্তা, ছুটি নিয়েছে। কখন দুপুর গড়িয়ে গেছে -- মনে মনে ভাবে নীলটা যেন কেমন হয়ে গেছে, মেয়েটাকে তো দুপুরেও পাঠাতে পারতো! না হয় একটু সময় বেশিই থাকল পিয়া তার মা'র কাছে? হায়রে পুরুষ কবে তোমরা চিন্তা চেতনায় উদার হবে? মেয়েদের দাবিয়ে রাখতে পারলেই তোমাদের উল্লাস, তোমাদের তৃপ্তি!মাঝে মাঝে পুরুষ জাতিটার উপর শান্তার খুব হিংসা হয়। দেয়ালের ঘড়িটা ঢং ঢং করে জানিয়ে দেয় বিকাল চারটা বেজে গেছে। শান্তা এবার আর শান্ত থাকতে পারেনা। দরজা খুলে বারান্দায় এসে বসে।  বৃষ্টি অনেকটাই কমে এসেছে, কমে এসেছে বাতাসের উশৃঙ্খলতা। ঝির- ঝিরে বৃষ্টিতে পিয়ার আসতে অসুবিধা হবে না। কিন্তু এখনো----হয়তো রওয়ানা দিয়ে দিয়েছে! অটো করেই অাসে, কিন্তু অটো পাবে তো! শান্তার অস্থিরতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। সাড়ে চারটা গড়িয়ে প্রায় পাঁচটা, টেনশনে শান্তা সারা ঘরময় পায়চারি করতে থাকে। গেটে কিসের যেন খট্ করে একটা শব্দ হয়। শান্তা বারান্দায় ছুটে যায়- বৃষ্টিতে ভিজে একটি কুকুর গেটে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যায়, হয়তো আশ্রয় পেতে এসেছিল! কিন্তু পিয়ার কি হলো? এবার মা'র মন কু গাইতে শুরু করে। পথে কিছু হয়নি তো? ঘরিতে প্রায় পাঁচটা। শান্তা অার নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা। ঘরে এসে মোবাইটা হাতে নেয়। পিয়াকে ফোন করলেও নীল' ই ধরবে, ধরুক। পিয়ার মোবাইলে রিং হতে থাকে, কিছুক্ষণ  পর লাইনটা কেটে যায়। আবার রিং করে শান্তা। রিং হতে থাকে, মনের মধ্যে এক অজানা শংকা দানা বাঁধতে থাকে, কি ব্যাপার নীল পিয়া কেউতো ফোন ধরছে না!বাইরের ঝড়  এবার যেন শান্তার মনে আছড়ে পরে। কোন অঘটন ঘটেনি তো? না, এবার নীলের মোবাইলে ফোন করে শান্তা- কিছুক্ষণ রিং হয়, অবশেষে নীল ফোন ধরে - "বার বার রিং করছো কেন? পিয়া আজ আসবে না। " শান্তার উপর যেন বজ্রাঘাত হয়। শান্তা প্রায় চিৎকার করে ওঠে - "আসবে না মানে? আজ তার জন্মদিন--"শান্তাকে থামিয়ে দেয় নীল- "হে জানি জন্মদিন আজ, কিন্তু  কলেজ থেকে আসার সময় সামান্য ভিজেছে, তার নাকি প্রচন্ড মাথা ধরেছে- শুয়ে পড়েছে। এখন ডাকা যাবে না" । শান্তার গলা কেঁপে ওঠে - "কি বলছো তুমি? আচ্ছা পিয়াকে মোবাইলটা দাও - আমি কথা বলবো"। নীল - "কেন  বিরক্ত করছো, বলছি পিয়া অসুস্থ , এখন ডাকা যাবে না"। শান্তা আরো ভেঙে পড়ে - " প্লিজ নীল ও কে ডেকে দাও, কিচ্ছু হবে না, আমি দুটো কথা বলবো ওর সঙ্গে প্লিজ ---" । ও পাশে নীল লাইন কেটে দেয়। শান্তা আবার রিং করে, কিন্তু ততক্ষণে  সুইচ্ অফ্। পিয়া নীল দুজনের মোবাইল'ই অফ্ করে দেয় নীল।

           শান্তার পৃথিবীটা যেন মুহুর্তে দু-টুকরো হয়ে যায়। হাত থেকে মোবাইলটা ছিটকে পড়ে। চোখে যেন সব ঝাঁপসা এলো মেলো দেখছে সে। সারা শরীরে  কে যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে! নিজেকে সামলাতে পারছে না । কোন ক্রমে দেয়ালে ধরে চেয়ারটাতে বসে। একবার ভাবে চলে যাবে পিয়ার কাছে? কিন্তু নীল যদি মুখের উপর দরজাটা বন্ধ করে দেয়! চোখ বন্ধ করে নিজেকে ধাতস্থ করার চেষ্টা করে শান্তা। সন্ধ্যার মুখে বাইরের ঝড় বৃষ্টিটা হঠাৎ বেড়ে যায়। চারদিক অন্ধকার করে আবার ঝপ্ ঝপিয়ে বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে , সঙ্গে বাতাসের মাতলামী। শান্তার চোখ দিয়ে জলের ধারা বইছে। ইচ্ছে হচ্ছে চীৎকার করে কাঁদতে। শান্তা ধীরে ধীরে বাইরে বৃষ্টির মধ্যে এসে দাঁড়ায় ।দুহাত আকাশের দিকে ছুঁড়ে  শ্রাবণের ধারায় নিজেকে  উৎসর্গ করে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে - "দাও জোড়ে- আরো জোড়ে , আমার পিয়াকে আজ অসুস্থ করিয়ে দুরে সরিয়ে দিয়েছো- আমাকেও শেষ করে দাও- ভাসিয়ে নিয়ে যাও আমাকে এই জঞ্জাল পৃথিবী থেকে অনেক দুরে - আর যেন আমাকে কারো জন্য অপেক্ষা করতে না হয়"---- বজ্রপাতের ঝলক- কান ফাটানো শব্দ, বৃষ্টির প্রবল উচ্ছ্বাস আর বাতাসের হিংস্র উল্লাসে শান্তার কান্না হারিয়ে যায়!


সসীম আচার্য,আগরতলা

১৮ই এপ্রিল ২০২১


 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner