নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ভারতের মহাকাশ
গবেষণায় গত কয়েক বছরে কেন্দ্র সরকারের একাধিক নীতিগত সংস্কারের কারণে ছবিটা
বদলাতে শুরু করেছে। মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার জন্য দরজা খুলে
দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি ‘স্পেস স্টার্টআপ’ ইকোসিস্টেম।
এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ হল স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-এর তৈরি বিক্রম-১। এটি
ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে তৈরি অরবিটাল রকেট। যা ‘মিশন আগমন’-এর অধীনে শনিবার
বেলা ১২টা নাগাদ শ্রীহরিকোটার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মহাকাশে পাড়ি দেয়। এদিন এই
ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষ্মী থাকে গোটা
দেশ। সরকারের দাবি, এটি শুধু রকেট উৎক্ষেপণ নয়, বরং ভারতের মহাকাশ শিল্পে
সংস্কারের বাস্তব সাফল্যের প্রতিফলন।এদিন যখন ‘বিক্রম-১’ আকাশে উঠে গেল,
তখন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হল। বহু বছরের কারিগরি প্রচেষ্টা,
পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনী প্রয়াসের এক চূড়ান্ত মুহূর্ত যেন জন্ম নিল তখন। যে
মুহূর্তটি মহাকাশ পরিবহণের ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিতে পারে। উল্লেখ্য,
স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট বিক্রম-১।
অত্যাধুনিক লিকুইড ইঞ্জিন ও কঠিন-জ্বালানি বুস্টারের মিশেলে তৈরি এই রকেট ঘিরে
প্রত্যাশা তুঙ্গে। প্রসঙ্গত, এই মিশনে মহাকাশে পাঠানো হবে
এমব্রেস নামের একটি রোবোটিক আর্মও। সেই সঙ্গেই এখানে থাকবে ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি
একটি ক্ষুদ্র রকেট। যে রকেটে ভারতীয় বিজ্ঞান চর্চার কিংবদন্তি মুখ বিক্রম সারাভাই,
এপিজে আবদুল কালাম, সিভি রমণ, বিক্রম সারাভাইয়ের মুখ খোদিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টেলিফোন বার্তায় প্রথম
প্রচেষ্টাতেই এই অভিযানের অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য ‘স্কাইরুট’ দলকে অভিনন্দন
জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”পবন ও ভরত—আপনারা কেবল মহাকাশেই একটি নতুন বৃক্ষ
রোপণ করেননি, বরং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে মাটিতেও একটি নতুন
শিকড়কে সুদৃঢ় করেছেন।”২০১৮ সালে ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা এবং
নাগা ভরত ডাকাকে নিয়ে ‘স্কাইরুট’ প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষুদ্র উপগ্রহের
বাজারের জন্য মহাকাশ অভিযানের সুযোগকে আরও সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সাড়া প্রদানকারী
করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাঁরা এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছিলেন। ২০২২ সালে সংস্থাটি প্রথমবারের মত ইতিহাস সৃষ্টি করে, যখন
তাদের তৈরি ‘বিক্রম-এস’ রকেটটি মহাকাশে পৌঁছায়।
akb tv news
18.07.2026

