" আমি তার ছলনায় ভুলবোনা " ...... অরিন্দম নাথ - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৮

" আমি তার ছলনায় ভুলবোনা " ...... অরিন্দম নাথ

ইদানীং টিভিতে অভিনেত্রী বিদ্যাবালানকে দেখলে আমার একটি গল্প মনে আসে। এর সুত্রপাত কয়েক বছর আগে। অভিনেত্রীর "কাহানী" ছবিটি দেখে। ছবিটিতে বিদ্যাবালান একজন অন্ত্বসত্বা মহিলার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এই প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে একটি চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য বিদ্যাবালানের জুড়ি মেলা ভার। এটাই তিনি "কাহানী" ছবিতে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। 

আমার কাহিনীর ঘটনাকাল আজ থেকে কমসে কম তিরিশ বছর আগে। আমি তখন শিক্ষকতার চাকরি করি। এই রাজ্যেরই একটি মফস্বল শহরে। আমি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। একজন প্রকৌশলীর সঙ্গে একই ঘরে। আমারই সমবয়সী। বাড়িটিতে আরও বেশ কয়েক ঘর ভাড়াটে ছিলো। আমরা দুজন ছাড়া সবাই বিবাহিত। ভাড়াটেদের মধ্যে একটি আত্মিক মিল ছিলো। যেন সবাই একই পরিবারের সদস্য। বৌদিরা দেবরদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। প্রায়ই ভালোমন্দ চাখার সুযোগ ঘটতো। এর মধ্যে একজন বৌদি ছিলেন একটু অতিরিক্ত রকমের যত্নবান। তার স্বামী একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতেন। বৌদিটি খুবই মিশুকে ছিলেন বলে অন্য বৌদিরা তাকে ইশারায় সংযত হতে বলতেন। আমরা সন্ধ্যা মুখার্জির সেই - " আমি তার ছলনায় ভুলবোনা......" বিখ্যাত গানটিকে বেদবাক্য হিসেবে মানতাম। 

এই মিষ্টি মধুর পরিবেশের মধ্যে একবার আমার বাঁ চোখের আঁখি পল্লবের নীচে একটি গোটা হলো। আমরা কথ্য ভাষায় এগুলিকে ' আঁখি- লেঞ্জুরা ' ( eyelid bumps ) বলি। চোখের পল্লবের তৈলাক্ত গ্লান্ডের মধ্যে স্ফীতি দেখা দেয়। বেশ ব্যাথা হয়ে দিন সাতেক ভুগতে হলো। ভাড়াটেদের মধ্যে একজন ছিলেন মনিপুরী সম্প্রদায়ের। আমাদের সমবয়সী এবং বন্ধুস্থানীয়। তিনি আমার অবস্থা দেখে বললেন, " ভাই, তুমি কোন অন্ত্বসত্বা মহিলার দৃষ্টির মধ্যে এসেছো। আমরা বিশ্বাস করি যে যখন কোন মহিলা অন্ত্বসত্বা অবস্থায় কোন পুরুষ কিংবা মহিলার দিকে দৃষ্টি দিয়ে তার মতো সন্তান কামনা করেন তখন সেই ব্যক্তি এই রোগের শিকার হন।" 

এ-যেন মহাভারতের কুন্তীর মন্ত্র পড়ে দেবতাদের মতো পুত্রপুত্রীর বাসনা। সেক্ষেত্রে সেই দেবতারা অজান্তে আঁখি-লেঞ্জুরাতে আক্রান্ত হবেন। আমাদের পূর্ব আলোচিত বৌদি তখন অন্ত্বসত্বা ছিলেন। তবে প্রাথমিক অবস্থায়। ফলে আমাদের সিংহ মহাশয়ের কথার সাথে সাথে যাচাই করতে পারলামনা। কিছুদিন পরের কথা। আমি তখন সুস্থ হয়ে উঠেছি। আমাদের বৌদির চেহারা তখন কাহানী ছবির বিদ্যাবালানের রূপ নিচ্ছে। সিংহ মশাই বৌদির নাম টেনে একদিন কথাটি পাড়লেন, " বলেছিলাম না, আপনি একজন অন্ত্বসত্বা মহিলার রাডারে এসেছেন।"

সেই যাত্রায় আমরা একপ্রস্থ খুব হেসেছিলাম। বৌদির বাচ্চা হওয়ার আগেই আমাকে আমার বন্ধু এবং সহ-ভাড়াটেদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হয়। আমি পুলিশের চাকুরীতে যোগ দেই। পরে শুনেছিলাম বৌদির একটি ছেলে হয়েছে। বৌদির প্রথম সন্তান মেয়ে। আমার গল্প যদিও এখানেই শেষ, তবে আরও কিছুটা সংযোজন করবো। বছর দুয়েক আগের কথা। ডিসেম্বর মাস। সপরিবারে একটি পিকনিকে গিয়েছি। সদরের দুর্গাবাড়ি চা বাগানে। আমরা পুরুষরা একজায়গায় বসে আড্ডা দিচ্ছি। কিছু মৌতাতও করছি। আমাদের গল্পের বিষয়বস্তু অপার্থিব ঘটনা। সর্ব ভারতীয় বনসেবায় নিযুক্ত এক দাদা অদ্ভুত এক গল্প শোনালেন। ঘটনাটি নাকি সর্বোচ্চ আদালত অবধি গড়িয়েছিলো। উত্তর প্রদেশের এক বিবাহিত দম্পতির বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা। ভদ্রমহিলার বাচ্চা সুবর্ণকেশী। সাহেবদের মতো। অথচ পরিবারটির বংশে কোন সাহেব বা মেমের সাথে বিয়ে হয়নি। ভদ্রলোক ভদ্রমহিলাকে সন্দেহ করেন। বাচ্চাটি তার নয় বলে দাবি করেন। বাচ্চার রক্তের ডিএনএ পরীক্ষায় কিন্তু প্রমাণিত হয় ঐ দম্পতিই বাচ্চাটির মা-বাবা। 
আদালতে বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা টেঁকে না। কিন্তু ভদ্রলোকের মনে খচ খচ লেগে থাকে। শেষে আবিষ্কার হয় একটি বিচিত্র তথ্য। গর্ভাবস্থায় মহিলা যে ঘরে থাকতেন সেই ঘরের দেওয়ালে ছিলো একটি ক্যালেন্ডার। ক্যালেন্ডারে শোভা পাচ্ছিলো একটি সুবর্ণকেশী। অন্ত্বসত্বা অবস্থায় ভদ্রমহিলা সারাক্ষণ ঐ বাচ্চাটির মতন সন্তান কামনা করতেন। তাই এই বিচ্যুতি। এবার ভদ্রমহিলার স্বামী হাসিমুখে রায় মেনে নেন। সংসার এগিয়ে চলে তার নির্দিষ্ট ছন্দে।

অরিন্দম নাথ
ছোট গল্পকার, ত্রিপুরা

ছবিঋণঃ ইন্টারনেট 

৪ঠা নভেম্বর ২০১৮ইং               

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here