বাংলাদেশ-ভারত স্টেকহোল্ডারস মিটে বাণিজ্যমন্ত্রী: অভিন্ন স্বার্থে দু'দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

বাংলাদেশ-ভারত স্টেকহোল্ডারস মিটে বাণিজ্যমন্ত্রী: অভিন্ন স্বার্থে দু'দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে

আবু আলী, গৌহাটি, আসাম থেকে ।। বাংলাদেশ নাম্বার ওয়ান কান্ট্রি। গত অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।বাংলাদেশে মিরাক্যালি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করছে। ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করছে সরকার। বর্তমানে দু'দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌছেছে। অভিন্ন স্বার্থে আমাদের দু'দেশকেই কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশীয় দেশ গুলো দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জণ করছে। তবে আমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছি যে আমাদের পদ্ধতিগত নানান বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের নেতৃত্বের আন্তরিকতা সত্বেও এসব বাধা এখনো দূর হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আরো কাজ করার সময় এসেছে। আমাদের অঙ্গিকার থাকলে কোন বাধাই আসতে পারে না।
গতকাল আমাসের রাজধানী গুয়াহাটিতে হোটেল রেডিসনে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ স্টেকহোল্ডারস মিট ২০১৯-এ প্রধান অতিথরি বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এসব কথা বলেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল দু'দিন ব্যাপী এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ভি কে সিং, আসামের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী চন্দ্র মোহন পাটোয়ারী, অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রী সরকারের বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের সচিব রবি কাপুর, বানিজ্য সচিব ড. অনুপ ওয়াধা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার রকিবুল হক, এডিবির কান্টি্র ডিরেক্টর কেনিচি ইয়োকাআমা, ভারতীয় চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি মায়ান জালান প্রমুখ।
বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী বলেন, দু'দেশের ঐতিয্য ও সংস্কৃতির বন্ধন হাজার বছরের। মুক্তিযুদ্ধ এই সম্পর্ককে আরো দৃঢ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছে। অর্থনৈতিক ভাবে দুদেশকে এগিয়ে যেতে হলে এই সম্পর্ককে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, এ সময় তিনি পেঁয়াজের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বানন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে উঠেই আমাকে জবাব দিতে হয় পেয়াজের মূল্য কমবে কবে। আমি তাদের বলি ভারত রপ্তানি শুরু করলেই দাম কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, দু'দেশের ইতিহাসে এই ধরনের সম্মেলন এই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সম্মেলন কিছুটা হলেও যদি অর্থনৈতিক ও যোগাযোগের বিকাশে অবদান রাখতে পারে তাহলে এই আয়োজন ফলপ্রসু হবে। আসামের মূখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয়ের (সাংস্কৃতি, শিক্ষা ব্যবসা বাণিজ্যের) সঙ্গে মিল রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই সু সম্পর্ক রয়েছে। যুদ্ধের সময় প্রায় ১ কোটি মানুষকে আশ্রয় দেয় ভারত। পাশাপাশি যুদ্ধে সহযোগিতা করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃতত্বে উত্তরপূর্ব ভারতে শান্তি বিরাজ করছে। এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত এবং গতিশীল করতে মাল্টিপোল কানেকটিভির প্রয়োজেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মাল্টিপোল কানেকটিভি রয়েছে। তবে এটিকে আরও গকিশীল ও কার্যকর করতে নৌরুটকে কার্যকর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিবিআইএন কার্যকর হলে এবং চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের ব্যাপারে এমওইউ কার্যকর হলে উভয় দেশের ব্যবসা বাণিজ্য আরও বাড়বে। আমাদের একই উদ্দেশ্য নিয়ে একে অপরের সঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশউ উপকৃত হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্যবসা বাণিজ্যের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি, হেলথ, পর্যটন। এজন্য আমাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। মান সম্পন্ন পণ্য তৈরি করতে হবে। এজন্য ভারত-বাংলাদেশ এক পরিবার হয়ে কাজ করলে আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে। একই সঙ্গে উভয় দেশ একযোগে কাজ করে বিশ্বকে জানাতে হবে আমরাই সেরা।
ত্রিপুরার মূখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লী সফরে যে অর্জন আমরা পেয়েছি তা আরো এগিয়ে নিতে হবে। বাধা দেয়ার চেষ্টা হতে পারে কিন্তুু দু'দেশের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে তা উপেক্ষা করতে হবে। আসাম ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্বাঞ্চলের ৬ রাজ্য চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করলে বাংলাদেশও লাভবান হবে।
ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা পরিবহন খরচ এবং সময়। কারণ মূল ভুখন্ড থেকে এখানে পণ্য আনতে অনেক সময় লেগে যায়। এজন্য নদী পথকে সচল করতে পারলে আমাদের দূরত্ব ১২শ কিলো মিটার থেকে কমে ৬শ কিলো মিটারে নেমে আসবে। ফলে পণ্যের মূল্য অর্ধেক হবে। বাংলাদেশের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারলে আমাদের অনেক খরচ কমবে। এতে বাংলাদেশও লাভবান হবে। তিনি বলেন, ত্রিপুরা গ্যাস আছে, আসামে তেল, পাথর ও কয়লা আছে। এছাড়া আছে আমাদের পর্যটনের বিখ্যাত জায়গা। এ অঞ্চলের উন্নয়ন হলে বাংলাদেশও লাভবান হবে। আর যে কোনও উন্নয়নের জন্য ভালো যোগোযাগ ব্যবস্থা পূর্ব শর্ত। চট্টগ্রাম বন্দরে টার্নওভার বাড়লে তাতে বাংলাদেশও উপকৃত হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে হলে দু'দেশের মধ্যে স্থল ও নৌ পথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলোর জন্য এটা অবশ্যই জরুরি হয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার ভারতের আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ স্টেকহোল্ডার্স মিট ২০১৯' এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। ভারতের আলোচকরা বলেন, আসাম ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্বাঞ্চলের ৬ রাজ্য চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করলে শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশও লাভবান হবে। রিভা গাঙ্গুলী দাস বলেন, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে এ ধরণের আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ আমাদের প্রথম প্রতিবেশি। দ্বি-পাক্ষিক ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এ সর্ম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে হবে।


২২শে অক্টোবর ২০১৯

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here