আমাদের বিবেকানন্দ" ... ত্রিপুরা থেকে সন্দীপ সাহা'র অনুভব

শক্তি ও প্রেরণার ১২ জানুয়ারী...... কেন এই দিনটি স্মরণীয়?
১২ জানুয়ারী এমন একজন মহান ব্যক্তির জন্ম হয়েছিল যিনি যুবদের প্রেরণা এবং শক্তির আধার বলেও পরিচিত।
১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারী কলকাতায় জন্ম নিয়েছিলেন বীর সন্ন্যাসী
স্বামী বিবেকানন্দ। ছোট্ট বেলা তাঁর মা নাম রেখেছিলেন বীরেশ্বর।আবার আদর করে বিলে বলেও ডাকতেন।পোশাকি নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত।তাঁর গুরু ছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব।স্বামীজি ২৫ বছর বয়সে গেরুয়া বস্ত্র ধারন করে নিয়েছিলেন।এছাড়া তিনি পায়ে হেটেই সম্পূর্ন ভারতবর্ষ দেখেছিলেন। ১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন এবং হিন্ধুধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। হিন্ধুধর্মকে একটি বিশেষ স্থানে নিয়ে যান তিনি। গৌতম বুদ্ধের পর তিনিই প্রথম ধর্ম এবং সংস্কৃতির রাজদূত ছিলেন।শুধু তাই নয় তিনিই পরিচয় দিয়েছিলেন আমরা কে আর ভারতীয় সংস্কৃতি কি। তিনি যুবকদের চরিত্র গঠনের উদ্যেশ্যে সন্দেহ, ইর্ষা না করার উপদেশ দিয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি সমাজে পুরুষ আর মহিলাদের
একইভাবে সম্মান করতেন।এই সমাজে পুরুষের যেমন সম্মান দেওয়া হয় ঠিক নারীদেরও যেন সেই একই রকম সম্মান দেওয়া দরকার সেই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। স্বামীজী যুবকদের চরিত্র গঠনে ৫ টি সুত্র বলেছেন ১) আত্মবিশ্বাস ২) আত্মত্যাগ ৩) ধৈর্য্য ৪) আত্মনির্ভশীলত ৫) আত্মঞ্জ্যন। ১৮৯৫ সালে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ঘোষনা করার পর থেকেই ভারত সরকারের তরফে ১২ জানুয়ারী দিনটি প্রতি বছর জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশেষ পূজাপ্রার্থনা, যোগা ইত্যাদি হয়ে থাকে। প্রতিটি রামকৃষ্ণ মিশনে এমন কি বেলুরমঠে ভারতীয় সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। একবার স্বামীজি বিদেশে গিয়েছিলেন। তখন সবাই স্বামীজীকে দেখে এগিয়ে আসেন কথা বলার জন্য। একজন ব্যক্তি স্বামীজিকে দেখে হাত বাড়িয়ে হ্যালো বললেন। তখন স্বামীজি ওনাকে হাতজোর করে নমস্কার করলেন। তখন সেই ব্যক্তি ভাবলো স্বামীজি হয়তো ইংরেজি জানেন না।তারপর সেই ব্যক্তি আবার বললেন, 'আপ কেয়সে হে'। তখন স্বামীজি বললেন 'I am fine,thanks'. তারপর সেই ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন যখন আমি হ্যালো বলা হলো তখন স্বামীজি নমস্কার জানালেন আর যখন হিন্দিতে বলা হলো তখন ইংরেজীতে কেন উত্তর দিলেন। তখন স্বামীজি বললেন "আপনি যখন আপনার মা'কে সম্মান দিলেন তখন আমিও আমার মা'কে সম্মান দিলাম। আবার যখন আপনি আমার মা'কে সম্মান দিলেন তখন আমিও আপনার মা'কে সম্মান দিলাম"। একসময় স্বামীজি তাঁর নিজের জীবনের ভবিষ্যত বানীও করেছিলেন। এমন কি তিনি বলেছিলেন ৪০ বছর পর্যন্ত জীবন কাটাতে পারবেন না তিনি। ওনার ভবিষ্যৎবাণী তখনই সত্যে পরিণত হয় যখন ১৯০২ সালের ৪ জুন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দেহত্যাগ করেন। তখন ওনার বয়স ছিল মাত্র ৩৯ বছর।স্বামীজী সর্বদাই যুবকদের নিয়ে চিন্তা করতেন এবং যুবকরা যেন সব সময় এগিয়ে থাকতে পারে সেই চেষ্টাও করতেন। তিনি এও বলতেন যে, "জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ইশ্বর।"
অর্থাৎ একজন মানুষ আর একজন মানুষকে ভালবাসবে সেই বিষয়কেই বেশী গুরুত্ব দিতেন তিনি।
প্রণাম স্বামীজি।।


সন্দীপ সাহা
ত্রিপুরা

তথ্যঃ সংগৃহীত
ছবি" সৌজন্যে ইন্টারনেট

১২ই জানুয়ারি ২০২০

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন