বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ: বিক্রম দোরাইস্বামী - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ: বিক্রম দোরাইস্বামী

আবু আলী, ঢাকা, আরশিকথা ॥ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে ভারত। ভারতের কাছে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের মতো এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের পর তিনি গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন। দুই প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীদের ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী গণমাধ্যমকে জানান, দিল্লির কাছে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, সে বার্তাটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়েছেন। এক দশক আগে ভারত ঋণ চুক্তির আওতায় সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন যথেষ্ট ধীরগতির। দুই শীর্ষ নেতার আলোচনায় ঋণ চুক্তির বাস্তবায়ন বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ‘ঋণ চুক্তির আওতায় সারা বিশ্বে ভারত যে অর্থায়ন করে তার ৩০ শতাংশ দেওয়া হয় বাংলাদেশকে। যে শর্তে বাংলাদেশকে টাকা দেওয়া, বিশ্বের আর কোনো দেশ এই সুবিধা পায় না। আমরা মনে করি, জাপান ছাড়া আর কোনো দেশ বাংলাদেশকে এতটা সহজ শর্তে ঋণ দেয় না। প্রক্রিয়াগত কিছু সমস্যা রয়েছে। আমাদের কাছে প্রকল্প চূড়ান্ত করে দেওয়ার আগে তো আমাদের পে অর্থায়ন করা সম্ভব নয়। দুই পই প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে এতে আরও গতি আসবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমরা ঘোষণা না দিলেও কয়েক মাস ধরে নীরবে বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও মরিশাসের সঙ্গে নিজেদের সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতার চর্চা নিয়ে আলোচনা করে চলেছি। এটা মনে করার কারণ নেই, সব প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা আছে। রোগটা নতুন। কাজেই ভ্যাকসিনের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার কীভাবে হতে পারে, এর সংরণের উপায়গুলো কী কী, প্রশিণ ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কাজ চলছে। গত কয়েক মাসে এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ এ েেত্র যেকোনো সহায়তা চাইলে আমরা হাত বাড়িয়ে দিতে তৈরি আছি। শুধু এখানকার টিকা উৎপাদন পরিস্থিতির গুণগত উন্নতি সাধনই নয়, ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখানে এসে যৌথভাবে উৎপাদনের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী থাকলে এ েেত্রও আমরা সহযোগিতা দিতে রাজি আছি।’ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘রাখাইন থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত লোকজনের তাদের আদি নিবাসে ফিরে যাওয়ার ল্েয সহায়ক পরিবেশ তৈরি নিশ্চিত করতে হলে সেখানে উন্নয়ন সহায়তা জরুরি। আমরা সেটাই করছি। শুধু আমরা নই, অন্যরাও তা করছে। জাপান করছে, আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোও তা করছে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সেখানে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত দূর হয়। আমরা বুঝি এটি মিয়ানমারের একটি জটিল সামাজিক সমস্যা। আমরা একদিকে সেখানকার পরিবেশের উন্নতিতে সহায়তা করতে চাই। অন্যদিকে, জাতিসংঘের সহায়তায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য যে প্রক্রিয়া রয়েছে, তাতে আমাদের সমর্থন রয়েছে। যদিও এ প্রক্রিয়ায় আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা চাই দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ল্য পূরণ হোক। আমরা চাই প্রত্যাবাসনটা টেকসই হবে, যাতে করে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবে না।’ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে ভারতের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ‘মিয়ানমারের বিতাড়িত লোকজনের জন্য যে সুবিধা তৈরি করা হয়েছে সেখানে তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের দিক থেকে যুক্তিসংগত। ভাসানচরের ছবি দেখে মনে হয়েছে নৌবাহিনী অসাধারণ অবকাঠামো তৈরি করেছে। কাজেই সুযোগ-সুবিধা যেখানে ভালো, শিবিরে রাখার চেয়ে তাদের লোকজনকে সেখানে সরিয়ে নেওয়াই তো তুলনামূলকভাবে ভালো।’ তিস্তা বাদে অন্য অভিন্ন নদীর চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘দুই দেশের স্বার্থেই আমি আশাবাদী যে কয়েক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের আগে এ নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।’ বিক্রম দোরাইস্বামী জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস ব্যাংকে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দণি আফ্রিকার গড়া বিশেষায়িত ব্যাংকে যোগ দিলে ছাড়কৃত ঋণ পেতে বাংলাদেশের পথ সুগম হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


আরশিকথা বাংলাদেশ সংবাদ

১৭ই ডিসেম্বর ২০২০
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner