তৃতীয় জন (একটি ভৌতিক কাহিনী) : আজম পাটোয়ারী,বাংলাদেশ - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

রবিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২১

তৃতীয় জন (একটি ভৌতিক কাহিনী) : আজম পাটোয়ারী,বাংলাদেশ

তৃতীয় জন..........


আমি আমার ব্যবসার কাজে শহরে গিয়েছিলাম দুই দিন আগে, আজ বিকেলের গাড়িতে বাড়ি ফিরছি। রাত এখন প্রায় ১২টায় উপরে, আমাদের স্টেশন এসে গেছে কিছুক্ষন পর ট্রেন প্লার্টফর্মে থামল। গাড়ি থেকে নামার আগে আমি ভাল করে নিজের শরীরে শীতের কাপড় গুলো জড়িয়ে পরিপাটি করে নিলাম। বাহিরে আজ বেশ শীত পরছে জানালার গ্লাসে জমা শিশির দেখেই বুজা যাচ্ছে। 

একি কোথায় নামলাম আমি স্টেশন তো দেখি পুরো জনমানব শূণ্য,এমনি কি আশে পাশে কোন কুকুর শেয়ালেরও পাত্তা নেই। 

ইঞ্জিনে সমস্যার কারনে মাঝ পথে আটকা পড়েছিলাম,তাই দেরি হয়ে গেছে আর এতো রাত। তারপর আবারও চারদিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখি আমি ছাড়া কোন যাত্রীই এই স্টেশন নামেনি। এখান থেকে আমার বাড়ি প্রায় আরো দুই ঘন্টার পথ অটো রিক্সায়। অনেকটা চিন্তায় পরে গেলাম এখন কি করব,কারন এত রাতে তো কোন রিক্সা বা অটো কিছুই পাব না । 

কি করব চিন্তায় পরে গেলাম। অগত্যা কি করব না আর ভেবে একা একা বাড়ির পথে না হেটে রাতটুকু এখানেই প্লাটফর্মে বসে কাটিয়ে দেই। সকাল হতে আর কতক্ষন আর আযান হলে তো গাড়ি বেড় হবেই তখন গাড়ি পাবই। না হয় কিছুক্ষন শীতে কষ্ট পাব এই আর কি, তবুও ফালতু হাটার কষ্ট থেকে তো বেচে যাব। এদিকে স্টেশনে কোন দোকানও খোলা দেখছি না। অনেক্ষন থেকেই চা খেতে ইচ্ছে করছে খুব,আর তারচেয়ে বড় কথা কোন দোকান খোলা থাকলে বসে একটু আকটু কথা আর গল্প করে বাকি সময় টুকু পার করা যেত, একা বসে থাকার চেয়ে। তার উপর শীতের রাতে চায়ের নেশাটা একটু বেশি হয় আমার আর এটা স্বাভাবিক কারন শীতের মধ্যে একটু গরম কিছু তো যে কারোই ভাল লাগে তাই না। আমি চারদিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম কোন দোকান খোলা আছে কি না,কিন্তু না সব দোকান বন্ধ কোন সারা শব্দ নেই আশে পাশে।আমি অনেকটা হতাশ হয়ে হাটতে লাগলাম এদিক ওদিক, হয়ত কেউ জেগে থাকতে পারে আরো এই ভেবে। আরো একটু ইতস্ত ঘুরে স্টেশনের শেষের দিকে এসে দাড়ালাম, তারপর ভাল করে তাকিয়ে দেখি আবছা গলিটার ভেতরের দিকে একটা ছোট্ট  দোকান খোলা মনে হল, কিন্তু কোন আলো জ্বালানো নেই, তবে একজন মানুষ বসে আছে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। দূর থেকে আবছা আলোতে বোঝা যাচ্ছে দোকানী বয়সে অনেক বৃদ্ধ। 

আমি সাত পাঁচ না ভেবে সোজা দোকানে গিয়ে সামনে রাখা টুলটাতে বসে পড়লাম।

তারপর শীতে কাপা কাপা কন্ঠে বললাম, চাচা চা হবে রং চা। 

দোকানী কেমন যেন অস্ফুট খস খসে সুরে আমার দিকে না তাকিয়েই বললো,

হা বাবা চা হবে বিষ্কুট হবে সবই হবে তবে এখানে বসে চা খেতে চাইলে কোন প্রশ্ন করা যাবে না আমাকে, যদি মন চায় বসতে পারেন না হলে এখান থেকে চলে যেতে পার।

আমি কিছু বললাম না আর তাকে এমনিতে আছি এক বিপদে তার উপর বাড়তি প্যাচাল আর ভাল লাগবে না,অহেতু কথা বলারই বা দরকার কি, বসার জন্য একটু ভাল জায়গা তো পেয়েছি তার উপরে একটু চা।

বয়সে মুরুব্বি মানুষ কোন প্যাচাল পছন্দ করে না থাক আর গাটাই না তাকে।

মাথা নেড়ে সায় দিলাম আর অষ্ফুট কন্ঠে বললাম...

ঠিক আছে চাচা আপনি চা দেন আমি কোন প্রশ্ন করব না,আর কথাও বলব না আপনার সাথে ঠিক আছে।

মুরব্বি কেমন একটা খেকানো কর্কশ সুরে বলল...

মানুষের কথায় বিশ্বাস নেই মুখে কয় এক আর করে আরেক।

আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম

না না সবাই এমন না আমি বলছি তো আপনাকে কোন প্রশ্ন করব না।

দোকানদার আপন মনে বলতে লাগলো গভীর রাতে আমার দোকান খোলা থাকে আর আমি শুধু রাতের ব্যবসায়ী!

বিষয়টা কেমন অদ্ভুতই মনে হতে লাগলো আমার কাছে, তারপর আবছা অন্ধকারে তার দিকে এবার ভাল করে চেয়ে দেখি চাচার মাথায় চাদরের ঘোমটা বিশাল মুখে দাড়ি আর চোখ দু'টো একটু বেশি বড় মনে হল যদি চোখ গুলো কেমন জানি ঘোলাটে মনে হল অন্ধকারে ঠিক বোঝা গেল না।

পরনে মনে হল লুঙ্গী আর তার চেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো চাচার পা দেখা যাচ্ছে না! 

না কি অন্ধকারের জন্য আমি দেখতে পাচ্ছিনা কিছুই বুজা গেল না আর সেটা ভাবার পর আমার বুকের মধ্য হালকা ধুক পুকানী শুরু হয়ে গেল বুঝলাম না এমন করছে কেন বুকটা।

বিষয়টা বেশ ভাবাচ্ছে আমাকে আশ্চর্য পায়ের পাতা কোথায় চাচার! অবিশ্বাস মনে হল নিজেকে চোখের সামনে কেমন যেন ঠিক বুঝলাম না হতে।

দোকানদার চাচা ভাঙ্গা অস্ফুট কন্ঠে বলে উঠলো, বাবারে তোর বাড়ি কোন গ্রামে? 

আমি কিছুটা কাচু মুচু করে সব বললাম। শুনে তিনি বলেন বাবা তুমি তো এখন আর রিক্সা ভ্যান অটো কিছুই পাবে না। তা ছাড়া এখন অনেক রাত তার উপর তুমি আবার বিপদে আছো! 

এই কথা শুনে তো আমার বুকের কাপুনিটা আরো বেড়ে গেল,বলে কি এই চাচা! 

তারপর তিনি বলে উঠে চিন্তা নেই চা দিচ্ছি খাও সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি তার কথা শুনে কেমন রহস্যের গন্ধ পেলাম। মনে মনে ভাবছি এ আবার কোথায় এলাম সত্যি বিপদে পরে যাইনি তো,আর সাথে তো কোন টাকা পয়সাও নেই যে সমস্যা হবে,দেখা যাক কি হয়। তবে আমি আর বাকি সময় এখান থেকে নড়ছি না।

চাচা চা বানাতে শুরু করলো কেতলি থেকে কাপে পানি ঢালছে গরম ধোয়া উড়ছে কিন্তু কই চুলা তো জ্বলছে না, তবে পানি এত গরম হল কি করে আবার ভাবলাম হয়ত আমি আসার কিছুক্ষন আগে চুলা বন্ধ করেছে তাই পানি এত গরম।

কাপে পানি ঢালার শেষ করে হঠাৎ চাচা বলে ওঠে এই যা দেখি চায়ের চিনি তো শেষ, এখন কি করি এত রাতে! 

আমি কিন্তু কিছু বললাম না কারন আগেই বারন করেছে তার উপর আমি আবার চিনি ছাড়া চা খাইনা,তাই মুখ বন্ধ করে রাখলাম চিনির চিন্তার তার আমার নয়। 

চাচা এই কথা বলে চোখ দু'টো আরো বড় করে চিন্তা নেই পাশের দোকানে তো চিনি আছে না, ওখান থেকে নিয়ে নেব পরে দিয়ে দেব ব্যাস হয়ে গেল।

বলে কি এটা কি করে সম্ভব কারন একে তো গভীর রাত তার উপর পাশের দোকানটি তো দেখি বন্ধ,ভাবছি দেখি এখন কি করেন। 

নিজেই আবার বললেন সমস্যা নেই চিনি চলে আসবে এখনই, কথাটি শুনে এবার আমার অবস্থা তো বেহাল, কি বলে মাথা খারাপ না কি? এই রাতে কোথা থেকে চিনি আনবে আর কথাটা এমন ভাবে বলছে যে মনে হচ্ছে চিনি তার কাছেই আছে। মনের ভিতর নানা রকম কথা খেলা করছে প্রবল আকারে, যাক এখন দেখি কি করে তাই চুপ করে রইলাম। 

দোকানদারকে এরপরে যা করতে দেখলাম তা বলব কি মনে হলেই ভয়ে ঘাম ঝড়তে শুরু করে। আড় চোখে দেখি চাচা পাশের দোকানের দিকে তাকালেন এবং আমার চোখে আর স্থির রাখতে পারছি না কি করব। আমি আবার আড়চোখে দেখি চাচা নিজের হাত চাদরের নিচ থেকে বের করে পাশের দোকানের ভিতর থেকে টিনের উপর দিয়ে চিনি বের করছে,এটা কি করে সম্ভব, তাহলে তো আমি সত্যি বিপদে আছি। চোখে দেখেও বিশ্বাস করা সম্ভব নয়!

না এটা মানতে পারছি না কি করে সম্ভব! 

যে লোকটা বসা থেকে উঠতেছে না সে কি না, টিনের উপর দিয়ে চিনি আনছে না আমি কি ভুল কিছু দেখছি না কি।

না ভুল তো হওয়ার কথা না, সবই তো ঠিক আছে। দূর যতটুকুই হোক না কেন টিনের ভেতর থেকে সামান্য মানুষের হাত দিয়ে কোন ভাবেই কিছু আনা সম্ভব না,তাহলে একি মানুষ নয় আর এটা মানুষের হাত নয়।

আমি কিছু বলতে সাহস পেলাম না, আমি স্পষ্ট বুজতে পারলাম আমার শরির ঘামে পুরো ভিজে চুপচুপে হয়ে গেছে। তা দেখার পরে চিন্তা করলাম না কি সোজা দৌড় দেব!

নিজেকে বলতে লাগলাম এই লোমহর্ষক বিপদ আমার আজ ছিল ভাবা মুশকিল!! 

ম্লান কর্কষ হেসে তিনি বলে চিনি পেয়ে গেছি বাবা। 

আমি কথা বাড়াতে চাইনি বলে কোন কথা বলিনি। চা বানানো শেষ দু'কাপ বানিয়েছে নিজেও খাবে আর আমার সাথে গল্প করবে। চাচা যখন চায়ের কাপ আমার হাতে তুলে দিতে আসলো তখনই দেখে ফেললাম যা দেখার তার হাতের নিচের দিকে চামড়া ফাড়া দাগ এবং সেটি সতেজ দাগ রক্ত লাল টগবগ করছে!এবারে আমি চিৎকার মারতে যাব অমনি তিনি বলে উঠলেন বাবা কোন প্রশ্ন আমাকে করবে না। 

জানি হয়ত তুমি কিছু ভয় করেছো!! এখন গভীর রাত এখানে শুধু দেখবে উত্তর পাবে না! 

বিষাদের সুরে তাকে কথা বলতে দেখে মনে হচ্ছে আমি অন্য জগতে আছি। একবার ভাবছি জীবনের সবচেয়ে লম্বা দৌড়টা দেই। কিন্তু না আমার জানা আছে রাত এখন দু'টোর কাছাকাছি। 

তা ছাড়া তারা আজ আর আমার পিছু ছাড়বে না যতক্ষন না, নিজে থেকে চলে যাবে আর রাস্তাতে আরো এমন জায়গা রয়েছে সে স্পট গুলোতে তারা অবাধে চলা ফেরা করে মানুষ রুপে মানুষ কে ধোকা দেয়,তখন তো চিনতেও পারব না। ফজরের আযান পড়তে বাকি আরো অনেকটা সময়। আমি এখানেই বাকি সময়টা  কাটানোর প্লান করেছি!

যে ভাবে হোক আমাকে ভয় কাটিয়ে এখানেই থাকতে হবে। 

আরো কিছুক্ষণ পর আমার মনে হল বসার টুলে কেউ একজন এসে বসেছে আর তা স্পস্ট বোঝা যাচ্ছে। অশরির কেউ বসেছে আমার পাশে আর আমি তাকে দেখতে পাচ্ছিনা! আমি টুল থেকে উঠেতে যাব এই সময় দোকানদার বলল বসো বাবা ও কিছু না আমার রাতের বন্ধুরা এসেছে, আর আমার মনে হল পাশে বসা সে আমার হাত ধরে টান দিল বসার জন্য।

অগত্যা আমি ধুপ করে বসে পড়লাম কাঠের টুলে।

আমি প্রশ্ন করতে যাব দোকানী বলে তোমাকে আগেই বলেছি আমাকে প্রশ্ন করবেনা!! 

কিছুক্ষন পর চাচা এবারে তিনটি চা বানাতে লাগলেন আরেকটা কার জন্য তা তো জানি কিন্তু দেখি চা টা কিভাবে কি করে।

দেখলাম তিন নম্বর চা টুলে রেখে দিল কিন্তু চা এমনিতে শেষ হতে লাগলো। মনে হচ্ছে আমি যেন মাতাল ঘোরের মধ্যে এসব দেখছি। বুকের মধ্যে ভয় করতে করতে শর্ট করেছে। 

তারপর চাচা বলে উঠে কি করেছিস তুই আদম জাতে সাথে প্রেম করতে চাস। তিনি যে কথাটা এটা আমাকে বলেননি তা বুজতে পারছি বেশ। যে অদৃশ্য জন আমার পাশে তাকে বলেছে, যদি আমার আন্দাজ ঠিক হয় তবে পাশের তৃতীয় জন পরী। কারন পরীটা মেয়ে কন্ঠে বিভৎস আওয়াজে হাসছে। এবারে আমার শংকা হলো পরীর কবল থেকে বাচতে হবে। কারন এ রাতে তারা আমাকে ভুলিয়ে পথ হারা করে দিবে।তারপর তাদের পছন্দ মতো তাদের জায়গায় নিয়ে যাবে। আমি বুঝে গেছি পরী এই সেই পরী যার হাত থেকে আমি বাচতে চাই। কিন্তু সে নাছোড়বান্ধা অত সহজে ছাড়বেনা আমাকে আজ টার্গেট করেছে আর সুযোগ খুজছে একা পেতে। এবার আমি অনেকটা অনুরোধের সুরে নরম গলায় দোকানদার চাচাকে বলি আপনি সবই দেখছেন জানেন আর বুঝতে পেরেছেন কিন্তু আমি এখন কি করব, আমাকে তার হাত থেকে বাচান নয়তো আজ আমাকে মরতে হবে।

সে সুযোগ করে আমার গায়ে জোড় করে টান মারল, এমন সময় দোকানদার বলে তোরে বলছি সীমানা অতিক্রম না করতে, এটা ঠিক নয় একজন বিপদে পড়েছে তাকে ক্ষতি করা অধর্ম। 

বাবা তুমি চিন্তা করোনা আমি দেখছি,কি করা যায়।

আর কোন কথা না বলেই দোকানসহ দু'জনে উধাও, আমি দেখি একটি খালি জায়গাতে আমি মাটিতে বসে আছি,তারা কোথায় গেল কিছুই দেখা যাচ্ছে না তো।

ভয়টা কি রকমের সেটা বর্ণনা করতে পারছিনা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি আযান দিতে বাকি মিনিট কয়েক আর তা দেখে সান্ত্বনা পেলাম,খানিক ক্ষন পর আযান শুরু হল মসজিদের মাইকে। তারপর আমি প্লাটফর্মে উঠে এসে দাড়ালাম আর আবছা অন্ধকারে রেল লাইনের দিকে দৃষ্টি করে যা দেখলাম এক বিশাল সাদা যেন কিছু একটা সামনে থাকা কি যেন ধাওয়া করছে।

সত্যি কি দেখছি আমি,যেতে যেতে তারা চোখের সীমানা ছাড়িয়ে গেল!

শরীরে জ্বর এসেছে কখন বুঝতে পারিনি,ভীষণ গরম হয়ে গেছে শরিরটা।  কিছুক্ষণ পর স্টেশনের মসজিদের মাইকে আযানের আওয়াজ ভেসে আসলো, মনে কিছুটা শান্তি আসলো তারপর মসজিদে দিকে এগিয়ে গেলাম আর অজু করে নামাজের জন্য তৈরি হলাম। 

আল্লাহর কাছে শুকরিয়া তার রহমতে আজ বেচে গেলাম। তারপর নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বেড় হয়ে প্লাটফর্মের শেষ মাথায় গেলাম, এদিকে দু'একজন হাটতে বেড়িয়েছে দেখি কিন্তু একি ঐখানে তো কোন দোকানই নেই, তারপর দোকানদার চাচার খোজ করলাম আশে পাশে কিন্তু না সেখানে চাচা নেই! তাহলে কই গেল দোকান আর দাকানদার চাচা দাড়িয়ে ভাবছি, এমন সময় অনেকটা দূরে অন্য দোকানদারকে দেখলাম তার দোকান খুলছে।

তার কাছে গিয়ে বৃদ্ধ দোকানদারের কথা জানতে চাইলাম, তিনি আমার কথা শুনে চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন তাহলে তুমিও দেখেছ তাদেরকে, তবে আল্লাহ রহমতে আর করিম মুন্সির কারনে বেচে গেছ। তারপর তিনি আমাকে বললেন যে এখানকার সব ঘটনা।

যখনই কোন অমাবস্যার রাতে মাঝ পথে ট্রেনের সমস্যা হয়, তখন এই স্টেশনে একজন যাত্রী নামে আর তখনই তারা পরীর খপ্পরে পরে আর তখন সেই যাত্রীকে আমাদের এই স্টেশনের প্রথম দোকানদার করিম মুন্সি সাহায্য করে বাচিয়ে দেয়। 

আমার বোঝার বাকি নেই আমি আসলে কত বড় বিপদে ছিলাম রাতের বেলায়।

আমি আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত পা চালাই অটো গাড়ির দিকে,আর মনে মনে দোয়া করি আমাকে সাহায্য করা সেই বৃদ্ধ মানুষটির জন্য।

আমার কানে এখনও বাজে সেই কথা রাত তাদের দখলে, আর তাদের জীবনাচরন তখন শুরু হয়।


টরকী ১৯/১১/২০ রাত ১:১০

ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট



আজম পাটোয়ারী

বাংলাদেশ

আরশিকথা সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগ

২৪শে জানুয়ারি ২০২১

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner