নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সামনেই
TTADC ‘র ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক দলের সাথে যখন
তাদের জোট সঙ্গী তিপ্রা মথার এই ভোটে আঁতাত নিয়ে যখন এখনো কোন স্পষ্ট চিত্র সামনে
আসে নি, এমন কি তিপ্রা মথার তরফে এমডিসি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ সাফ জানিয়েছেন
যদি তাদের দাবি মানা না হয় তবে তারা জোটে যাবে না এমন কি আগামী বিধানসভা
নির্বাচনেও জোটে থাকবে কি না এ নিয়ে তাদের নতুন করে ভাবতে হবে।এই পরিস্থিতিতে দিন
যতই এগিয়ে আসছে জোট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল দিন দিন বাড়ছে। বিরোধীরাও এর দিকে
অধির আগ্রহে তাকিয়ে তাদের রনকৌশল নির্ণয়ে তৎপর। এই যখন পরিস্থিতি এই সময় বুধবার
রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডির সঙ্গে বুধবার সাক্ষাৎ করেন তিপরা মথার সুপ্রিমো তথা এমডিসি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ,টি টি এ ডি
সি’র মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রুনিয়েল দেববর্মা। এ সম্পর্কে মথা সুপ্রিমো এম ডি
সি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ জানান ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল-এর আইনসভায়
পাস হওয়া বেশ কয়েকটি বিল, যা দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলি খতিয়ে
দেখার জন্য রাজ্যপালের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন বলেন, রাজ্যপাল
বরাবরের মতোই অত্যন্ত সদয় ও সহযোগিতাপূর্ণ
ছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের মূল চেতনা যথাযথভাবে বজায় রাখা
হবে। পাশাপাশি ত্রিপুরার জনজাতি ও ভূমিপুত্র জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ও
রাজ্যপালের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদ্যোত
কিশোর জানান, এডিসি আইনসভায় বেশ কয়েকটি বিল পাস হলেও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ
না হওয়ায় সেগুলি এখনও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তাঁর কথায়, এডিসির পাস করা বিলগুলি
প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যার মধ্যে রাজ্যপালের সম্মতিও
রয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে স্বশাসিত পরিষদের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং পরিষদের
ইতিমধ্যে পাস করা আইনগুলি কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এডিসির
নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি যাতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়িত
হয়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে
টিটিএএডিসি ত্রিপুরার নির্দিষ্ট জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা
প্রয়োগ করে। পরিষদের আইন প্রণয়ন ক্ষমতার আওতায় পাস হওয়া বিলগুলির ক্ষেত্রে নির্ধারিত
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে তিপ্রা
মথা পরিচালিত স্বশাসিত পরিষদের একাধিক আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ
বলে মনে করা হচ্ছে। তিপ্রা মথার নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই এডিসি-র সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক
ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে আসছে। রাজনৈতিক মহলের ধারনা এই বিল পাশের
সাথে রাজ্যের শাসক শিবিরের পরোক্ষ সম্মতি
প্রয়োজন। তবেই শেষে সম্মতি পাওয়া গেলে রাজ্যপাল এই বিলগুলিতে স্বাক্ষর করবেন। এ
ছাড়া বিল গুলি নিয়ে আরও দীর্ঘ পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশ্লেষক মহলের
অভিমত। তাদের ধারনা কেননা এই বিলগুলির মধ্যে এমন কিছু বিল রয়েছে যা সকল অংশের
জনগণের স্বার্থের সাথে খুবই ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সুতরাং সব দিক ভেবে চিন্তে তবেই
রাজ্যের শাসক পক্ষকে এগুলির স্বপক্ষে মতামত প্রয়োগ করতে হবে বলে মনে কড়া হচ্ছে।
সুতরাং এই বিলগুলি পাশ করার মধ্য দিয়ে তিপ্রা মথা যে তাদের জোট সঙ্গীর উপর
রাজনৈতিক দিকের পাশাপাশি সাংবিধানিক ভাবেও পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন এদিনের
এই সাক্ষাৎ সে দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের অনুমান।
akb tv news
26.08.2026.

