জানা নেই কবে শেষ হবে এই সময়ের প্রতীক্ষা"....বাংলাদেশ থেকে খোরশেদ আলম বিপ্লব - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯

জানা নেই কবে শেষ হবে এই সময়ের প্রতীক্ষা"....বাংলাদেশ থেকে খোরশেদ আলম বিপ্লব

মনে পরে ছোটবেলা আমার মা,বড় চাচী আর পাশের বাড়ির এক বুড়ো দাদার মুখে প্রায়ই মুক্তি যুদ্ধের (তাদের ভাষায় রায়েট) এর স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন বাস্তব কাহিনী শুনতাম। বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়া থেকে শুরু করে, মা বোনদের ইজ্জত নেয়া, খুন ধরে নিয়ে যাওয়া, মুক্তি বাহিনী, রাজাকার ইত্যাদি। তখন বুঝতে পারিনি না জানা ঐ শব্দ গুলোর মানে।
মাকে জিজ্ঞেস করলে বলতো বড় হলে বুঝবি এসব, শুধু এটা জেনে রাখ দেশ স্বাধীন হবার সময়ে এইগুলো অইছে। স্বাধীন পরাধীন অধিকার এতো কিছু মাথায় ঢুকতোনা ।
সময় আর বেড়ে ওঠার সাথে সাথে পাঠ্য বই, মতলব গঞ্জ জে,বি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আর সেই পাশের বাড়ির দাদা আব্দুর রহিম বেপারীর কাছে আস্তে আস্তে জানতে পারলাম স্বাধীনতা আর ঐ না বুঝা শব্দ গুলোর মানে। মাঝে মাঝে আফসোস করতাম ঐ সময়ের আগে কেন পৃথিবীতে আসতে পারিনি।
কিন্তু গর্ব বোধ ও করতাম এ জন্য যে অন্যায় নিপীড়ন আর মা বোনদের ইজ্জত এর বিনিময়ে হলেও দেশ আজ স্বাধীন শত্রু মুক্ত।
কিন্তু আজ স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর দ্বীধাহীন চিত্তে চিৎকার করে জানতে চাই আমরা কি সত্যিই স্বাধীন?
লাল সবুজের পতাকা আর বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ড পেয়েছি বলেই স্বাধীন? চারপাশের অন্যায় অনিয়ম দেখে কি বুকে হাত দিয়ে কেউ বলতে পারবেন এটাই কি স্বাধীনতা? এটাই কি পরাধীনতার জিঞ্জির ভাঙার যে গল্প​ যা ছোটবেলা শুনেছি।
জানিনা কেউ আমার প্রশ্নের স্বদ উত্তর দিবেন কিনা।
ধষর্ণ,খুন,অবিচার, মিথ্যাচার এসব দেখতে দেখতে মন মানসিকতা ভীষণ ক্লান্ত! একটা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষও বোধয় অক্ষমতায় পরিণত হচ্ছে। ভাবতে না চাইলেও ভাবায়। মস্তিষ্ক থেকে ভালো জিনিষগুরো নড়ে যেয়ে ভীষণ অাঘাত করে। অার যখন অাঘাত করে তখন মন হয়ে যায় হাজার ও হতাশায় নিমজ্জিত! আমার মা বোন স্ত্রী সন্তান কতটা নিরাপদ আর সে জায়গাটা কোথায় বলতে পারলে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতাম।

গত দুই দিন ধরে প্রতিটি​ সংবাদ পত্রের পাতা আর টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে কিছুতেই চোখ এড়াতে পারছিনা যে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত রেনু বেগমের আর তার দুই অবুঝ নিষ্পাপ সন্তান বড়টা ১১ বছর আর তার বছরের তাসনিম তুবার করুন কাহিনী দেখে ।
তুবা জানেনা মা আর আসবেনা ফিরে, নিবেনা আদর করে কোলে তুলে। বার বার মায়ের ফিরে আসার রাস্তার দিকে তাকিয়ে​ অপেক্ষা করছিলো মায়ের জন্য কখন ফিরে আসবে।
সাংবাদিক সাহেব: তুবা, আম্মু​ কোথায় গেছে?
নিষ্পাপ তুবা: নিচে গেছে।
সাংবাদিক সাহেব: কেন গেছে?​
অবুঝ তুবা: ড্রেস আনতে গেছে।
জনাব বন্ধ করুন এই রকম ইন্টারভিউ। একবার আপন সন্তান ভাবুন দেখুন তো আপনাার সন্তান কি বলে?
নিষ্পাপ ও অবুঝ তুবার ঐ ড্রেসের অপেক্ষায় কতটা যুগ এভাবে কাটাতে হবে কেউ​ জানেন কী!
তুবার হয়তো জানা হয়ে গেছে অন্তরযামীর ইশারায় মা আর ফিরবেনা, সদা হাসি মুখে থাকা মেয়েটি মা হারানোর কষ্টে ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠছিলো বারবার, 😢
কে দেবে ওর ঐ চোখের জলের দাম? কে নেবে সারা জীবনের মায়ের ভালোবাসা বঞ্চিত কষ্ট আর গ্লানির দায় ভার? কে হাত ধরে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ তার পর নব বঁধু করে মেয়েকে যথা পাত্রে তুলে দিতে।
সহানুভূতি নয় অধিকার আর স্বাধীনতা দিয়ে এইরকম কজন রেনু বেগম কে চলতে দায়িত্ব নিবেন?
জীবন শুরু হবার আগে যে তুবা এই সমাজ আর মানুষ নামধারী অমানুষিকতার কাছে পরাজিত হলো এই দায়ভার কার?
এক সময় ধারনা ছিল আবেগ যখন বিবেকের কাছে হেরে যায়,তখন মন হেরে গেলেও মনুষ্যত্ব জেগে উঠে, আর যার ভেতর মনুষ্যত্ব জেগে ওঠে সেই তো প্রকৃত মানুষ! কিন্তু আজ তা ভুল বলে মানতে হচ্ছে যার বাস্তব রূপ এ সমাজে চলমান।
আমাদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির গেঁড়ে বসেছে রন্ধে রন্ধে।সাধারণ হামলা থেকে হত্যা কোন ঘটনা সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার পায়নি ভুক্তভোগী মানুষ। আমাদের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতে কাউকে না কাউকে তো দাঁড়াতে হবে তাই​ আমার মনে পড়ে গেল হায়দার হোসেনের সেই গানটি যে গানের দুটি লাইন আপনাদের বলতে চাই "
"
চিৎকার করে বলতে চাহিয়া,
করিতে পারিনি চিৎকার,
বুকের কষ্ট বুকে চাপাইয়া,
নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার।"

আত্ম উপলব্ধির জায়গা থেকে বলছি আমরা পরাধীন ই রয়ে গেলাম। এ কলংকিত অধ্যায় আর নির্লজ্জ বিবেক টেনে নিয়ে যাবে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে তবুও ছোট্ট নিস্পাপ এতিম তুবার এই অভিশাপ থেকে আমরা কেউ বাদ যাবো না! রাষ্ট্রের এই হায়েনা গুলোর হাতে একজন মায়ের এমন মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। এই পিশাচ​ জানোয়ার গুলোর মৃত্যুও যেন এভাবে হয়।
এ রাষ্ট্র সমাজ দুর্বল, অসহায়, নষ্ট হয়ে গেছে।
এ রাষ্ট্র কি সত্যিই অসহায়। অসহায় রাষ্ট্র থেকে কবে মুক্তি পাবো আমরা। কবে হবে এদের বিচার...????

জানা নেই কবে শেষ হবে এই সময়ের অপেক্ষা......!!!

আত্ম উপলব্ধি থেকে:
খোরশেদ আলম বিপ্লব
লেখক ও মানবাধিকার কর্মী
ঢাকা,বাংলাদেশ


২৩, জুলাই ২০১৯

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner