ঢাকায় পরকীয়া প্রেমিককে বটি দিয়ে ৫ খণ্ড করল প্রেমিকা - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

ঢাকায় পরকীয়া প্রেমিককে বটি দিয়ে ৫ খণ্ড করল প্রেমিকা

প্রভাষ চৌধুরী, ঢাকা ব্যুরো এডিটর, আরশিকথাঃ

বাংলাদেশের রাজধানীতে ঢাকায় ৫০ বছর বয়সী এক প্রেমিকা তার ৩২ বছর বয়সী প্রেমিককে বটি দিয়ে কেটে পাঁচ খণ্ড করেছে। পুলিশ ঘরের মেঝে থেকে মৃতদেহের ৩ খণ্ড ও বাথরুম থেকে বাকি দুই খণ্ড উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ওই প্রেমিকার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সায়েদাবাদের কে এম দাস লেনের একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় সজীবের খণ্ড খণ্ড মরদেহ। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে প্রেমিকা শাহনাজকে।

গ্রেফতারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন শাহনাজ। প্রেমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর ৫ খণ্ড করেন শাহানাজ। নিহত সজিবের সঙ্গে তার পাঁচ বছর ধরে অবৈধ সম্পর্ক চলছিল। প্রতিবেশীরা বলছেন, ৫ থেকে ৬ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সায়েদাবাদের কে এম দাস লেনের ৬ তলা ভবনের চতুর্থ তলায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন ৫০ বছর বয়সী শাহনাজ ও বাসের টিকিট কাউন্টারের কর্মী ৩২ বছরের সজীব। এদিকে স্ত্রী নিখোঁজ থাকায় মঙ্গলবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়ারি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন আটককৃত শাহনাজের আসল স্বামী। ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, পারভিন তিন দিন ধরে নিখোঁজ জানিয়ে তার স্বামী ওয়ারি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ তাকে (পারভিন) খুঁজতে গিয়ে এই (সজিবের) মৃতদেহ পায়। পুলিশ জানায়, সজিবের সঙ্গে পারভিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে কারণে পারভিন তার স্বামীর বাসা থেকে তিনদিন আগে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে সজিবের বাসায় ওঠেন। জিডি হওয়ার পর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে পারভিনের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সজিবের বাসায় যায় পুলিশ। সেখানে পারভিনকে পাওয়ার পাশাপাশি সজিবের লাশও মেলে। পারভিনকে সন্দেহের কারণ জানতে চাইলে উপ-কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, সজিবের সঙ্গে থাকতে গিয়ে পারভিন বুঝতে পারে, সজিবের অন্য মেয়েদের সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে এবং সজীবের মুখ্য উদ্দেশ্য পারভিনের টাকা ও স্বর্ণালংকার। পারভিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ঝগড়ার সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তিনি বলেছেন, সজিবের সঙ্গে তার প্রথমে ঝগড়া হয়, তখন সজিব তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে ধস্তাধস্তির মধ্যে ছুরি পারভিনের হাতে চলে আসে। তখন তিনি সজিবকে ছুরি মারলে সে মারা যায়। এরপর পারভিন রান্না ঘরের বটি দিয়ে সজীবের মৃতদেহ পাঁচ টুকরা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। পারভিনের হাতেও কেটে যাওয়ার জখম থাকার কথা জানান তিনি। প্রাথমিক অনুসন্ধানের জানা গেছে, শাহানাজ স্বামীবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তার দুই ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। নিহত সজিবের সঙ্গে শাহনাজের চার পাঁচ বছর ধরে অবৈধ সম্পর্ক চলছিল। তারা একটি বাসায় মাঝে মাঝে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। বৃহস্পতিবারও দুজন দেখা করে শারীরিক সম্পর্ক শেষে টাকা ও সোনা গহনা পাওনা নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সজিব শাহনাজকে চড় থাপ্পড় মারলে শাহনাজ ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সজিবের মৃত্যু হয়। মৃতদেহ লুকাতে শাহানাজ মরদেহ ৫টি খণ্ড করেন। সূত্র জানায়, গত ২ দিন আগে হত্যাকারী শাহানাজ পারভিন তার প্রকৃত স্বামীর ঘর সংসার ছেলে মেয়ে রেখে স্বর্ণাংলকার কাপড়চোপড় ও টাকা-পয়সা এবং লাগেজ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সজিব হাসানের সঙ্গে দেখা করেন। তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সজিবের বাসায় অবস্থান করা শুরু করেন। ওই নারী পুলিশের কাছে বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে সজিব হাসান তার টাকাপয়সা ও স্বর্ণাংলকার নিয়ে বিক্রি করতে চাইলে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরেই সজিব হাসান তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করতে চাইলে ওই ছুরি কেড়ে নিয়ে উল্টো সজিব হাসানের বুকের নিচে আঘাত করেন। হত্যাকারী শাহনাজ পারভিন প্রেমিক সজিবের তুলনায় শারীরিক গঠনে খুবই ভালো। হত্যা শেষে ছুরি দিয়ে সজিবের দু’হাত, দু’পা বিছিন্ন করে হত্যা করা হয়। এ কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও শিল উদ্ধার করেছে পুলিশ।


আরশিকথা বাংলাদেশ সংবাদ

১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২১
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner