সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে সাধারণত আমরা যা বুঝি তা হলো বিভিন্ন ধরনের গণমাধ্যমের মাধ্যমে অবাধে বক্তব্য ও মতামত প্রকাশের সুরক্ষিত অধিকার । এই প্রসঙ্গে যার নাম নিতেই হবে তিনি জেমস অগাস্টাস হিকি। যাঁকে 'ভারতীয় সংবাদপত্রের জনক' হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ নাগরিক। যিনি তাঁর শাসনামলে প্রথম সংবাদপত্র চালু করার জন্য পরিচিত। আর একারণেই সাম্রাজ্যবাদী স্ব-নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও ভারতের সংবাদপত্রের ভিত্তি মূলত ব্রিটিশ প্রশাসনের হাতেই ছিল।
এখন প্রশ্ন আসতেই পারে যে কেন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জরুরী। খুব সহজভাবে বললে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নাগরিকদেরকে জনবিষয়াবলী সম্পর্কে অবহিত করতে এবং সরকারের সর্বস্তরের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বগণ নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গিতে মত প্রকাশ করেছেন। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ঘোষণা করেছিলেন, “প্রজাতন্ত্র এবং সীমিত রাজতন্ত্রগুলো শাসকদের কার্যকলাপের উপর জনগণের পর্যালোচনার মাধ্যমেই তাদের শক্তি ও তেজ লাভ করে।” জ্ঞান বিতরণ এবং বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়ে একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দেশের নাগরিকদের উজ্জীবিত ও শিক্ষিত করে তোলে। টমাস জেফারসন একবার বলেছিলেন, জনগণ অবহিত না হলে স্বাধীনতা হবে “এক ক্ষণস্থায়ী সম্পদ”। জন অ্যাডামসের ভাষায়: “রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অপরিহার্য।”
জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে: "প্রত্যেকের মতামত ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে; এই অধিকারে হস্তক্ষেপ ছাড়াই মতামত রাখা, এবং কোনও গণমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য ও ধারণাগুলি অনুসন্ধান করা, গ্রহণ এবং গ্রহণের স্বাধীনতার সীমানা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত"।
৩রা মে প্রত্যেক সরকার/শাসককে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং পেশাগত নৈতিকতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আত্ম-পর্যালোচনারও একটি দিন। এটি একটি সুযোগ:
#সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিগুলো উদযাপন করা
#সারা বিশ্বে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অবস্থা মূল্যায়ন করা
#গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ থেকে তাদের রক্ষা করা
এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন হারানো সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা।
পরিশেষে বলতেই হয় যে "নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবেশাধিকার, জবাবদিহিতা, সংলাপ এবং আস্থা প্রসারের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা শান্তি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের চাবিকাঠি।"
আজ এই বিশেষ দিনে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।।
আরশিকথা হাইলাইটস
@তথ্যঋণঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট
৩রা মে ২০২৬

.jpg)