আরশি কথা

আরশি কথা

No results found
    Breaking News

    'ভারতীয়ম্' : সাহিত্যপত্রের ' রবীন্দ্রসংস্কৃতি' বিষয়ক সেমিনারঃ আরশিকথা ত্রিপুরা

    আরশি কথা

    বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা,আরশিকথাঃ


    ৯ মে শনিবার মঠচৌমুহনীস্থিত ফ্লাওয়ার্স ক্লাবের সাহিত্যচর্চা কেন্দ্রে ত্রিপুরা সরকারের শ্রেষ্ঠ লিটল ম্যাগাজিন পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যপত্র 'ভারতীয়ম্'-এর উদ্যোগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত হল আলোচনাচক্র,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ অনুষ্ঠান ও কবিতা পাঠের আসর। অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বাগত ভাষণ দেন ভারতীয়ম্ সাহিত্যপত্রের সম্পাদক ড. সন্দীপ দেব।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মহারাজা বীরবিক্রম মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড.জয় কুমার দাস।

    তিনি  তাঁর ভাষণে বলেন,রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন। ঠাকুরবাড়ির চারদেওয়ালে তিনি আবদ্ধ ছিলেন না। রাজকীয় আভিজাত্য বড় হলেও মাটির মানুষের কাছে বার বার ছুটে গেছেন। তিনি ছিলেন মানবতাবাদী। তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ অনুভব করতে চেয়েছেন। তাই পল্লীউন্নয়নে তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন। দেশের কৃষির উন্নয়নে প্রয়াসী ছিলেন।তাই তৈরী করেন কৃষি ব্যাঙ্ক। শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে সাবলম্বী করে তােলা।

    তিনি পদ্মার বোটে জানালা দিয়ে যা দেখতন তা কোনও সাধারণ দৃশ্য নয়, যেন বাংলার মানুষের জীবনশৈলী।রবীন্দ্রনাথ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল, তা সত্যই প্রাসঙ্গিক। ভারতভাস্কর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যে সম্পদ দিয়ে গেছেন, তা চিরকাল আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে। তাঁর জ্ঞানের পরিধিও ছিল বিশাল। জ্ঞান রত্নাকর কবি আমাদের মুখে দিয়েছেন ভাষা, প্রাণে জাগিয়েছেন আশা, প্রেরণা দিয়েছেন নিত্য নতুন কর্মে।

    বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন তিনি। কথাকার,নাট্যকার,গীতিকার ও সুরকার। প্রতিটি একাধার তার নিপুণ তুলির টানে আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতি বাল্যকাল থেকেই লালিত।বেদ বা সনাতন ধর্মের বৈদিক মন্ত্র তাকে আকৃষ্ট করেছিল। বেদ,যেমন ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ ভবভূতির সৃজনশীলতায় তিনি ছিলেন মুগ্ধ।

    এরপর ভারতীয়ম্ লিটল ম্যাগাজিনের মাসিক পত্র এপ্রিল সংখ্যার প্রকাশ করেন সম্পাদক চিন্ময় ভট্টাচার্য্য। অপর আরেকজন সম্মানিত অতিথি মিঠুন রায় ত্রিপুরার সাথে কবিগুরুর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। সভ্যতার সংকটে মানবতাবাদী রবীন্দ্রনাথকে আমাদের প্রয়ােজন। তিনি নিছক কবি নন, প্রতিনিয়ত তার দর্শন আমাদের ঋদ্ধ করে। আমাদের চিন্তা ও মননের জীবন্ত উৎস ধারায় এখনও রবীন্দ্রনাথ বিরাজমান। বাস্তবিক অর্থেই তিনি ছিলেন এক পথচলার আনন্দের যাত্রী।

    'রবীন্দ্রসংস্কৃতি' শীর্ষক আলোচনাচক্রটি অনুষ্ঠানের সভাপতি গৌতম বনিক মহাশয়ের ধন্যবাদ জানানোর মধ্যে শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানকে দর্শক আসনে তরুণ কবি-লেখক,প্রকাশক,সজ্জনমন্ডলির উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করবার মতো। সেমিনারটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।


    আরশিকথা ত্রিপুরা সংবাদ

    ১৩ই মে ২০২৬
     

    3/related/default