নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন ধরেই তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতাল'কে ঘিরে নানা অভিযোগ জমা পড়ছিল।
বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার বেহাল
দশা। রোগী কল্যাণ তহবিলের লক্ষাধিক টাকা ফেরত যাওয়া, গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ ও ভ্যাকসিনের
পাচার, কর্মীদের মর্জিমাফিক উপস্থিতি, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য— এমন অসংখ্য অভিযোগে
কার্যত সরগরম হাসপাতাল চত্বর। অভিযোগের তীর মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজা জমাতিয়ার
দিকে। অবশেষে শনিবার আচমকা তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শনে যান তেলিয়ামুড়ার
বিধায়িকা তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায়। আর সেখানে গিয়েই যেন
অভিযোগের বাস্তব চিত্র নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেন তিনি।পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, হাসপাতালের ওটি'র
দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সমীর দেববর্মা সহ একাধিক কর্মী কোনও প্রকার অনুমতি ছাড়াই
কর্মস্থলে অনুপস্থিত। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে শৃঙ্খলার চরম অভাব ও প্রশাসনিক ব্যার্থতার
চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সূত্রের খবর, হাসপাতালের রোগী উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৬ লক্ষ
টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়টিও বিধায়িকার নজরে আসে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ ও ভ্যাকসিন
পাচার অভিযোগ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে মহকুমা স্বাস্থ্য
আধিকারিক রাজা জমাতিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি
বলে অভিযোগ। জবাবদিহির মুখে পড়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কিন্তু তাতে অভিযোগের
ভার কমেনি, বরং হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
এদিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায় স্বীকার করেন, “তেলিয়ামুড়া
মহকুমা হাসপাতালে কার্যত নৈরাজ্য চলছে।”হাসপাতালের এল.ডি.সি প্রশান্ত সিনহা, চিকিৎসক
সমীর দেববর্মা সহ একাধিক কর্মীর খামখেয়ালি উপস্থিতি নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ
করেন।
akb tv news
06.06.2026

