আমাদের জীবনে এমন কিছু দিন আছে যা মনে রাখার জন্য কোন ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন হয় না। আজকের দিনটি—২৬শে জুলাই—তেমনই একটি দিন। আজ ‘কার্গিল বিজয় দিবস’। এই দিনটি আমাদের গর্বে ভরিয়ে দেয়। এই দিনটি আমাদের বীর সৈনিকদের অসামান্য সাহসিকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কার্গিলের সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শত্রুপক্ষের চ্যালেঞ্জ—আমাদের সৈনিকরা প্রতিটি পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন; তবুও তাঁদের মনোবল ছিল যেকোন চ্যালেঞ্জের চেয়েও অনেক বড়। ‘মা ভারতী’র সুরক্ষায় তাঁরা নিজেদের সর্বস্ব উৎসর্গ করেছিলেন। আজ, ‘কার্গিল বিজয় দিবস’-এ আমি সকল বীর শহীদ ও সৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে প্রণাম জানাই। রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের ভারত কেবল তার বীরদের স্মরণই করে না, বরং তাঁদের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছেও দেয়। এই ভাবনা থেকেই এ বছর একটি বিশেষ ‘শৌর্য বিজয় যাত্রা’র আয়োজন করা হয়েছে। দিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মারক থেকে ১৪ই জুলাই শুরু হওয়া এই মোটরসাইকেল র্যা লিটি দ্রাসের কার্গিল যুদ্ধ স্মারকে গিয়ে পৌঁছাবে।এর বার্তা হল— “এক যাত্রা, এক রাষ্ট্র, এক অভিবাদন।” এই যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দেশের জন্য দেওয়া আত্মত্যাগ কখনোই বিস্মৃত হওয়া যায় না।আজ সৈনিকদের সাহসিকতার পাশাপাশি ভারত ক্রমাগত তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বৃদ্ধি করছে। কিছুদিন আগেই ভারতীয় নৌ-বাহিনীতে ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’ যুক্ত হয়েছে। এই অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজটি ভারতেই নকশা ও নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যবহৃত ৭৫ শতাংশেরও বেশি উপকরণ দেশীয়। এটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রতীক। এই মাসেই ডিআরডিও সফলভাবে ‘পিনাকা লং-রেঞ্জ গাইডেড রকেট’-এর পরীক্ষা চালিয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে আমাদের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সম্মিলিত অধ্যবসায়। মাত্র দু-তিন দিন আগেই ডিআরডিও ‘কুশা’ ক্ষেপণাস্ত্রেরও সফল পরীক্ষা করেছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রতিরক্ষা রপ্তানি কিংবা বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা—সব ক্ষেত্রেই ভারত ক্রমাগত নতুন উচ্চতা স্পর্শ করছে। এই মাসের শুরুতেই আমি ইন্দোনেশিয়ায় ছিলাম, যেখানে ‘ব্রহ্মোস’ ও ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির প্রতি বিশ্বজুড়ে আস্থা বাড়ছে।এই ‘কার্গিল বিজয় দিবস’-এ আসুন আমরা আমাদের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং একটি নিরাপদ, সক্ষম ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার সংকল্প আরও দৃঢ় করি। আমার প্রিয় দেশবাসী,‘মন কি বাত’-এর আগের পর্বে আমি আপনাদের সঙ্গে ‘ক্যাচ দ্য রেইন’ অভিযান নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমি আহ্বান জানিয়েছিলাম যেন বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা সংরক্ষণের এই অভিযানকে একটি গণ-আন্দোলনে পরিণত করা হয়। ‘ক্যাচ দ্য রেইন’-এর বার্তাটি অত্যন্ত সহজ: যেখানে এবং যখন বৃষ্টি পড়ে, ঠিক সেখানেই জল সংরক্ষণ করতে হবে। আর তাই, ৪ঠা জুলাই থেকে দেশজুড়ে একটি বিশেষ অভিযান চলছে। এই উদ্যোগের আওতায় বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনর্ভরণ পুরনো জলাশয়গুলির সংস্কার এবং বৃক্ষরোপণের কাজে নতুন গতি আনা হচ্ছে। গ্রাম বা শহর, পঞ্চায়েত বা সামাজিক সংগঠন—সর্বত্র মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
akb tv news
26.07.2026

