রাজ্যবাসীর এখন আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। রাজ্যবাসীর মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বেড়েছে ক্রয় ক্ষমতা । কাগজে কলমে কথাগুলি সত্যি। বাস্তবেও অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এখনও রাজধানী আগরতলায় ভিক্ষুকদের দেখা যায়। শহরের শকুন্তলা রোড, মোটরস্ট্যান্ড, নাগেরজলা সহ বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষুকদের দেখা যায়। এমনকী কোনও উৎসব, অনুষ্ঠান মেলাতেও ভিক্ষুকদের দেখা মেলে । তাদের মধ্যে শিশু, মহিলা, প্রবীন, দিব্যাঙ্গরা রয়েছেন।
এখন সমাজ কল্যান ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। প্রবীন ও দিব্যাঙ্গদের জন্য আবাস রয়েছে। শিশু ও মহিলাদের সুরক্ষায় কমিশন রয়েছে। তাদের জন্যও হোম রয়েছে। প্রশাসনের তরফে ইচ্ছা করলেই ভিক্ষুকদের শ্রেণী বিভাগ করে পৃথক পৃথক জায়গায় হোমগুলিতে সরকারি উদ্যোগে রাখা যেতে পারে। কিন্তু তা করা হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানান, বহুবার তার ভিক্ষুকদের হোমে নিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা যেতে চান না। গেলেও চলে আসেন। ফের ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন। ভিক্ষুকদের জোর করে হোমে আটকে রাখা যেমন তাদের মানবাধিকার হরণের সামিল, তেমনি উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে এমন একটি রাজ্যের রাজধানীতে শিশু থেকে মহিলা, বৃদ্ধরা ভিক্ষাবৃত্তি করবে সেটাও বেমানান। এক্ষেত্রে সরকার পথের ভিক্ষুকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট আইন প্রয়োগ করতে পারে বলে অভিমত সচেতন নাগরিকদের । যেন তাদের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হয় পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়।
রাজধানীর লক্ষ্মীনারায়ন মন্দিরের সামনে প্রায়ই কিছু ভিক্ষুককে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের বক্তব্য তারা সরকারি হোমে যাবেন না। সেখানে নাকি একপ্রকার বন্দিদের মতো কাটাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় ছাড়া খাবার পাওয়া যাবে না। বাড়িঘরে যেতে পারবেন না। বরং ভিক্ষা করে তাদের ভালই আয় হয়। অনেক খাবার পাওয়া যায়। স্বধীনভাবে তারা বাঁচতে পারেন। এই হচ্ছে বাস্তব চিত্র।
ভিক্ষুকরা যাই বলুন আর প্রশাসনের যাই অভিমত থাকুক না কেন, ভিক্ষুকদের জন্য একটি সুনিদিষ্ট গ্রাইন প্রণয়ন প্রত্যান্ত জরুরী হয়ে উঠেছে। তাতে ভিক্ষুকরা যেমন ভিক্ষাবৃতি থেকে নিস্তার পেয়ে সুরক্ষিত থাকবেন তেমনি রাজ যে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা দৃশ্যায়িত হবে।
আরশিকথা ত্রিপুরা সংবাদ
২৫ জুলাই, ২০২৬

