নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শনিবার আগরতলার সার্কিট হাউসে আন্দোলনকারীদের সাথে কথোপকথন সেরে এই ইস্যুতে সংবাদ মাধ্যমে ফের অভিমত ব্যাক্ত করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বর্ষীয়ান বাম নেতৃত্ব মানিক সরকার। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়েই আমরা প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। আমাদের দাবি ছিল, ত্রিপুরা হাইকোর্টের একজন বর্তমান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্ত করা হোক। অনুরাগের অস্বাভাবিক মৃত্যু সত্যিই অবিশ্বাস্য। অনুরাগ ধনকরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মসূত্রের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মানিক সরকার জানান, প্রায় দুই দশকের সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ধনকরকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, ধনকর এসডিপিও পদ থেকে ধাপে ধাপে উন্নীত হয়ে আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি রাজ্যের ডিজিপি হন। রাজ্যের গত আট থেকে দশ মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গ তুলে মানিক সরকার বলেন, পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের চাপ ক্রমশ বেড়েছিল। ডিজিপি হিসেবে অনুরাগ ধনকর পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এর জেরে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। মানিক সরকারের কথায়, এই পরিস্থিতিতে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে আলাদা করে দেখা যায় না। প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এমন কমিটি গঠনের অধিকার রাখে, তবে অনুরাগ ধনকরের মতো একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যুর তদন্তের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের বিচারপতি বা প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্তের যে দাবি বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে, তা সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। এতে মানুষের মনে আরও প্রশ্ন বাড়ছে।
akb tv news
25.07.2026

