নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বাংলায় প্রবাদ আছে ‘মরার উপর খারার ঘা’। এক প্রকার নাম না করে
তৃনমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চিটিংবাজ’ বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
অধিকারী। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, কেউ বাঁচাতে পারবে না অভিষেককে। যথাসময়ে সব ব্যবস্থা
নেওয়া হবে। সেবাশ্রয় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে এভাবেই
অভিষেককে একহাত নিলেন শুভেন্দু। সেবাশ্রয় নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল
সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক এফআইআর করা হয়েছে। এবার মুখ্যমন্ত্রীর
আশ্বাস, সেবাশ্রয়ে যাদের কারনে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না।‘কেউ বাঁচাতে পারবে না’ সেবাশ্রয়
নিয়ে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার, সেই বিষয়ে শনিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেন শুভেন্দু
অধিকারী। তার আগে সেবাশ্রয় নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলি একের পর এক তুলে ধরেন বিধানসভায়। তিনি
বলেন, “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের স্ক্যাম। বিষ্ণুপুরে একাধিক অভিযোগ হয়েছে।” এরপরই
অভিষেককে নাম না করে ‘চিটিংবাজ’ বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বেশ কিছু ছবি দেখান বিধানসভায়। সেবাশ্রয়ের জন্য যাঁদের
পা খোয়াতে হয়েছে, হাত খোয়ানোর অভিযোগ উঠেছে, সেই ছবিগুলি বিধানসভায় দেখান তিনি। তিনি
বলেন, “এক্সরে, ইউএসজি মেশিন বাইরে নিয়ে গিয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারদের বাইরে
নিয়ে গিয়েছে। এত খুনের মামলা, একবার ঢুকলে বেরোবে না। কেউ বাঁচাতে পারবে না। আগে তো
সবাইকে তুলব। সব মেশিন বাজেয়াপ্ত হয়েছে।”শুভেন্দু আরও বলেন, “দিলীপ মণ্ডলের গোডাউন
থেকে ২০২৫ সালের ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২০২১ সালের এক্সপায়ারি ডেটের ওষুধ পাওয়া
গিয়েছে।” এরপরই একটি চিঠির উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল
কলেজের চিকিৎসকের চিঠি। নাম রাজীব বিশ্বাস। সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগ তুলে শুভেন্দুকে চিঠি
লেখেন তিনি। সেই চিঠি বিধানসভায় পড়ে শোনান শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই সেবাশ্রয় নিয়ে
কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার, সেই তথ্য তুলে ধরেন তিনি।তিনি বলেন, “আমরা ব্যবস্থা
নিয়েছি। কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাটমিক এনার্জি বিভাগ, স্বাস্থ্য দফতরকে চিঠি দিয়েছি।
আমরা এক্স-রে মেশিন বাজেয়াপ্ত করেছি, ইউএসজি মেশিন বাজেয়াপ্ত করেছি। এক্সপায়ারি ওষুধ
বাজেয়াপ্ত করেছি। ডায়মন্ড হারবার ও নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় প্রকল্পে সরকারি যে অর্থ ব্যয়
হয়েছে, সরকারি যে ডাক্তারদের ডিউটি দেওয়া হয়েছিল , সেগুলির বিরুদ্ধে আমরা কাজ করেছি।
সিআইডি, এসটিএফ, জেলা পুলিশদের নিয়ে ব্যাপক তদন্ত হচ্ছে। সেবাশ্রয় ক্যাম্পে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকটি অভিযোগকে এফ আই আর হিসাবে নেওয়া হয়েছে। নিশ্চিন্ত থাকুন,
যাঁরা এত বড় অপরাধ করেছেন, তাঁদের ছাড়া হবে না। সময় কথা বলবে। সব প্রমাণ নেওয়া হচ্ছে।
যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্হ করেন।”
akb tv news
25.07.2026

