নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশের বাজারে চিনির সংকট চলছে। তাই এই সঙ্কট মেটাতে কার্যত নজিরবিহীন পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র সরকার। প্রায় ১০ বছর বাদে চিনি আমদানি করতে পারে ভারত। তবে চমকপ্রদ বিষয় হল, চিনি উৎপাদনে এতদিন যে ভারত শুধু স্বাবলম্বী ছিল তাই নয়, প্রতি বছর বড় অঙ্কের চিনি রপ্তানিও করত। কিন্তু এবছর ইথানল উৎপাদনের জোরালো ধাক্কায় এতটাই অভূতপূর্ব সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে বিদেশ থেকে প্রচুর চিনি আমদানির কথা ভাবতে হচ্ছে। এক সংবাদ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, মোদি সরকার প্রাথমিকভাবে ১০ লক্ষ টন চিনির আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও সেই আমদানি হবে নিশুল্ক। সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা যেভাবেই হোক দেশের বাজারে চিনির দাম কমানো। আসলে গোটা বিশ্বের চিনির চাহিদা সবচেয়ে বেশি ভারতেই। তাছাড়া সামনে উৎসবের মরশুম আসছে। দুর্গাপুজো, দিওয়ালির মত বড় অনুষ্ঠানে চিনির চাহিদা আরও বেড়ে যাবে। তাই এখন থেকে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আগামী দিনে চিনিতে হাত দেওয়াই মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। চিনির দাম বাড়লে বহু খাদ্য সামগ্রীর দামই বেড়ে যেতে পারে। তাতে সমস্যায় পড়তে পারেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। ফলে সার্বিকভাবে দেশের বাজারে বড়সড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এবছর চিনির দাম যে বাড়তে পারে সে আশঙ্কা আগেই ছিল। বর্ষা অনিয়মিত হওয়ায় আখের উৎপাদন কিছুটা মার খেয়েছে। কিন্তু সমস্যা হল, উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি ইথানল কারখানায় চাহিদা বৃদ্ধি। দেশে ইথানলের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য গত কয়েক বছরে ইথানল ফ্যাক্টারি বাড়াতে উৎসাহ দিয়েছে কেন্দ্র। ইথানল তৈরিতে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ আখের রস প্রয়োজন। বিপুল চাহিদা মেটাতে এই কারখানাগুলি কৃষকদের কাছে কিছুটা বেশি দামে আখ কিনছে। যার ফলশ্রুতিতে এই মুহূর্তে চিনি মিলগুলিতে আখের সরবরাহ কম। তাই কমছে উৎপাদন।
akb tv news
20.08.2026
ছবি- নেট থেকে সংগৃহীত ।

