নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বীর বিপ্লবী ও শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর ১১৯তম
আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার আগরতলায় প্রভাতফেরি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন
করা হয়। শহীদ ক্ষুদিরাম বসু স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে ত্রিপুরা স্টেট মিউজিয়ামের
সামনে অবস্থিত ক্ষুদিরাম বসুর মর্মর মূর্তির পাদদেশে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।এদিন
সকালে ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির পাদদেশ থেকে প্রভাতফেরি শুরু হয়। মিছিলটি আগরতলা শহরের
বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে পুনরায় ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির সামনে এসে জমায়েত হয়। পরে
সেখানে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উদ্যোক্তা
ও উপস্থিত ব্যক্তিরা। এরপর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯০৮ সালের ১১ই আগস্ট ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের
অভিযোগে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ
করেন ক্ষুদিরাম বসু। মুজফফরপুর ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ
থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মৃত্যুর আগে তাঁর দৃঢ়তা ও সাহস তাঁকে ভারতীয় স্বাধীনতা
আন্দোলনের অন্যতম স্মরণীয় বিপ্লবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল মুজফফরপুরে
ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংস ফোর্ডকে লক্ষ্য করে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী
বোমা নিক্ষেপ করেন। তবে ভুল গাড়িতে বোমা পড়ায় কিংসফোর্ড বেঁচে যান এবং গাড়িতে থাকা
কেনেডি পরিবারের দুই সদস্য নিহত হন। ঘটনার পর প্রফুল্ল চাকী পুলিশের হাতে ধরা পড়ার
আগে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে ক্ষুদিরাম বসু গ্রেফতার হন এবং পরবর্তীতে তাঁর বিচার
হয়।বিচারে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়। ১৯০৮ সালের ১১ই আগস্ট মুজফফরপুর জেলে তাঁর ফাঁসি কার্যকর
করা হয়। মাত্র ১৮ বছর ৮ মাসের কাছাকাছি বয়সে তাঁর আত্মবলিদান ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের
ইতিহাসে এক গভীর ছাপ রেখে যায়। তাঁর সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম আজও নতুন প্রজন্মকে
অনুপ্রাণিত করে।
akb tv news
11.08.2026

