হিন্দু ধর্মে শ্রাবণ মাসের সোমবারের মাহাত্মা অপরিসীম। পৌরানিক মতে দেবাদিদেব মহাদেব প্রকট হয়েছিলেন শ্রাবণ মাসে। তিনি নীলকণ্ঠ হয়েছিলেন এই মাসেই। পুরো মাসটি দেবাদিদেবের অত্যন্ত প্রিয়। আর সোমবার হলো শিবের বার। ভক্তদের বিশ্বাস এই দিনে উপবাস রেখে শিবের আরাধনা করলে ভগবান শিব সন্তুষ্ট হন । ভক্তদের মনোস্কামনা পূর্ন করেন। পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থন থেকে যে বিষ নির্গত হয়েছিল তা শিব নিজের কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন বিশ্বকে রক্ষা করার জন্যে। নীলকণ্ঠ রূপের সেই ত্যাগের মহিমা স্মরণ করা হয় এই মাসে। অবিবাহিত নারীরা ভাল বর পাওয়ার আশায় ও বিবাহিত মহিলারা স্বামী ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় শ্রাবণের প্রতি সোমবার ব্রত ও উপবাস করেন।
শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ মনে ভক্তরা শিবলিঙ্গে কাঁচা দুধ , মধু, ঘি , দধি ও গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করান। ভোলেবাবার অত্যন্তপ্রিয় বেল পাতা। তা দিয়ে পূজা করলে দেবাদিদেব খুব তুষ্ট হন। আর শিব ভক্তরা সেটাই করে থাকেন। পৌরানিক কাহিনী থেকে আরও জানা যায়, সমুদ্র মন্থনের সময় শিব বিষপান করে বিশ্বকে রক্ষা করলেও বিষের তীব্র জ্বালা জুড়াতেই দেবতারা বাবার মাথায় জল ও দুধ ঢেলেছিলেন। সেই থেকে ভক্তরা শ্রাবণের প্রতি সোমবার জলাভিষেক করেন। এই মাসেই দীর্ঘ তপস্যার পর শিবকে পতি হিসেবে লাভ করেন দেবী পার্বতী।
তাছাড়া জ্যোতিষ মতে সোমবার দিনটি চন্দ্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এটি মহাদেবের আরাধনার বিশেষ দিন। এইবছর শ্রাবণ মাসে পাঁচটি সোমবার রয়েছে। প্রতিটি সোমবারেই সর্বত্র শিব মন্দির গুলিতে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। সকাল থেকেই মন্দিরমুখী হন শিব ভক্তরা। বিশেষ করে মহিলাদেরই সংখ্যাধিক্য থাকে। ফুল, বেলপাতা, ঘি , মধু, দধি , দুগ্ধ দিয়ে পুজো দেন। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র একই চিত্র দেখা যায়। বরং উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত সমাজের মধ্যে শ্রাবণের প্রতি সোমবার শিব পূজার প্রচলন বেশী।
শ্রাবণের শেষ সোমবার শিব ভক্তরা ব্যাপক সংখ্যায় ভিড় জমান মন্দিরগুলিতে। আগের রাত থেকেই শিব ভক্তরা ভার নিয়ে বের হয়ে পড়েন। নদীর পবিত্র ঘাট থেকে জল নিয়ে পায়ে হেঁটে শিব ভক্তরা মন্দিরে যান। সেখানে পুজো দেন। পুরুষ ও মহিলারা সমান ভাবে তাতে অংশ নেন। বাজারে এখন ভার, ঘট, গেরুয়া টি শার্ট, শিবের ধ্বজা সবই পাওয়া যায়। যা শিবের এই উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলে।
আরশিকথা ত্রিপুরা সংবাদ
ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট
৯ই আগস্ট ২০২৬

.jpg)