নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বিমানে থাকা ১৭৪ জন
যাত্রী তো বটেই, আরও শয়ে শয়ে মানুষের প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা। সে সময়ে নিজের প্রাণের
ঝুঁকি নিয়ে অসীম সাহসিকতার নিদর্শন রাখেন তিনি। সতীর্থের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত
অবস্থায় লড়ে গিয়ে বাঁচান অগুণতি প্রাণ। সেই ‘হিরো’ ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারকে
প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “৯/১১-র কায়দায়
হামলা রুখেছে এক ভারতীয়।”বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লিতে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস
কমিশনের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে ভাষণ দিতে
গিয়ে তিনি বলেন, “গতকালের ঘটনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত অসাধারণ ধৈর্য, উপস্থিত বুদ্ধি ও
সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বস্তুত, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, একজন
ভারতীয় ৯/১১-র মত এক ভয়ংকর হামলা প্রতিরোধ করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “স্মিতের বাবা
ভূপেন্দ্রভাই, মা গীতাবেন এবং স্ত্রী সোনাল বেনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বর্তমানে
তাঁর চিকিৎসা চলছে। গোটা বিশ্ব তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করছে।” দেশবাসীর কাছে ওই
পাইলটের দ্রুত আরোগ্যের জন্যও প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার সকালে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই
থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। চালকের আসনে ছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। অভিযোগ,
ককপিটের ভিতর তাঁর উপর আচমকা হামলা চালান সহ-পাইলট। ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো
হয় তাঁকে। প্রায় দুই মিনিটে ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে আসে বিমানটি। তবে শেষ
পর্যন্ত বিমানে থাকা অন্যান্য পাইলট এবং বিমান কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ককপিট। গুরুতর আহত অবস্থায়
পড়েছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে
পারত। কিন্তু উড়ানটি নিরাপদে সৌদির উত্তর-পশ্চিমে, তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ
করানো হয়। ইতিমধ্যেই হামলাকারী সহ-পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে ক্যাপ্টেন
স্মিত মচ্ছার সৌদির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।
Akb tv news
01.10.2026.
ছবি-নেট থেকে সংগৃহীত।

