রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, ১৩ জুন, ২০১৮

রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

তন্ময় বনিক,আগরতলাঃ
ফের রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি। প্লাবিত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নিম্নাঞ্চলগুলি। জলস্তর বেড়ে গিয়েছে হাওড়া, খোয়াই নদী, মনু নদী, গোমতী, ফেনী নদী সহ রাজ্যের বিভিন্ন নদীগুলির। ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গতরা। উদ্ধারকার্যে নামানো হয়েছে সিভিল ডিফেন্স ও টিএসআর জওয়ানদের। 
রাজ্যে ১৮০ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ৬০৫৪ টি পরিবার এই ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয় নেয়। বুধবার(১৩জুন) বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব হেলিকপ্টারে ঊনকোটি জেলার কৈলাশহরে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। জেলাশাসক সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। নির্দেশ দেন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। বুধবার ভোর থেকে আগরতলায় হাওড়ার জলস্তর বাড়তে থাকে। প্লাবিত হয়ে পড়ে বলদাখাল, প্রতাপগড়, চানপুর সহ বিভিন্ন এলাকা। দুর্গতরা বাড়িঘর ছেড়ে বের হয়ে আসেন। 
আশ্রয় নেন অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায়। চন্দ্রপুর বিপণী বিতান, রামঠাকুর পাঠশালা সহ আগরতলার বিভিন্ন জায়গায় চারটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়। সদর মহকুমা শাসক তপন কুমার দাস জানান উদ্ধারকার্যে নামানো হয়েছে সিভিল ডিফেন্স এবং টিএসআর দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়নের জওয়ানদের। চারটি নৌকা উদ্ধারকার্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
তবে বৃষ্টি আর না হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। প্রশাসনের তরফে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান সদর মহকুমা শাসক।
এদিকে প্রতিটি জেলায় মহকুমা শহরগুলিতেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোনামুড়া, সাব্রুম, খোয়াই, তেলিয়ামুড়া, অমরপুর, কৈলাশহর, আমবাসা, পেঁচারথল সহ বিভিন্ন জায়গায় দুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে। রাজ্যের অধিকাংশ নদীগুলিতেই বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে জলস্তর। দক্ষিণ জেলার মনুঘাটে বন্যার কবলে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। বুধবার দুপুরে মনুঘাটের মনু নদীর তীর থেকে উদ্ধার হয় শংকর ত্রিপুরা নামে ঐ ব্যক্তির নিথর দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মনুঘাটের চৌকিদার পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পর্যটনমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় সাব্রুম মহকুমায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এদিকে পূর্ব টাক্কা তুলসীতে ধস পড়ে ২২ জন আহত হন। তাদের মধ্যে একজন জনজাতি সম্প্রদায়ের মহিলা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে জিবি হাসপাতালে  স্থানান্তর করা হয়েছে। দুঃসংবাদ আসে খোয়াই থেকেও। খোয়াই নদীতে তলিয়ে যান কণ্ঠমণি দেববর্মানামে এক ব্যক্তি। তার খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এদিকে কৈলাশহরেরও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পুরনো বিমানবন্দর সংলগ্ন মনু নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছে। প্লাবিত কৈলাশহরের বিভিন্ন এলাকা। কমলপুরেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এবারের বছর কিছু দিন পরপরই টানা বর্ষণে নাকাল হচ্ছেন মানুষ। 
ঘনঘন বন্যা পরিস্থিতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষিজীবীরা। নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল। ইতিমধ্যেই বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

ছবিঃ সুমিত কুমার সিংহ
১৩ই জুন ২০১৮ইং

             

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here