ভারতের নাগরিকপঞ্জি বাংলাদেশে এখন কোনো প্রভাব ফেলবে না: শ্রিংলা - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০

ভারতের নাগরিকপঞ্জি বাংলাদেশে এখন কোনো প্রভাব ফেলবে না: শ্রিংলা

আবু আলী, ঢাকা ॥
ভারতের নাগরিকপঞ্জি বাংলাদেশে এখন কোনো প্রভাব ফেলবে না। ‘যারা বাদ পড়েছেন তারা ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। পরে যেতে পারবেন ভারতের হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে। এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এটার প্রভাব নিয়ে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। যেহেতু এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যু, তাতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ‘নাগরিকপঞ্জি হালনাগাদের বিষয়টি একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ওই প্রক্রিয়ার কোনো প্রভাব পড়বে না।’
২ মার্চ সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে এক সেমিনারে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এ কথা বলেন। ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিস) আয়োজিত এই সেমিনারের শিরোনাম ছিল- ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া : এ প্রমিজিং ফিউচার’।
বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। অন্যদের মধ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ ও বিআইআইএসএস-এর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল মাসুদ আহমেদ আলোচনায় অংশ নেন।
শ্রিংলা আরও বলেন, ‘নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে এবং অনেকগুলো অভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারা থাকায় এটা অস্বীকার করা যায় না যে, আমাদের দুই দেশেরই কিছু ঘটনা কারণে বা অকারণে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো আসামে নাগরিকপঞ্জি হালনাগাদকরণ, যে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারত সরকার সম্প্রতি নাগরিকত্ব আইন (সিএএন) সংশোধন করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দুসহ কয়েকটি ধর্মাবলম্বীদের তাদের দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এই সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হিন্দুসহ এসব ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
এর আগে আসামে নাগরিকপঞ্জি প্রণয়ন করা হয়, যাতে ভারতের বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যটিতে নাগরিকের তালিকা থেকে বাদ পড়েন বহু মানুষ। আসামের অনেকের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে গিয়ে অনেকে ওই রাজ্যে আবাস গড়েছেন। গত সপ্তাহে দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি মিছিল থেকে সংঘর্ষ শুরু হলে এক পর্যায়ে তা দাঙ্গার রূপ নেয়। টানা কয়েক দিনের সংঘাতে অন্তত ৪৬ জন নিহত, যাদের অধিকাংশই আইন সংশোধনের বিরোধিতাকারী মুসলমান।
দিল্লির ওই ঘটনা বাংলাদেশেও সাম্প্রদায়িক অশান্তির শঙ্কা তৈরি করে। ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার যেভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
এ ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলা বলেন, এখানে আমি স্পষ্ট করেই বলতে চাই, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং বাংলাদেশের জনগণের ওপর এর কোনো প্রভাব থাকবে না। আমরা এই ব্যাপারে আপনাদের আশ্বস্ত করছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রথমত, নাগরিকত্ব বিল কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। দ্বিতীয়ত, নির্যাতনের শিকার হয়ে এসে যারা ভারতে আছেন, তাদেরকে দ্রুততার সঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়া এর উদ্দেশ্য। এবং তৃতীয়ত, এটি (বাংলাদেশের) বর্তমান সরকারের সময়ের জন্য কার্যকর হবে না। কার্যকর হবে ১৯৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসক ও অন্য সরকারগুলোর সময়ে, যারা এখানে সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার দেয়নি।
‘মানবিক বিবেচনা’ থেকেই ভারত সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করেছে দাবি করে শ্রিংলা বলেন, ‘বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ আছে, যারা ঘরবাড়ি ও রাষ্ট্রহীন। তারা নাগরিত্ব পাবে। আগে যেখানে ১০ বছর লাগত, সেখানে এখন লাগবে ৫ বছর।’
পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা পাঁচ হাজার মানুষকে গত পাঁচ বছরে ভারত নাগরিকত্ব দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের আইন অনুযায়ী স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এটা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সঙ্কটে ভারত সরকারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানবিক সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর যে প্রভাব ফেলছে এবং এ বিষয়ে ভারতের যে অবস্থান তা নিয়ে অনেকের আগ্রহ আছে, অনেকের আবার কিছু ‘ভিত্তিহীন ধারণাও’ রয়েছে।
‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভারত বাংলাদেশের মানবিক বোধের গভীর প্রশংসা করে, আপনারা প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন। আপনারা যে বোঝা বহন করছেন আমরা তা স্বীকার করি ও সমবেদনা জানাই।
এ সময় বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য ভারত সরকারের তরফ থেকে ত্রাণসামগ্রীর পাঁচটি চালান পাঠানোর কথা অনুষ্ঠানে মনে করিয়ে দেন পররাষ্ট্র সচিব। পাশাপাশি রাখাইনে বসতঘর নির্মাণসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

২রা মার্চ ২০২০


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here