পূজা উপলক্ষে ভারতে আসছে বাংলাদেশের ৫০০ মেট্টিক টন ইলিশ - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পূজা উপলক্ষে ভারতে আসছে বাংলাদেশের ৫০০ মেট্টিক টন ইলিশ

আবু আলী, ঢাকা ॥
পূজার শুভেচ্ছা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৫০০ মেট্টিক টন ইলিশ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এটি বাণিজ্যিক রপ্তানির বিষয় নয়, পূজার শুভেচ্ছার জন্য একটি কোম্পানিকে এ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ভারতে  বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খন্ড, মনিপুর ও মিজোরাম রাজ্যে হাজার হাজার টন পদ্মার ইলিশের চাহিদা রয়েছে। কিন্তুর গত ২০১২ সালের ১ আগস্ট  থেকে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ সংগ্রহ ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিদেশে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত  নেয়।
এরপর বহুবার ভারতীয় ইলিশ আমদানিকারকরা দিল্লি-ঢাকাকে ইলিশ আমদানি-রপ্তানি শুরু করার অনুরোধ জানান। এমনকি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও কয়েক দফায় অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ রপ্তানির অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁর ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনাকে এপারে পদ্মার ইলিশ পাঠানোর অনুরোধ করে এসেছিলেন। 
তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এটি শুভেচ্ছা স্বরূপ রপ্তানি করা হবে। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়।
বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছরই ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। মাত্র দেড় দশকের ব্যবধানে ইলিশ উৎপাদনের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে পাঁচ লাখ টনের ঘর। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮৬-৮৭ সালে দেশে ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে একলাখ ৯৫ হাজার টন। ২০০২-০৩ অর্থবছরেও ইলিশ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল একলাখ ৯১ হাজার টনের ঘরেই। কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করায় ইলিশ উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার টনে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন চার লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন পাঁচ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। এদিকে, ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বিশ্বের ৬০ শতাংশ ইলিশই উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। এ ছাড়া, ভারতে ২০ শতাংশ, মিয়ানমারে ১৫ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশ এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোয় বাকি ৫ শতাংশ ইলিশ ধরা পড়ে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্র জানায়, ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশের পরের অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইরান, ইরাক, কুয়েত, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, বাহরাইন ও ইন্দোনেশিয়া। এসব দেশের উপকূলেও ইলিশ মাছ ধরা পড়ে। তবে এসব দেশে সম্প্রতি ইলিশ উৎপাদন কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশেই প্রতিবছর ৯-১০ শতাংশ হারে বাড়ছে ইলিশের উৎপাদন। কারণ ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য বেছে নেয় বাংলাদেশের সীমানাকে। এজন্য বর্ষায় এ দেশের নদীগুলো ‘মা’ ইলিশে ভরে ওঠে। মোহনা থেকে নদীর ১২০০-১৩০০ কিলোমিটার উজানে ও উপকূল থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত সমু¿ে ইলিশ পাওয়া যায়। দিনে ৭১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে ইলিশ। সাগর থেকে ইলিশ যত ভেতরের দিকে আসে, ততই শরীর থেকে লবণ কমে যায়। এতে স্বাদ বাড়ে ইলিশের।

এ দিকে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ইলিশের অবদান এক দশমিক ১৫ শতাংশ। এদেশের মোট মাছের ১২ শতাংশই ইলিশ। এর অর্থমূল্য প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। আর ইলিশ রফতানির মাধ্যমে আসে ১৫০-৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান জানান, উপকূলীয় মৎসজীবী সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি সম্পৃক্ত। আরও ২০-২৫ লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস ইলিশ। তারা পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রফতানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।
তিনি আরও জানান, মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ এখন মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ বিশ্বে মাছ উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অনেক প্রজাতির মাছ এখন চাষ করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারিভাবেও বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মাছ চাষ হচ্ছে। মাছ চাষে আরও গবেষণা হবে। এ ছাড়া, মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইলিশ ধরা বন্ধকালীন জেলেদের নানা ধরনের সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মৃদুলা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইলিশের সঙ্গে বিশ্বের কোনও দেশের ইলিশকে মেলানো যাবে না। বাংলাদেশের ইলিশ ব্যতিক্রম। পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলে এদেশে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। এর জন্য সরকারের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। জাটকা ধরা বন্ধ করতে হবে। ইলিশকে স্বাচ্ছন্দে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে হবে।’
গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি ইলিশ একসঙ্গে কমপক্ষে ৩ লাখ ও সর্বোচ্চ ২১ লাখ ডিম ছাড়ে। এসব ডিমের ৭০-৮০ শতাংশ ফুটে রেণু ইলিশ হয়। এর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, যা পরবর্তীতে ইলিশে রূপান্তরিত হয়।

২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৯

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner