বর্ণাঢ্য আয়োজনে আগরতলায় শেখ রাসেল দিবস উদযাপন

প্রভাষ চৌধুরী, আরশি কথা।। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় শেখ রাসেল দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) আগরতলার কুঞ্জবনে সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি তিন পর্বে ভাগ করা হয়। অনুষ্ঠানের ১ম পর্ব দিনের শুরুতে সকাল ৯টায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ, ৯টা ২০ মিনিটে শেখ রাসেলসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শাহাদাৎ বরণকারী সকব সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের ২য় পর্ব সকাল ১০টায় শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, ১০টা ৫ মিনিটে শেখ রাসেলের ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্রসমূহ প্রদর্শন, ১০টা ২০ মিনিটে শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ রাসেলের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যসহ অনুষ্ঠানের তাৎপর্য তুলে ধরেন মিশনের প্রথম সচিব (স্থানীয়) ও দূতালয় প্রধান এস. এম. আসাদুজ্জামান।
সেখানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শ্রী অমিত ভৌমিক এবং অত্র মিশনের প্রথম সচিব মো. রেজাউল হক চৌধুরী প্রমুখ।
সহকারী হাইকমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন তাঁর সমাপনী বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ই আগস্টের সব শহীদকে। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন জাতির পিতার অত্যন্ত প্রিয় লেখক ছিলেন খ্যাতনামা দার্শনিক ও নোবেলজয়ী লেখক বার্ট্রান্ড রাসেল। তাই বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা দু’জনে মিলে শখ করে তাদের আদরের ছোট ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘রাসেল’। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট এই নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘৃণিত খুনিরা। এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে। কিন্তু খুনিদের সে স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে আজ বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এগিয়ে চলছে এবং শেখ রাসেল আজ কোটি শিশুর প্রতীকে পরিণত হয়েছে।



এরপর বেলা ১১টা ৪০মিনিটে ‘শেখ রাসেল দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ত্রিপুরার স্থানীয় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় শিশু-কিশোর ও নৃত্যদল তাদের পেশাদারিত্ব পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি বৈচিত্রময় বাংলাদেশের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। এ সময় আনন্দ উদ্দীপনায় মুখরিত শেখ রাসেলের শুভ জন্মদিনে সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণ একখণ্ড বাংলাদেশে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের ৩য় পর্ব সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আগরতলার ‘অন্বেষা চিলড্রেন হোম’র অনাথ শিশুদের মাঝে বিশেষ ও উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

শেখ রাসেল দিবস উদযাপন উপলক্ষে ত্রিপুরা রাজ্যে সরকারের স্বাস্থবিধি মেনে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সিভিল সোসাইটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আগরতলা মিশনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশিষ্ট শ্রেণি-পেশার মানুষ মাস্ক পরিধান করে যথাযথ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন মিশনের প্রথম সচিব (স্থানীয়) দূতালয় প্রধান এস. এম. আসাদুজ্জামান।



আরশিকথা হাইলাইটস
১৮ই অক্টোবর ২০২১


 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন