আরশি কথা

আরশি কথা

No results found
    Breaking News

    হারিয়ে যাওয়া মুখোশ ।। ছোট গল্প ।। সংযুক্তা মালাকার ।। ত্রিপুরা ।। আরশিকথা সাহিত্য

    আরশি কথা

    শারদীয় দুর্গোৎসব আসছে। কুমারটুলিতে শিল্পীরা ব্যস্ত প্রতিমা গড়ায়। চারিদিকে খড়, মাটি, রঙ আর শিল্পের গন্ধ।

    এক সকালে শিল্পী গোপাল কাকু ছুটে এলেন নিলয়ের বাড়িতে। নিলয় আপনমনে জানালার ধারে বসে ম্যাগাজিন পড়তে ব্যস্ত।

    গোপাল কাকু বললেন "নিলয়!বিপদে পড়েছি!দেবী দুর্গার মুখোশটা হঠাৎ করে উধাও!কালকেই ওটা পাঠাতে হতো পুজোর কমিটিকে!”

    নিলয় সঙ্গে সঙ্গে কুমারটুলিতে গেল।গোপাল কাকুর স্টুডিওর দরজা বন্ধ ছিল,তালা অক্ষত।কিন্তু ভিতরে দেবীর মুখোশ নেই !

    "কে কে এসেছিল এখানে গতকাল?" নিলয় জিজ্ঞাসা করল।

    গোপাল কাকু কিছুক্ষণ ভেবে বললেন  "তিনজন এসেছিল–রতন ,আমার সহকারী । মুদি দোকানের হরিলাল । আর তিতলি,আমার ভাইজি।"

    নিলয় ও গোপাল কাকু চারিদিক ভালো করে খুজতে লাগল।হঠাৎ নিলয়ের চোখ পড়ে স্টুডিওর এক কোণে।সে দেখতে পায় সেখানে কিছু মাটি পড়ে ছিল,আর সেই মাটির উপর স্পষ্ট একটা পায়ের ছাপ– ছোটো পায়ের জুতোর ছাপ।

    "হরিলালের পা অনেক বড়," নিলয় বলল।

    "রতনের জুতো তো ছেড়া– এটা নতুন জুতো।"

    তবে?

    তিতলি এসেছিল ছবি তুলতে।সে খুব পছন্দ করে গোপাল কাকুর শিল্প।

    নিলয় তিতলির কাছে গেল ।প্রথমে তিতলি কিছু বলল না।কিন্তু নিলয় যখন বলে মুখোশটা না পেলে পূজোর সময় বিপদ হবে,তখন সে কাদতে কাদতে জানাল –"আমি শুধু একটু সময়ের জন্য মুখোশটা নিয়েছিলাম ছবি আঁকবার জন্য।

    নিলয় হাসল এবং বলল "তাহলে তো তুমি শিল্পী"!

    পরের দিন মুখোশ ঠিকঠাক পৌঁছে গেল পুজো কমিটির হাতে।আর তিতলি এখন গোপাল কাকুর সঙ্গে শিল্প কাজ শেখে।


    -সংযুক্তা মালাকার

    দশম শ্রেণি

    ভবনস ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির


    আরশিকথা সাহিত্য


    ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট

    ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৫

     

    3/related/default