আরশি কথা

আরশি কথা

No results found
    Breaking News

    প্রশ্নচিহ্নের মুখে বাংলাদেশ ঃ শ্যামোৎপল বিশ্বাস

    আরশি কথা

    বেতার বাংলাদেশ বলে ঢাকা কেন্দ্র থেকে যে অনুষ্ঠান প্রচার হতো তাতে সংস্কৃতির স্পষ্ট স্বাক্ষর থাকতো। একটা সার্বজনীন আবেদন ছিল, নারী-পুরুষ-শিশু -বৃদ্ধ নির্বিশেষে সবাই কান খাড়া করে থাকতেন যাদের যাদের নির্দিষ্ট পছন্দের প্রোগ্রামের আগে‌। খুব কমই এই অনুষ্ঠান মিস করতেন তারা। পল্লীগীতি, আধুনিক গান, নাটকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হতো। রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি, লালন গীতি, কবিগান আরো অনেক সম্ভার নিয়ে হাজির হতে এক একদিন অনুষ্ঠান সঞ্চালকেরা। এক কথায় শিল্প সংস্কৃতির মুলাধার বলা চলে। শিল্প সংস্কৃতি চর্চা দিয়ে একটা জাতিকে বোঝা যায়। শিল্প সংস্কৃতি একটা জাতির মেরুদন্ড স্বরূপও বলা যায়।

    যদিও "শিক্ষা" ই জাতির মেরুদন্ড‌ হিসেবে স্বীকৃত কিন্তু পাশাপাশি শিল্প সংস্কৃতিকেও জাতির মেরুদন্ড বলা উচিত। শিল্প সংস্কৃতি কি শিক্ষা নয়? শিল্প সংস্কৃতি না থাকলে মানুষ শিক্ষা গ্রহণই করতে পারবে না। শিক্ষাকে সুললিত পদ্ধতিতে প্রেজেন্ট না করলে মানুষ গ্রহণ করবে বলে মনে হয় না। কারণ শিক্ষা বহু কঠিন। যাক্ যেটা বলছিলাম বাংলাদেশে এহেনও কৃতি, বিদ্যজনেরা ছিলেন যাদের জন্য ভারতবাসী বিশেষ করে বাঙালিরা গৌরব বোধ করতেন।  আর আজ সেই বাংলাদেশ নাম শুনলে অনেকে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে‌ন। 

    কেন এই অবনমন? কেন এই অধোগমন? প্রাচীন মেধার দেশ, তপস্বীর দেশ যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন অনেকে প্রাণও দিয়েছেন তবু আত্মশুচিতায় বাধা আসতে দেননি। এত বড় ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সবচাইতে বেশি বাঙালিরা, সেই বাঙালিরা কিন্তু এই বাংলাদেশ ভিত্তিক ছিলেন। স্বাধীনতার পরে দুটো দেশ ভাগ হয়ে যায়, পূর্ব বঙ্গ বা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিমবঙ্গ। আজ আত্মম্ভরিতা কোন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে পূর্ববঙ্গের লোকেরা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা দখলের ডাক দিচ্ছে, দেশের রাজধানী দিল্লি দখলের জিকির তুলছে। উপুর্যপরি গোটা দেশে সহিংস কার্যকলাপ জারি রেখেছে। 

    দুঃখের বিষয় এই যে দুবাই তথা আরব কান্ট্রি অর্থাৎ ইউএই UAE বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ আছে। ইউনাইটেড কিংডম UK এবং আমেরিকা অর্থাৎ ইউনাইটেড স্টেটস এর গোটা পঞ্চাশেক অঙ্গরাজ্য US country গুলোতেও ভিসা দেওয়া বন্ধ রয়েছে বিগত বছরখানেক এর ওপর ধরে। এছাড়াও বাংলাদেশীদের ভিসা দেওয়া বন্ধ আছে ইন্ডিয়া,ওমান, উজবেকিস্তান, সৌদি আরব এবং ভিয়েতনাম এ। এগুলোর মধ্যে কোথাও কোথাও বিশেষ কারণে ভিসা দিলেও খুব কড়াকড়ি এবং কঠিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দিচ্ছে যা প্রায় না দেওয়ার সামিল। এখান থেকে বাংলাদেশ কবে বেরোতে পারবে ঠিক জানা নেই তবে বর্তমানে বাংলাদেশের খুব কঠিন সময় যাচ্ছে, বিশেষ করে যারা বিদেশে কর্মরত ছিলেন এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছিল। তাদের আয় উপার্জন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশই দিশেহারা হয়ে গেছেন। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে কি হবে বলা মুশকিল।

    বাংলাদেশের আরেকটা খুব প্রচলিত কথা আছে "রেমিটেন্স যোদ্ধা"। অর্থাৎ যারা বিদেশে কর্মরত তারা একটা বড় অংশের অর্থ বাংলাদেশে পাঠায়, যার থেকে তাদের পরিবার বা মনোনীত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগে।  যারা এই টাকাটা পাঠায় তাদেরকে প্রবাসী কর্মী বলে এবং দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় উৎস হিসেবে ধরা হয়। এই অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেল, মানি ট্রান্সফার সার্ভিস, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে পাঠানো হয়। এটা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা এবং পারিবারিক আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। এবার কোন কারনে যদি সেই সমস্ত দেশগুলো এমন কোন আইন করে ফেলে যাতে রেমিট্যান্স মানি ট্রান্সফার করা না যায় তাহলে বাংলাদেশ হাঁটুগেড়ে ও দাঁড়াতে পারবেনা বলে আমার মনে হয়। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে তাহলে বাংলাদেশে কিভাবে দাঁড়াবে?


    শ্যামোৎপল বিশ্বাস

    ত্রিপুরা


    আরশিকথা অতিথি কলাম 

    ২১শে ডিসেম্বর ২০২৫

     

    3/related/default