বিদ্যাজ্যোতি খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবছরও বাগদেবীর আরাধনায় ব্রতী হয়েছে। খোয়াইয়ে এই প্রথমবারের মতো বিদ্যাজ্যোতি খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের অভিনব উদ্যোগে ৩০ ফুট উঁচু সরস্বতী দেবীর মূর্তি তৈরী করে সম্পূর্ণ সনাতনী ধর্মের রীতিনীতি মেনে পূজানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে ৭ ’টায় মণ্ডপের শুভ দ্বারোদঘাটন সমারোহ আয়োজিত হয়। এই আয়োজনের শুরুতেই বৈদিক ব্রাহ্মণ সমাজ‚ খোয়াই অঞ্চল কমিটির সম্পাদক নিঠুলাল চক্রবর্তী‚ সহ-সম্পাদক পঙ্কজ চক্রবর্তী‚ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ‚ ত্রিপুরা প্রান্তের অর্চক পুরোহিত দীপঙ্কর চক্রবর্তী‚ বিশিষ্ট পন্ডিত- পৌরহিত্য শাস্ত্রী- পৌরহিত্যে বিশারদ জয়ন্ত ভট্টাচার্য্য ও বিশিষ্ট পুরোহিত সঞ্জয় চক্রবর্তীকে নামাবলী পরিয়ে ও শ্রীমদ্ভাগবতগীতা প্রদান করে বরন করে নেওয়া হয়। এরপর পাঁচজন পুরোহিত মিলে মঙ্গলদীপ প্রজ্জ্বলন মধ্য দিয়ে মনোজ্ঞ কার্যক্রমের শুভসূচনা করেন। দ্বীপ প্রজ্জ্বলন মন্ত্র পাঠ করেন বিশিষ্ট সংস্কৃতিসেবক সৌর প্রতিম শর্ম্মা। এরপরে পাঁচজন পুরোহিত মিলে ফিতে কেটে মণ্ডপের শুভ উদ্ভোদন করেন।
উদ্ভোধনী মঙ্গল বাদ্য ধ্বনি বাজিয়েছেন অর্চক পুরোহিত দীপঙ্কর চক্রবর্তী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খোয়াই সরকারি ইংরেজি মাধ্যম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের কর্মী পরিষদের সচিব‚ বিশিষ্ট শিক্ষক রক্সন দাস। তিনি বলেন “এই বছর একটু ভিন্নধর্মী প্রচেষ্টায় মায়ের আরাধনায় ব্রতী হয়েছিলাম। আমরা ৩০ ফুট উঁচু দেবী সরস্বতীর প্রতিমা নির্মাণ করি। যেটা খোয়াইয়ের ইতিহাসে এই প্রথম। তৎসঙ্গে আমরা সনাতন ধর্মের রীতিনীতি মেনে‚ বৈদিক আচার-পদ্ধতি সবটুকু পালন করার মধ্য দিয়ে দেবী সরস্বতীকে পূজার্চনা করতে সচেষ্ট হয়েছি।। আমাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সর্বতোভাবে সফল করে তুলতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা‚ শিক্ষক-শিক্ষিকারা‚ স্কুলের প্রাক্তনীরা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। আমাদের এই প্রয়াস সর্বাঙ্গীণ সুন্দর হয়ে উঠবে যখন সমাজের প্রত্যেকে এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হবেন‚ উপকৃত হবে‚ সনাতন ভাবধারায় সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গঠন হবে।”
এরপরে পাঁচজন পুরোহিতের সমবেত কন্ঠে বৈদিক মন্ত্র পাঠ হয় এবং দেবীর অধিবাস কৃত্য সুসম্পন্ন করেন।তারপরে আবারও অর্চক পুরোহিত দীপঙ্কর চক্রবর্তী মঙ্গল বাদ্য ধ্বনি বাজিয়ে প্রথমার্ধের মণ্ডপের শুভ দ্বারোদঘাটন সমারোহের সমাপ্তি করেন। পরিশেষে খোয়াই সরকারি ইংরেজি মাধ্যম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষক বিক্রমজিৎ বরুয়া‚ অরুপ দাস‚ বিশ্বজিৎ দাস‚ প্রশান্ত দেবরায়‚ রক্সন দাসরা মিলে ‘অতস’ দেয়াল পত্রিকার উন্মোচন করেন‚ এর সম্পাদনা করেছেন এই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শুভ্রনীল বনিক।
গোটা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট সংস্কৃতিসেবক সৌর প্রতিম শর্ম্মা। এইদিন অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতাদের ভীড় ছিলো লক্ষ্যণীয়। বিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের‚ শিক্ষক-শিক্ষিকদের‚ অভিভাবকদের‚ সমাজের বিশিষ্ট গুণীজন সহ অত্র এলাকার লোকজনের উপস্থিতি‚ অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানটি সর্বতোভাবে সফল হয়ে উঠে।
আরশিকথা ত্রিপুরা সংবাদ
২২শে জানুয়ারি ২০২৬

.jpeg)

.jpeg)


.jpeg)
.jpeg)
