ফাল্গুন মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব। এবছর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথি ভক্তি ভরে শ্রাদ্ধার সঙ্গে সারা দেশের সঙ্গে রাজ্যে ও পালিত হচ্ছে। আগরতলার ধলেশ্বর স্থিত রামকৃষ্ণ মিশনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পূজার জনার মাধ্যমে ঠাকুরকে স্মরণ করা হয়।। ভক্তবৃন্দের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দিনভড় পূজা হোম প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরমহংসদেবের জন্মতিথি পালন করা হয়। প্রসঙ্গত শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ১৮৩৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কামারপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীহরির আশীর্বাদে জন্ম বলে তাঁর মা-বাবা তার নাম রাখেন গদাধর। গ্রামের সবার প্রিয় ছিল গদাধর। আর পাঁচজন ছেলের সঙ্গে তাঁর তফাৎও ছিল নজরে পড়ার মতো। সাংসারিক কাজকর্ম বা রোজগেরে লেখাপড়ায় তাঁর মন ছিল না। বাকি ছেলেদের মতো গতানুগতিক লেখাপড়া না করে সে নিজের মতো করে বিদ্যার্জন করত। গদাধর খুব সুন্দর গাইতে পারত, ছবি আঁকা আর মূর্তি গড়াতেও সে পটু ছিল। গদাধরের যখন বয়স ষোলো, তখন দাদা রামকুমারের সঙ্গে সে কলকাতা চলে আসে; বাবা মারা যাবার পর থেকে সংসারে যে আর্থিক টানাটানি চলছিল, তার সুরাহার চেষ্টাতেই বড় শহরে আসার এই সিদ্ধান্ত। এক ঐতিহাসিক সমাপতনে ঠিক এই সময়েই রাণী রাসমণি দক্ষিণেশ্বরে একটি কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু নানা সমস্যায় বাধা পেয়ে তা হয়ে উঠছিল না। রামকুমার এসে সেই সমস্যার সমাধান করলেন, এবং ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দে দক্ষিণেশ্বরে মা ভবতারিণীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হল। রামকুমার হলেন মন্দিরের প্রধান পূজারী। কিন্তু কালের বিধানে রামকুমার কিছুদিনের মধ্যেই দেহ রাখলেন। প্রধান পূজারীর ভূমিকা পেলেন গদাধর। তার গদাধর থেকে রামকৃষ্ণ হয়ে ওঠার এই শুরু। এ প্রসঙ্গে ধলেশ্বর রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ এদিন বলেন দিনভর ঠাকুরের বিশেষ পুজা যজ্ঞ হোম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভক্তরা প্রসাদ পাবে। তবে শ্রী রামকৃষ্ণ দেব সর্বদা অন্তরের বিকাশের কথা বলতেন। অর্থাৎ আত্ম নির্ভরতার কথা ঠাকুর বলতেন। যা বর্তমান সময়েও খুবই প্রাসঙ্গিক।
akb tv news
19.02.2026

