আরশি কথা

আরশি কথা

No results found
    Breaking News

    নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট গ্রহনঃ আরশিকথা কোলকাতা

    আরশি কথা

    নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা,আরশিকথাঃ


    প্রথম পর্যায়ের পর বুধবার ছোটখাট কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট গ্রহন। আগামী ৪ঠা মে ভোট গননা হবে। সেই মোতাবেক বুধবার থেকে আগামী ৪ঠা মে পর্যন্ত গনদেবতার রায় বন্দি থাকবে স্ট্রং রুমে ইভিএম মেশিনে। প্রসঙ্গত, গত ২৩শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙল বাংলা। রেকর্ড সংখ্যক ভোটদানের নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ। ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ভোটের হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। ২০১১ সালের  সব রেকর্ড ভেঙে  ২০২৬ সাল নতুন রেকর্ড গড়ল। এমনটাই বলেছে নির্বাচন কমিশন। 

    নির্বাচন  কমিশনের স্পেশ্যাল পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, দিনভর বড় কোনও অশান্তির খবর নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা অতীতের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুথে বুথে টহল ছিল সিআরপিএফের। এবার বুথ জ্যাম, ছাপ্পা ভোট কিংবা রক্তপাতের মত ঘটনা প্রায় নেই বললেই চলে বলে তিনি জানান। ২৯শে এপ্রিল বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকাল সাতটায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহন শুরু হয়। ছোটখাট কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

    প্রথম পর্যায়ের পর দ্বিতীয় পর্যায়ের দিন সকালেও সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।প্রথম দফার মত দ্বিতীয় দফাতেও রেকর্ড ভোট  দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে মহিলা ও যুবাদের ভোট দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। অশান্তি মূলক ঘটনার আশঙ্কায় এদিন সকালে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ভবানীপুরের বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন। চেতলা, চক্রবেড়িয়ার বুথে বুথে ঘুরেন তিনি। চক্রবেড়িয়ার একটি বুথে  বেশ কিছুক্ষন বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখান থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব হন তিনি।এদিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে তিনি বলেন,‘‘মনে রাখতে হবে, আমি কিন্তু এখনও চেয়ারে আছি।”মঙ্গলবার রাত থেকে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় পুলিশ, বাহিনীর তল্লাশির খবর পাওয়া গিয়েছে।

    এদিন সকালে মিত্র ইনস্টিটিউটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট দিয়ে তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত বলে আশা ব্যক্ত করেন।

    এদিন একে একে করে ভোট দিলেন হেভিওয়েট নেতা থেকে শুরু করে প্রার্থীরা। এদিন সকাল থেকেই ভবানীপুরে বিভিন্ন বুথে ঘুরছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বেলার বাড়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠে।তখন গাড়ির কাছে গিয়ে সোজা বাহিনী চেয়ে নির্বাচন কমিশনে ফোন করেন শুভেন্দু। এদিকে, বুধবার ভোট চলাকালীনই জগদ্দলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিশ্বজিৎ পাত্রকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, ভোটের আগে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে জগদ্দল-সহ একাধিক এলাকা। কখনও বিজেপি-তৃণমূল সংঘাতের অভিযোগ, আবার কখনও বোমাবাজির ঘটনাও ঘটেছে। বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হন এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানও। ঘটনায় কড়া অবস্থান নেয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে সমস্ত অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও ভোট দ্বিতীয়ার সকাল থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটে জগদ্দল-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। এরপরই জগদ্দলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিশ্বজিৎ পাত্রকে সাসপেন্ড করে  কমিশন। তবে এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে সরকারিভাবে কিছু জানায় নি।

     শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখতে বুধবার রাস্তায় নেমে কড়া নজরদারি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি তথা এন আই এ। একাধিক স্পর্শকাতর  এলাকায় ঘুরে পরিদর্শন করেছে এনআইএ-র দল। তাঁদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের একটি দিল। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে রাস্তায় নেমে নজরদারি শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে, ফলতায় একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ কমিশনের। সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, দরকার হলে গোটা ফলতা বিধানসভাতেই রিপোল হবে।সেক্ষেত্রে অবজারভারদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে কমিশন। বহু বুথে অনিয়মের অভিযোগ এলে, গোটা বিধানসভাতেই রিপোল হবে বলে জানিয়েছেন সিইও। তিনি বলেন, “যেখানে  যেখানে টেপ পাওয়া গিয়েছে, ওয়েব কাস্টিংয়ে দেখেছি, যা অবজারভার রিপোর্ট এসেছে, ওখানে জিরো টলারেন্সে পদক্ষেপ করা হবে। আমরা আগাম বললাম, এই জায়গা ছাড়াও যেখানে যেখানে পাওয়া যাবে রিপোল হবে।” যেখানে আতর পাওয়া গিয়েছে, সেখানেও রিপোল হবে। তবে সব কিছুকে পেছনে ফেলে এদিন প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারদেরকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যায়।

    তবে আগামী ৪ঠা মে দেখা যাবে শেষ হাসি কে হাসবে। সেদিকেই নজর এখন দেশবাসীর। 


    আরশিকথা কোলকাতা সংবাদ


    ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট

    ২৯শে এপ্রিল ২০২৬  

     

     

    Tags
    3/related/default