নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মূলত বৈশাখের শুরুতেই কার্যত অগ্নিগর্ভ গোটা
দেশ। সূর্য যেন আগুন ঢালছে আকাশ থেকে। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবথেকে উত্তপ্ত ২০টি
জায়গার মধ্যে ১৯টিই রয়েছে ভারতের মানচিত্রে। AQI.in-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে
তাপপ্রবাহের ভরকেন্দ্র এখন ভারত। এর থেকে বাদ যায়নি বাংলাও।
আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, এখনই রেহাই নেই। বিশ্বের সবচেয়ে তপ্ত শহরগুলির
তালিকায় একযোগে এক নম্বরে রয়েছে বিহারের ভাগলপুর, ওড়িশার তালচের এবং পশ্চিমবঙ্গের
আসানসোল। এই তিন জায়গাতেই তাপমাত্রা রেকর্ড ৪৪ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। এর ঠিক পরেই ৪৩
ডিগ্রি সেলসিয়াসে পুড়ছে বিহারের বেগুসরাই, মোতিহারি, মুঙ্গের, ভোজপুর, সিওয়ান এবং
উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। আশ্চর্যের বিষয় হল, বিশ্বের সেরা ২০-র তালিকায়
ভারতের বাইরে একমাত্র জায়গা হল নেপালের লুম্বিনি। আবার ২০টির মধ্যে ১৯টি ভারতের।
তার মধ্যে ৮টি বাংলার। তার মধ্যে আছে আসানসোল, বাঁকুড়া, রায়গঞ্জ, বীরভূম,
দুর্গাপুর, কুলটি ও দলরবন্দ ও পশ্চিম মেদিনীপুর। আগামী
কয়েকদিন দেশের একটা বড় অংশে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি থাকবে বলে আবহাওয়া দপ্তর
জানিয়েছে। উত্তর-পশ্চিমি শুকনো গরম হাওয়ার দাপটেই এই তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রাক-বর্ষা মরসুমে তীব্র
সৌর বিকিরণ এবং বায়ুমণ্ডলের শুষ্কতার কারণেই ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে।
এপ্রিলের শুরু থেকেই উত্তর ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে লু-এর দাপট শুরু হয়েছে।
আগামী কয়েক দিন এই তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি বা তার বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা একে জলবায়ুর চরম অস্থিরতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।প্রসঙ্গত,
২০২৪ সালে অত্যধিক গরমে ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৪১,৭৮৯ জন অসুস্থ হয়েছিল। তারা
গরীব শ্রেণীর লোক ছিল। তাদের কাছে এসি বা শীতল হওয়ার কোন প্রক্রিয়া ছিল না। তাই আই
এম ডি, পরিবারের বয়োজেষ্ঠদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান
করার পরামর্শ দিয়েছে।
24.05.2026

