নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আগরতলা
শহরের রোমহর্ষক বোধিসত্ত্ব হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অবশেষে বেকসুর খালাস
পেলেন সুমিত বণিক ও সুমিত চৌধুরী। মঙ্গলবার উচ্চ আদালত এই নির্দেশ দেয়। উল্লেখ্য,
২০১৯ সালে আগরতলার জ্যাকসন গেইট এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা বুদ্ধিসত্ত্ব দাসকে হত্যা
করা হয়। যিনি ধর্মনগর ইউকো ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালের
তেসরা আগস্ট মধ্যরাতে আগরতলার জ্যাকসন গেইট এলাকায় বুদ্ধিসত্ত্ব দাস তাঁর এক
বন্ধুর সঙ্গে সেখানে বসেছিলেন। সেই সময় কয়েক জন ব্যক্তি রাস্তার পাশে মদ্যপ
অবস্থায় অশোভন আচরণ করছিল। বিষয়টি নিয়ে বুধিসত্ত্ব আপত্তি জানালে তর্কাতর্কি
শুরু হয় এবং পরে তা মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ, তাঁকে ধারালো অস্ত্র ও
ভাঙা বোতল দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে বুদ্ধিসত্ত্বকে আগরতলার
জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় স্থানান্তর
করা হলেও কয়েকদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।এই হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা
হয়েছিল। ট্রাফিক পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর সুকান্ত বিশ্বাস, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমিত চৌধুরী, তাছাড়া সুমিত
বণিক ও ওমর শরীফকে আটক করেছিল পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় চার বছর বিচার প্রক্রিয়া চলার
পর ২০২৩ সালের জুন মাসে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ও দায়রা আদালত চার অভিযুক্তকেই দোষী
সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। আদালত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও
করে। মামলায় মোট ৫৬ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মামলায়
জড়িত দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার এই মামলায়
হাইকোর্ট সুমিত সুমিত বণিক ও সুমিত চৌধুরীকে বেকসুর খালাস করে দেয়। এদিন
এব্যাপারে বিস্তারিত জানান অপরাধী পক্ষের আইনজীবী সুব্রত সরকার।
26.05.2026

