তোমার আয়ত চোখ আর তীব্র কলমের কথা মনে পড়লেই, ভরা জ্যৈষ্ঠের আগুন গরমে হঠাৎ পাগল বৃষ্টি নামে। মাদল বাজে, বাজে বাঁশের বাঁশি•••
তোমার গানে পুরুলিয়ার পাখি-পাহাড় উড়ে এসে দাঁড়ায় আসানসোলের সেই রুটির দোকানের সামনে, যেখানে গনগনে আগুনে কচিকাঁচা দুখুমিয়াঁ, রুটি সেঁকার মুহূর্তে অন্যমনস্ক হয়ে দেখছে রাঢ় বাংলার প্রথম বর্ষা।
ও নজরুল, ও দুখুমিয়াঁ, রবীন্দ্রনাথ যখন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে--বাংলার মাটি বাংলার জলে•••
তখন, সেই ১৯০৫ সালে, তুমি ছিলে মাত্র ছ়'বছরের শিশু ভোলানাথ। তারপর ?
সেই ভালোবাসা, বিদ্রোহ আর সম্প্রীতির জন্য কালি,কলম ও মনকে এক করে, সুস্থতার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কী অপ্রতিরোধ্য প্রেমিক-বিদ্রোহী ! আহা!
ঢাকা বা কলকাতা, অথবা রাঙাধুলোর চুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বেলা আটটা-নটার সূর্য ; এমনকি, ছায়াহীন বেলা বারোটার অগ্নিদেবও অবাক তাকিয়ে আছে দুখু মিয়াঁ থেকে ক্লান্তিহীন মহাবিদ্রোহী নজরুলের দিকে ! মানবতা গেয়ে ওঠে--
এদেশ আকাশের মতো সম্প্রীতির,
এদেশ ভালোবাসার জন্য নির্বাণহীন অভিমানের,
এদেশ দুই বাংলার হৃদয়ের কাছে ভাগ না হওয়া নজরুলের।
আরণ্যক বসু
কোলকাতা
আরশিকথা সাহিত্য
ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট
১০ই জুন ২০২৬

.jpg)