ক্ষমতা - পদমর্যাদা - অর্থ - বিশ্বাস - নির্ভরতা - সম্মান এই কয়েকটি বিষয় কি একে অপরের সাথে জড়িয়ে আছে ? যদি জড়িয়েই থাকে তাহলে সমাজে এর প্রভাব কি ?
উপরের প্রশ্নগুলি জটিল মনে হলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন, দেখে নেওয়া যাক এগুলোর প্রভাব কি এবং কতোটা।
ক্ষমতা শব্দটি ক্ষেত্র বিশেষে শক্তি, সামর্থ্য বা দক্ষতাকে নির্দেশ করে।একেবারে প্রাথমিক স্তরে, ক্ষমতা হলো কোনো কিছু করার বা করিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য। অন্যের উপর নিয়ন্ত্রণ, কর্তৃত্ব বা প্রভাব থাকা ক্ষমতার একটি বিশেষ দিক।
সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর পরিচালনার জন্য ক্ষমতা ও পদমর্যাদা অপরিহার্য। এটি নেতৃত্বের অধিকার প্রদান করে এবং দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার মাধ্যমে সুশাসন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে।
মানবজীবনে ক্ষমতা ও অর্থক্ষমতার ভূমিকা অত্যন্ত গভীর এবং ব্যাপক।অর্থশালী ব্যক্তিরা সমাজে সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। আধুনিক যুগে অর্থক্ষমতা ও ক্ষমতা সমার্থক হিসেবেও কাজ করে। অর্থ সহজেই রাজনৈতিক বা সামাজিক ক্ষমতা কিনে আনতে পারে, আবার ক্ষমতা ব্যবহার করেও বিপুল অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। তবে ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ না হলে তা স্বৈরতন্ত্র বা দুর্নীতির জন্ম দিতে পারে।
মানবজীবনে ক্ষমতা, বিশ্বাস এবং নির্ভরতা একে অপরের পরিপূরক। ক্ষমতা সামর্থ্য দেয়, বিশ্বাস আমাদের লক্ষ্য স্থির করে এবং নির্ভরতা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানসিক শক্তি ও প্রশান্তি জোগায়। এই তিনটি উপাদান সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সাফল্য ও স্থিরতা আসে বলে অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন।
জীবন ও সমাজে 'ক্ষমতা' এবং 'সম্মানবোধ' (আত্মমর্যাদা) অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষমতা হলো কোনো কাজ করা বা অন্যকে প্রভাবিত করার সামর্থ্য, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সমাজ ও দেশের উন্নয়ন সম্ভব। অন্যদিকে, সম্মানবোধ হলো নিজের মূল্য ও আত্মমর্যাদার প্রতি আস্থা, যা একজন মানুষের নৈতিক চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গঠন করে। নিজের সম্মানবোধ ঠিক থাকলে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও সৌজন্যবোধ তৈরি হয়। এটি সমাজে পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার মূল ভিত্তি। সঠিক সম্মানবোধ মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে এবং নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে শেখায়। ক্ষমতা সঠিক পথে পরিচালিত হলে তা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ক্ষমতার সাথে সম্মানবোধ এবং বিনয় না থাকলে তা স্বৈরতায় পরিণত হতে পারে।
উপরের সবকটি বিষয়ে নজর রাখলে বোঝা যায় একজন পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি যার অন্যের উপর নিয়ন্ত্রণ, কর্তৃত্ব বা প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রয়েছে, যাকে মানুষ বিশ্বাস ও সম্মান প্রদানের মধ্য দিয়ে নির্ভর করে এবং যার অর্থক্ষমতাও আছে তিনি অবশ্যই দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার মাধ্যমে সুশাসন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।
আমরা সাধারণ মানুষেরা বরাবরই ক্ষমতাবান মানুষদের প্রতি আস্থাশীল থাকি। সেখানে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়েই প্রগতিশীল সমাজ গঠনে আমরা একে অপরের হাত ধরি। আজকাল ক্ষমতা লাভ করার পূর্বাবস্থা এবং লাভ করার পরের অবস্থার মধ্যে কোথাও কোথাও ফারাক দেখা যায়। কিন্তু যারা সঠিক অর্থেই ক্ষমতাধর তাদের সামাজিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে কোন পদমর্যাদা বা অধিক অর্থক্ষমতার অধিকারী হতেই হবে এমন কোন কথা নেই। মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস, নির্ভরতা ও সম্মানবোধে দায়িত্বশীল থাকলে এসবের কতোটা প্রয়োজন আছে তা এখনও প্রশ্নচিহ্নের মুখে। কারণ ক্ষমতা বা পদমর্যাদা হারানোর পরের চিত্রগুলো খুবই করুণ তা সকলেই দেখি বা শুনে থাকি।
আসুন, আমরা দায়িত্বশীল থেকে সকলের আস্থা অর্জন করে সুশীল সমাজ গঠনে আরও উদ্যোগী হই। ক্ষমতা এবং পদমর্যাদার মূল ভিত্তিই হচ্ছে দায়িত্ববোধ এবং আস্থা অর্জন।
প্রধান সম্পাদকের কলমে
@ভালো থাকুন সকলে
ছবি ও তথ্যঋণঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট
৩রা জুলাই ২০২৬

