নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
অসমের ট্রাইব্যুনালে
নাম বাতিল হওয়া ২৭ জনকে সাময়িক স্বস্তি দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা
হয়েছে, ‘নাগরিকত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ফলে এই প্রক্রিয়া অবশ্যই ন্যায্য,
স্বচ্ছ এবং ন্যায়সঙ্গত ভাবে হওয়া উচিত।’নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে একাধিক নথি পেশ
করার পরও নামের ভুল ও প্রযুক্তিগত সামান্য ত্রুটিকে হাতিয়ার করে ২৭ জনকে বিদেশি
ঘোষণা করেছিল অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি হাইকোর্টেও
আবেদন জানিয়ে কোন লাভ হয়নি। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান তাঁরা। ওই ২৭ জনের
অভিযোগ, নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য আবেদনকারীরা ১৯৭১ সাল থেকে পুরোনো ভোটার
তালিকা, জমির দলিল এবং পারিবারিক বংশ তালিকা-সহ বিভিন্ন নথি পেশ করেছিলেন। কিন্তু
তারপরও তাঁদের বিদেশি ঘোষণা করা হয়। সোমবার এই মামলার এই মামলার শুনানি ছিল
বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চে।
মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের তরফে গুয়াহাটি হাই কোর্ট ও ট্রাইব্যুনালের
নির্দেশের উপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওই ২৭ জনের
বিরুদ্ধে কোনও রকম কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। আদালত আরও জানিয়েছে, যারা আইনত
ভারতীয় নাগরিক নন, তারা যেন প্রতারণা বা জাল নথিপত্রের মাধ্যমে নাগরিকত্ব না পায়,
তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। ফলে এই বিষয়ে সরকারের উদ্বেগ সঙ্গত। তবে সেই
প্রক্রিয়া যেন কোনওভাবে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব না ফেলে। এই
উদ্দেশ্যতে কারও প্রতি অবিচার করার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বদা স্বচ্ছতার
সঙ্গে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায়
জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্বের মত একটি সংবেদনশীল বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র
প্রযুক্তিগত ত্রুটির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া যায় না।
akb tv news
13.07.2026

.jpg)