আরশি কথা

আরশি কথা

No results found
    Breaking News

    কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ও প্রাসঙ্গিকতা ।। কলমে- মৃণাল কান্তি পণ্ডিত ।। ত্রিপুরা ।। আরশিকথা হাইলাইটস

    আরশি কথা

    'এ'দেশে জন্মে পদাঘাতই শুধু পেলাম' -- এই একটি লাইনেই যে কবির খেদ উচ্চারিত হয়েছিল, তিনি হলেন কিশোর বিদ্রোহী কবি, সর্বহারার কবি, বেদনার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। 

               ১৯৪৩- এর মন্বন্তর (দুর্ভিক্ষ) ও যুদ্ধের নির্মমতা --- তাঁর সুকোমল অনুভূতিকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিয়েছিল। তাইতো তিনি তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'হে মহাজীবন' - এ লিখলেন, 

            'হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়/ এবার কঠিন, কঠোর গদ্য আনো,/ পদ-লালিত-ঝংকার মুছে যাক/ গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!/ প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা --- / কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,/ ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়;/ পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি!

            'পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি!' তখন সেটি কেবল তাঁর কল্পনা ছিল না। এটি ছিল ক্ষুধার্ত পেটে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকা এক কিশোরের বাস্তব অভিজ্ঞতা।  

             কৈশোরে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য চোখের সামনে দেখেছেন কলকাতার রাস্তায় লাখ লাখ মানুষকে ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করতে। দেখেছেন ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট নিয়ে কুকুরের সাথে মানুষের লড়াইয়ের দৃশ্য।

             চারপাশের এই চরম মানবিক বিপর্যয় তাঁর সংবেদনশীল মনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। আর তাইতো ক্ষুধার্ত মানুষের এই আর্তনাদই তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু হয়ে উঠে, যা 'আকাল' সংকলনে এবং 'ছাড়পত্র' কাব্যের বিভিন্ন কবিতায় ফুটে উঠেছে। তিনি খুব কাছে থেকে লক্ষ্য করেছিলেন প্রান্তিক মানুষের শোষণ এবং পুঁজিপতিদের অত্যাচার। এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর মধ্যে জন্ম নেয় তীব্র দোহ ও প্রতিবাদের ভাষা। তাঁর 'রানার', 'আঠারো বছর বয়স' বা 'বিদ্রোহেরগান' কবিতাগুলো এই মাঠপর্যায়ের লড়াই থেকেই অনুপ্রাণিত। তিনি বুঝেছিলেন যে দারিদ্র্য ও পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থাই তাঁর মতো হাজারো তরুণকে অকালে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ক্ষোভ ও যন্ত্রণা তাঁর কবিতাকে আরও বেশি ধারালো ও বিদ্রোহী করে তুলেছিল। 

             সাহিত্যিকদের সৃষ্টি কখনোই তাঁদের জীবন-বাস্তবতার বাইরে গিয়ে তৈরি হয় না; কবি সুকান্তের ক্ষেত্রেও এই নিয়মটি অক্ষরে অক্ষরে সত্য। 

            কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, কিন্তু প্রচণ্ড সংগ্রাম ও দারিদ্র্যে ভরা। নিচে তাঁর জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরলাম:

    ১. জন্ম ও বংশপরিচয়

    জন্ম: তিনি ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার মহিম হালদার স্ট্রিটের মাতুলালয়ে (মামার বাড়িতে) জন্মগ্রহণ করেন।

    পৈতৃক নিবাস: তাঁর আদি পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার উনশিয়া গ্রামে।

    পিতা-মাতা: তাঁর বাবার নাম নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য (যিনি একজন বই ব্যবসায়ী ছিলেন) এবং মায়ের নাম সুনীতি দেবী। 

         ২. শৈশব ও মাতৃহানি

    সুকান্তের শৈশব কেটেছিল কলকাতার বেলেঘাটা অঞ্চলের ৪১ নম্বর রেদোয়ানি লেনের (বর্তমান সুকান্ত বীথি) বাড়িতে। তাঁর বয়স যখন খুব কম, তখনই তিনি তাঁর মাকে হারান। মায়ের এই অকালমৃত্যু তাঁর কোমল মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তীতে তাঁর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন, ফলে সুকান্ত সৎ মায়ের সংসারে বড় হন। 

       ৩. শিক্ষাজীবন

    সুকান্তের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন খুব একটা মসৃণ ছিল না:

    তিনি কলকাতার 'কমলা হাই স্কুল'-এ ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই মাধ্যমিক (মেট্রিকুলেশন) পরীক্ষায় অংশ নেন।

    কিন্তু ছাত্রাবস্থা থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সমাজসেবামূলক কাজে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়ার কারণে ১৯৪৫ সালে তিনি প্রবেশিকা (মেট্রিক) পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। এরপর তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি ঘটে। 

       ৪. রাজনৈতিক জীবন ও সমাজসেবা

    কবি সুকান্ত শুধু ড্রয়িংরুমে বসে সমাজতন্ত্রের তত্ত্ব পড়েননি। কৈশোরেই তাঁর মনে সমাজতান্ত্রিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (CPI) সঙ্গে যুক্ত হয়ে সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে বস্তি, চটকল এবং মেহনতি মানুষের মাঝে দিনরাত কাজ করেছেন। ছাত্র অবস্থাতেই তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি। তৎকালীন বঙ্গের ছাত্রনেতা অন্নদাশঙ্কর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে তিনি একজন তরুণতম দায়িত্বশীল সদস্য ও কর্মী হিসেবে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে ঘনিষ্ঠ হন। ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃত্বে তিনি গঠন করলেন 'কিশোর বাহিনী'। ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ 'পঞ্চাশের মন্বন্তরের' (দুর্ভিক্ষ) সময় তিনি ক্ষুধার্ত মানুষের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি 'ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘ'-এর সাথে যুক্ত হয়ে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য তহবিল গঠনে "আকাল" নামক একটি সংকলন গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। ১৯৪৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টির দৈনিক পত্রিকা 'স্বাধীনতা'-র কিশোর সভা (কিশোরদের পাতা) বিভাগের সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। 

            ৫. অভাব, অসুস্থতা ও অকালপ্রয়াণ

    সুকান্তের জীবন ছিল চরম দারিদ্র্য ও অনাহারে ভরা। পার্টির কাজের জন্য তিনি দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন, নিজের স্বাস্থ্যের দিকে বিন্দুমাত্র নজর দিতেন না। অতিরিক্ত পরিশ্রম, অপুষ্টি এবং দারিদ্র্যের কারণে মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি মারাত্মক যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার সময়ও তিনি সমাজের এই বৈষম্যকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। 

    অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতার যাদবপুরের রেডিয়ো থেরাপি হাসপাতালে (বর্তমান কুমার শঙ্কর রায় যক্ষ্মা হাসপাতাল) মাত্র ২০ বছর ৮ মাস বয়সে এই মহান কবি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

            ## একটি দুঃখজনক তথ্য:

            *কবি সুকান্ত তাঁর জীবদ্দশায় নিজের কোনো কাব্যগ্রন্থের প্রকাশ দেখে যেতে পারেননি। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর বন্ধু, বিখ্যাত কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় এবং পরিবারের উদ্যোগে তাঁর প্রথম বই 'ছাড়পত্র' প্রকাশিত হয়, যা বাংলা সাহিত্যে ইতিহাস সৃষ্টি করে।

            * প্রাসঙ্গিকতা 

            কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বর্তমান যুগেও সমানভাবে, বরং কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। কবি সুকান্ত তাঁর মাত্র ২০ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে যে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য, ক্ষুধা, অনাচার ও পুঁজিবাদের আগ্রাসন প্রত্যক্ষ করেছিলেন, একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক সমাজেও সেই সমস্যাগুলো ভিন্ন রূপে বিদ্যমান। ফলে তাঁর দ্রোহ, প্রতিবাদ ও সাম্যবাদী চেতনা আজও শোষিত মানুষের মুক্তির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ও অনুপ্রেরণা। 

    আজকের সময়ে সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রাসঙ্গিকতার মূল দিকগুলো নিয়ে কিছু আলোচনা:

               ## ১. ক্ষুধা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বাস্তব চিত্র:

              সুকান্ত তাঁর কবিতায় রোমান্টিকতার চেয়ে বাস্তবতাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। আজকের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, কর্পোরেট সংস্কৃতির শোষণ এবং চরম ধনী-দরিদ্রের ব্যবধানের যুগে তাঁর কবিতার পঙতিগুলো নির্মম সত্য হিসেবে সামনে আসে: 

             * "ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় / পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি!" — এই অমোঘ বাণী আজকের দিনেও কোটি কোটি অনাহারী ও নিম্নবিত্ত মানুষের ক্ষুধার তীব্র লড়াইকে প্রতিধ্বনিত করে।

             ## ২. পুঁজিবাদের আগ্রাসন ও সাধারণ মানুষের অধিকার:

            * বর্তমান বিশ্ব এখন পুঁজিপতি ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণে। সুকান্ত তাঁর কবিতায় মজুতদার, কালোবাজারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। আজ যখন সাধারণ মানুষ তাঁদের নূন্যতম অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তখন সুকান্তের কবিতা অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে উদ্দীপনা জোগায়: 

           * "বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে" — এই লাইনটি সমসাময়িক যেকোনো গণ-আন্দোলন ও নাগরিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে পোস্টার বা স্লোগান হিসেবে আজও অবধারিতভাবে ফিরে আসে। 

            ## ৩. শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও জয়গান

    যন্ত্র ও প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগেও শ্রমিক ও সাধারণ মেহনতি মানুষের শ্রমকে শোষণ করা বন্ধ হয়নি। সুকান্তের বিখ্যাত 'রানার' বা 'দিয়াশলাই কাঠি'-র মতো কবিতাগুলো সমাজ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সাধারণ ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের ভেতরের অন্তর্নিহিত শক্তিকে মনে করিয়ে দেয়। একটি দিয়াশলাই কাঠি যেমন পুরো সাম্রাজ্যকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে, তেমনই অবহেলিত সাধারণ জনগণও যেকোনো স্বৈরাচারী শক্তির পতন ঘটাতে পারে — এই চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক। 

             ## ৪. তরুণ প্রজন্মের জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা:

             * সুকান্তের কবিতা আজও তরুণ সমাজকে স্থবিরতা, হতাশা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার দীক্ষা দেয়। আজকের যুবসমাজ যখন ক্যারিয়ারের ইঁদুরদৌড় আর যান্ত্রিকতায় দিশেহারা, তখন সুকান্তের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি তাঁদের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে।

            ## ৫. অনাগত ভবিষ্যতের জন্য এক বাসযোগ্য পৃথিবী:

            * কবি সুকান্ত নিজে স্বাধীনতার নবোদয় দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু তিনি নবজাতকের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা আজও আমাদের পরিবেশগত ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে বড় অঙ্গীকার:

            * "এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার" — জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধবিগ্রহ এবং হিংসায় জর্জরিত বর্তমান বিশ্বে একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য এই অঙ্গীকার আজ সবচেয়ে বেশি জরুরি। 

               * সংক্ষেপে বলতে গেলে, সুকান্ত ভট্টাচার্য কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের বা কমিউনিস্ট আন্দোলনের কবি ছিলেন না। মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক লড়াই, মানবিকতা ও সামাজিক সাম্য যতদিন অধরা থাকবে, ততদিন সুকান্তের কবিতা প্রতিটি সাধারণ মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকবে। 

        ‌     * কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের চিন্তাভাবনা ও আদর্শ যদি আজকের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে তা একটি সুস্থ, বৈষম্যহীন এবং প্রগতিশীল দেশ গঠনে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

    কিশোর কবির ভাবধারা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে প্রসারিত হলে দেশ কীভাবে এগিয়ে যাবে, তার সুনির্দিষ্ট দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

            ## ১. মেরুদণ্ড সোজা করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা:

            * আজকের যুবসমাজের একটা বড় অংশ অন্যায় দেখেও অনেক সময় ক্যারিয়ারের ক্ষতি বা ঝামেলার ভয়ে চুপ থাকে, যা কখনোই কাঙ্ক্ষিত নয়। সুকান্তের 'আঠারো  বছর বয়স'-এর চেতনা তরুণদের শেখায় কীভাবে বিপদে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হয়। এই ভাবনা প্রসারিত হলে:

            * তরুণরা যেকোনো সামাজিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোজা হয়ে দাঁড়াবে।

            * দেশে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নাগরিক সমাজ গড়ে উঠবে।

            ## ২. আত্মকেন্দ্রিকতা দূর করে সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশ:

             * বর্তমান ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্ম অনেকটাই ভার্চুয়াল জগৎ এবং আত্মকেন্দ্রিকতায় (Self-centricity) বন্দি। সুকান্তের কবিতা শেখায় সমষ্টির কথা ভাবতে, দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

            * তরুণরা যেন শুধু নিজের ভালো না ভেবে, দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের কথাও ভাবে।

            * স্বেচ্ছাসেবা, সামাজিক উন্নয়ন এবং আর্তমানবতার সেবায় যুবসমাজের অংশগ্রহণ খুবই প্রয়োজন। 

            ## ৩. মেহনতি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও শ্রমের মর্যাদা:

            * সুকান্ত তাঁর কবিতায় কুলিমজুর, রানার, বা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে সমাজের নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছেন। আমাদের দেশে আজও কায়িক শ্রমকে নিচু নজরে দেখার একটি প্রবণতা রয়েছে। 

            * সুকান্তের আদর্শ তরুণদের মনে সব পেশার প্রতি সমান শ্রদ্ধা বা 'শ্রমের মর্যাদা' (Dignity of Labor) তৈরি করবে। তারজন্য প্রয়োজন কবি সুকান্তকে নিয়ে আলোচনা ও চর্চা।

           * তরুণ প্রজন্ম সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হলে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার সামাজিক বৈষম্য ও মানসিক দূরত্ব ঘুচে যাবে- এ আমার বিশ্বাস।

            ## ৪. দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জাগরণ:

            * সুকান্তের সাম্যবাদী চেতনা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, জাত বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মুক্তি। 

            * তরুণদের মধ্যে এই অসাম্প্রদায়িক ভাবনা ছড়ালে ধর্মীয় বা জাতিগত বিভেদ হ্রাস পাবে।

            * "সবার ওপরে মানুষ সত্য" — এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তরুণরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে পারবে।

            ## ৫. একটি সুন্দর আগামী ও বাসযোগ্য দেশ গড়ার অঙ্গীকার:

    কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য নবজাতকের জন্য বিশ্বকে বাসযোগ্য করার যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তা আজকের তরুণদের পরিবেশ সচেতন এবং দূরদর্শী হওয়ার জন্য অনেক অনেক প্রাসঙ্গিক।

             * তরুণরা জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে (Sustainable Development) নেতৃত্ব দেবে।

             * তারা এমন এক দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলবে, যা কেবল বর্তমানের স্বার্থ না দেখে দেশের অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভাববে।


    ## উপসংহার:

    কবি সুকান্ত যদি এক জন বিলাসী বা সচ্ছল পরিবারের সন্তান হতেন, তবে হয়তো বাংলা সাহিত্য আরও এক জন দুর্দান্ত রোমান্টিক কবি পেত। কিন্তু জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতা, অভাব এবং মেহনতি মানুষের সাথে তাঁর একাত্মতা--  তাঁকে বানিয়েছিল "কিশোর কবি" থেকে "গণমানুষের কবি"। তাঁর জীবনটাই ছিল একটা জীবন্ত কবিতা, যার প্রতিটি অক্ষরে মিশে ছিল ক্ষুধা আর বিদ্রোহের আগুন। যে দেশ যুবসমাজের কাঁধে ভর করে চলে, সেই দেশের যুবসমাজ যদি সুকান্তের মতো সংবেদনশীল, সাহসী এবং প্রগতিশীল মননের অধিকারী হয়, তবে দেশের অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না। তাই পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক চর্চায় সুকান্তকে আরও বেশি করে তরুণদের সামনে উপস্থাপন করা আজ সময়ের দাবি।

          * বর্তমান প্রজন্মের জন্য আমার চিন্তা ভাবনা নিয়ে কিছু আলোচনা: 

          * বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সুকান্তের চেতনা ও প্রগতিশীল ভাবধারা ছড়িয়ে দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক স্তরে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তরুণদের শুধু যান্ত্রিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করে সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি।

           * তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবসম্মত কিছু পদক্ষেপ নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আমার আলোচনা তুলে ধরলাম:

            ## ১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করণীয় (Academic Level)

    বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তরুণদের মানসিকতা গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে:

             * পাঠ্যসূচির আধুনিকীকরণ: কেবল বাংলা সাহিত্যের অংশ হিসেবে নয়, সুকান্তের কবিতার সামাজিক ও নৈতিক দিকগুলো (যেমন: শ্রমের মর্যাদা, বৈষম্যহীনতা) সহপাঠ্যক্রমিক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করা।

             * 'তরুণ যুবা ক্লাব' বা ফোরাম গঠন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুকান্তের কবিতার অনুপ্রেরণায় তরুণদের নেতৃত্ব, বিতর্ক এবং সামাজিক সচেতনতামূলক ফোরাম তৈরি করা।

           * আবৃত্তি ও নাটক প্রতিযোগিতা: বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে 'রানার', 'দিয়াশলাই কাঠি' বা 'ছাড়পত্র' কবিতার ওপর ভিত্তি করে আবৃত্তি, পথনাটক ও শ্রুতিনাটকের আয়োজন করা।

           * দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশ: শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং সমসাময়িক সামাজিক সমস্যা নিয়ে সুকান্তের ভাবধারায় নিয়মিত দেওয়াল পত্রিকা বা ই-ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া।

            ## ২. সামাজিক স্তরে করণীয় (Social Level)

    সামাজিক সংগঠন এবং পাড়া-মহল্লার সাংস্কৃতিক পরিবেশ তরুণদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে:

           * গণগ্রন্থাগার ও পাঠচক্র: স্থানীয় লাইব্রেরিগুলোতে যুবকদের নিয়ে নিয়মিত 'সুকান্ত পাঠচক্র'-এর আয়োজন করা, যেখানে তাঁর লেখার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হবে।

           * সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও পথনাটক: বিভিন্ন উৎসব বা জাতীয় দিবসে পাড়ায় পাড়ায় মেহনতি মানুষের অধিকার ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে তরুণদের মাধ্যমে পথনাটক ও গণসংগীতের আয়োজন করা।

            * সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ততা: সুকান্তের "বিশ্বকে বাসযোগ্য করার" অঙ্গীকারকে ধারণ করে তরুণদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানের মতো স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ শুরু করা।

             ## ৩. ডিজিটাল ও আধুনিক মাধ্যমের ব্যবহার (Digital Media):

    আজকের প্রজন্ম যেহেতু প্রযুক্তিনির্ভর, তাই তাদের কাছে পৌঁছাতে ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করার সঠিক জ্ঞান পৌঁছে দিতে হবে:

            * অডিও বুক ও পডকাস্ট: সুকান্তের কবিতা ও জীবনী নিয়ে আকর্ষণীয় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকসহ আধুনিক পডকাস্ট বা অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করা।

            * সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন: কবির বিখ্যাত ও অনুপ্রেরণামূলক পঙতিগুলো নিয়ে ছোট ছোট গ্রাফিক্স, রিলস বা শর্টস (Shorts) তৈরি করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবে প্রচার করা।

             * ডিজিটাল কমিকস বা অ্যানিমেশন: শিশুদের ও কিশোরদের উপযোগী করে 'রানার' বা অন্য কোনো কবিতার প্রেক্ষাপট নিয়ে অ্যানিমেশন বা কমিকস স্ট্রিপ তৈরি করা, যা তাদের সহজে আকৃষ্ট করবে।


    ## মূল কথা:

          * সুকান্তের চেতনাকে শুধু বইয়ের পাতায় বা জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতায় আটকে না রেখে, তাঁর আদর্শকে তরুণদের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনের চর্চায় ও পরোপকারের অভ্যাসে রূপান্তর করাই হবে সবচেয়ে বড় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ।

           * বাস্তবতা হলো, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য সমাজের একটি বড় অংশের কাছে আজও অবহেলিত এবং অনেক সময় রাজনৈতিক বা সংকীর্ণ চিন্তাভাবনার কারণে তাঁকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয় না। এই ঘটনা প্রবাহ আমাকে ভীষণ ভাবে কষ্ট দেয়। দুঃখজনক এই পরিস্থিতির পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এই প্রেক্ষাপটে আমাদের করণীয় সম্পর্কে কিছু মূল্যবান দিক নিচে তুলে ধরলাম:

            ## ১. কেন সুকান্ত আজও অবহেলিত?

           * রাজনৈতিক লেবেলিং (Labeling): সুকান্ত সরাসরি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। ফলে, অনেক সময় সমাজ ও রাষ্ট্র তাঁকে কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের "দলীয় কবি" হিসেবে ফ্রেমবন্দি করে ফেলে। তাঁর কবিতার সার্বজনীন মানবতাবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তাটিকে এই সংকীর্ণ রাজনীতির চশমা দিয়ে দেখার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর প্রকৃত মূল্যায়ন পৌঁছায় না।

           * রোমান্টিকতার প্রতি অতি-আকর্ষণ: আমাদের সমাজ অনেক সময় সাহিত্য বলতে শুধু প্রেম, বিরহ বা আধ্যাত্মিক রোমান্টিকতা পছন্দ করে। সুকান্তের কবিতা ছিল নির্মম বাস্তবতার, ক্ষুধার এবং প্রতিবাদের। রুঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে ভয় পায় বলেই মধ্যবিত্ত সমাজ অনেক সময় সুকান্তকে এড়িয়ে চলতে চায়।

           * বাণিজ্যিকীকরণের অভাব: বর্তমান যুগে যে কবি বা সাহিত্যিককে নিয়ে যত বেশি প্রচার, মিডিয়া হাইপ বা করপোরেট স্পন্সরশিপ থাকে, তিনি তত বেশি চর্চায় থাকেন। সুকান্তের দ্রোহ ও পুঁজিবাদের বিরোধী চরিত্র বাণিজ্যিক মিডিয়ার স্বার্থের পরিপন্থী, তাই তাঁকে নিয়ে তেমন বড় প্রচার চোখে পড়ে না।

          ## ২. অবহেলার বিপরীতে প্রকৃত সত্য

    কিছু মানুষ মর্যাদা না দিলেও সুকান্তের মহিমা বিন্দুমাত্র কমে না। কারণ:

          * ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব: ক্ষণস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার বা সস্তা প্রচার দিয়ে সুকান্তের মতো কবিকে মাপা যায় না। পৃথিবীতে বহু কবি আজীবন রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েও মৃত্যুর পর হারিয়ে গেছেন। কিন্তু সুকান্ত মাত্র ২০ বছর বয়সে যে কালজয়ী সৃষ্টি করে গেছেন, তা মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। 

          * লড়াইয়ের ময়দানে সুকান্তই শেষ কথা: ক্ষমতার অলিন্দে কবি সুকান্ত অবহেলিত হতে পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের যে কোনো অধিকার আদায়ের আন্দোলনে, মিছিলে, স্লোগানে আজও সুকান্তের কবিতাই একমাত্র হাতিয়ার। শোষিত মানুষের হৃদয়েই তাঁর আসল সিংহাসন।

           ## ৩. এই পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি:

    সমাজ মর্যাদা দিচ্ছে না বলে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে, আমাদের নিজেদের জায়গা থেকে কিছু করা উচিত:

          * ব্যক্তিগত চর্চা জারি রাখা: কেউ মর্যাদা না দিক, আপনি নিজে সুকান্তকে পড়ুন, তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসুন এবং আপনার চারপাশের মানুষের সাথে তা শেয়ার করুন। একজন প্রকৃত পাঠকের ভালোবাসাই কবির সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

          * নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা: প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির অপেক্ষা না করে, পরিবারের ছোটদের বা বন্ধুদের আড্ডায় সুকান্তের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলুন।

           * মনে রাখতে হবে— সত্যকে চেপে রাখা যায় না: বাইরে থেকে তাঁকে যতই অবহেলা বা স্তব্ধ করে রাখার চেষ্টা হোক না কেন, সঠিক সময়ে তা দিয়াশলাইয়ের একটি কাঠির মতোই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবেই।

          * যারা সুকান্তকে মর্যাদা দিতে চায় না, তারা আসলে নিজেদের সংকীর্ণতাকেই প্রকাশ করে। সুকান্ত কোনো সাময়িক হাততালির মুখাপেক্ষী নন; তিনি বাংলা সাহিত্যের এক চিরন্তন ধ্রুবতারা।

           * আমি মনে করি ব্যক্তিগত স্তর থেকে শুরু করে ছোট ছোট সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের চেতনাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া পুরোপুরি সম্ভব। বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অপেক্ষা না করে আমরা নিজেরাই কিছু কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে পারি, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

           ## ১. পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে শুরু (Family Level)

           * উপহার হিসেবে সুকান্তের বই: পরিবারের ছোটদের জন্মদিনে বা যেকোনো উৎসবে সস্তা খেলনা বা গ্যাজেটের বদলে সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' বা 'ঘুম নেই' কাব্যগ্রন্থ উপহার দেওয়া। 

            * গল্পের ছলে কবিকে চেনা: ঘরের শিশু-কিশোরদের মোবাইল স্ক্রিনের বাইরে এনে গল্পের মতো করে সুকান্তের জীবন, তাঁর ত্যাগ এবং মেহনতি মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার গল্প শোনানো।

            ## ২. সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার (Digital Initiative):

    আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এখানে ছোট ছোট কনটেন্ট তৈরি করে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব:

            * সাপ্তাহিক পঙতি শেয়ার: প্রতি সপ্তাহে সুকান্তের কবিতার শক্তিশালী কোনো একটি বা দুটি লাইন (যেমন: ক্ষুধার রাজ্য, আঠারো বছর বয়স বা রানার-এর অংশ) সুন্দর গ্রাফিক্স বা ছবির মাধ্যমে নিজের প্রোফাইলে পোস্ট করা।

           * রিলস, শর্টস এবং স্টোরি তৈরি: সুকান্তের কবিতার আবৃত্তি বা পটভূমি নিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকসহ ৩০-৬০ সেকেন্ডের ছোট ভিডিও (Reels/Shorts/story) তৈরি করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে শেয়ার করা, যা তরুণদের মধ্যে দ্রুত আকর্ষণ করে।

           * অনলাইন বুক ক্লাব বা গ্রুপ: বন্ধুদের নিয়ে ফেসবুকে বা হোয়াটসঅ্যাপে একটি ছোট বুক ক্লাব গঠন করা, যেখানে মাসে অন্তত একদিন সুকান্তের কবিতা ও তাঁর সামাজিক দর্শন নিয়ে আলোচনা হবে।

            ## ৩. স্থানীয় স্তরে ছোট উদ্যোগ (Community Level):

            * পাড়া- প্রতিবেশী বা কলোনির আড্ডায় আবৃত্তি: পাড়ার বন্ধুদের আড্ডায় বা কোনো ঘরোয়া অনুষ্ঠানে অন্তত একটি সুকান্তের কবিতা আবৃত্তি করার অভ্যাস গড়ে তোলা।

           * ছোট লাইব্রেরি বা বুক কর্নার: নিজের ঘরে বা পাড়ার কোনো ক্লাবে একটি ছোট 'বুক কর্নার' তৈরি করা, যেখানে সুকান্তের বই থাকবে এবং যে কেউ তা বিনামূল্যে নিয়ে পড়তে পারবে।

           * পথশিশু ও সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো: সুকান্তের "বিশ্বকে বাসযোগ্য করার" অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিতে নিজের পকেটমানি বা বন্ধুদের থেকে সামান্য তহবিল জমিয়ে স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাতা, কলম কিনে দেওয়া বা তাদের একটু সময় দেওয়া।

            ## ৪. নিজের কাজের মধ্যে আদর্শকে ধারণ করা (Personal Practice):

           * শ্রমের মর্যাদা দেওয়া: নিজের গৃহকর্মী, রিকশাচালক বা যেকোনো মেহনতি মানুষের সাথে ভদ্র ও সম্মানজনক আচরণ করা। সুকান্তের কবিতার মূল শিক্ষাই হলো শ্রমজীবী মানুষকে শ্রদ্ধা করা।

           * অন্যায় দেখলে সোজা হওয়া: নিজের কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো অন্যায় বা বৈষম্য দেখলে নিজের সাধ্যমতো তার প্রতিবাদ করা এবং সত্যের পক্ষে থাকা।

           ## আজও  কষ্ট পাই, যখন দেখি এই দেশের তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী, নেশাগ্রস্ত অবস্থায়। সমাজের বিশিষ্ট গুণীজনদের সঠিক সম্মান জানাতে অপারগ। 

           * সত্যিটা হলো বড় কোনো বিপ্লব এক দিনে হয় না, আমার/আপনার নেওয়া ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই সমাজে বিদ্যমান সুকান্তের অবহেলার প্রাচীর ভেঙে তরুণদের মধ্যে জাগিয়ে তোলে --  সুসংহত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার।


    মৃণাল কান্তি পণ্ডিত

    ত্রিপুরা


    আরশিকথা হাইলাইটস


    ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট

    ১২ই আগস্ট ২০২৬

     

    • নবীনতর

      কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ও প্রাসঙ্গিকতা ।। কলমে- মৃণাল কান্তি পণ্ডিত ।। ত্রিপুরা ।। আরশিকথা হাইলাইটস

    3/related/default