কোপাই নদীর আশ্চর্য নির্জনতায় বোলপুরের যে গ্রাম আঁধার মেখে রাতের তারা জ্বালে,
সেখানেই কোথাও সুধা দিদিমণি থাকে। প্রাইমারি স্কুলে পড়ায়, আর নদীর ঘাটে লালন -রবিঠাকুরের
গান গেয়ে বেড়ায়।
আর অমল?
রবীন্দ্রনাথ মহাপ্রয়াণে যাবার অনেকদিন পরে, মরণজয়ী যুবক অমল বিশ্বপরিক্রমায় বেরিয়ে গীতবিধানের সবকটি গান, সঞ্চয়িতার সবকটি কবিতা, আফ্রিকার দিগন্ত থেকে আলাস্কা পর্যন্ত, বিধ্বস্ত হিরোশিমা,প্যালেস্টাইন থেকে রোদে পোড়া পুরুলিয়া হয়ে ঝাড়খণ্ডের অরণ্যে অরণ্যে বিছিয়ে দিয়ে বলেছিল -- শুধু রবিঠাকুরের গান বা কবিতাই নয়,আমি মানুষ ও মানবিক রবীন্দ্রনাথের কথাও জানাতে এসেছি।
আমার বন্ধু সুধা? তার খবর জানো ?
শুনেছি সে গোটা
শ্রাবণ মাস জুড়ে ইস্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে চারা গাছ পোঁতে, মানুষের কাছে বিলিয়ে দেয়। সবাইকে নিয়ে গেয়ে ওঠে -- মরুবিজয়ের কেতন উড়াও হে শূন্যে
উড়াও উড়াও হে প্রবল প্রাণ...
বহুদিন আগে, স্বপ্নদেখা তরুণী সুধা অমলকে বলেছিল -- একেবারে শেষ বয়সে, এই কোপাই নদীর ধারে কোথাও আমাদের ঘর বাঁধবো। যার নাম দেবো -- বাইশে শ্রাবণ থেকে পঁচিশে বৈশাখ।
সে সব আজ যেন দূর দিগন্তের কথা! অমলের সঙ্গে সুধার আর দেখা হয়নি। তবু সুধা আজও বোলপুরের প্রান্তিক স্টেশনের শান্ত অন্ধকারে, চেনা -অচেনা সবাইকে ডেকে ডেকে বলে -- অমল ফিরলে বোলো, বাইশে শ্রাবণের সুধা তাকে আজও ভোলেনি।
আরণ্যক বসু
আরশিকথা সাহিত্য
ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট
৬ই আগস্ট ২০২৬

