দৌড়াচ্ছে স্বরবর্ণ - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮

দৌড়াচ্ছে স্বরবর্ণ



রাণীগঞ্জের অলোক মজুমদার । চিত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিতি ভালই । গান করেন । তবলা বাজান । শিলচরে আঁকার পরীক্ষা নিতে এসেছেন । একান্ত সাক্ষাৎকারে বললেন "উনিশ মে একটা দিন মাত্র । এর বে্কে এই তারিখ নিয়ে কোন আগ্রহ নেই ।" লামডিং-এর পিউ শর্মা । বাবা দীপক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী । পিউ বললে " কলেজে পড়ি । কিন্তু শিলচরের ১৯মে আমাকে অন্য কোন ভাবনায় ভাবিত করেনা ।" হাতিখালীর রজনী দেবনাথ । বি কম -এর ছাত্রী । জীবনের কোন পথেই শিলচর ১৯শে মে শোনেনি । লামডিং কলেজের অধ্যাপক নির্মাল্য শেখর সিংহ চৌধুরী । সৎসঙ্গের সহপ্রতি ঋত্বিক । উদ্যোগী পুরুষ । বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত । বললেন " ১৯মে তারিখটা সম্পর্কে শুনেছি । তবে, তেমন কোন ধারণা নেই । প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দীপক শর্মা । তিনি বলেন, " বরাকভ্যালীর বাঙ্গালীরা প্রথম বাংলা ভাষা নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন । শহিদও হয়েছিলেন ।" একথা বলতে বলতে দীপক যেন নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলেন । 
শিলচরের ১৯মে সম্পর্কে কেউ কেউ শুনেছিলেন । তবে, তার সংখ্যা বেশ কম । শোনেনি বেশীরভাগ মানুষ । শিলং -এর নৃত্যশিক্ষিকা ইন্দিরা দেব কোনদিন শিলচরের ভাষা আন্দোলনের নাম শোনেননি । বাংলা ভাষার একজন সৈনিক হিসেবে আমি নিজে কি আন্দোলনের উত্তরসূরি হতে পেরেছি ? এ ভাবনা নিয়েই প্রত্নতাত্ত্বিকের মত এগিয়ে চলার প্রয়োজন । উনিশে মে কেবল শিলচরেরই রয়ে গেছে । এ তো শুধু তারিখ নয় । এ হলো বাংলা ভাষার এক ঐতিহাসিক দিন । বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার ভাষা সব যেন এক বিন্দুতে লীন । আমার বোধ, চেতনা, মনন জুড়ে বাংলা ভাষা । সেই বর্ণ পরিচয় রক্ষার লড়াই । শহিদ হলেন । বীর হিসেবে চিনহিত হলেন । কমলা, চণ্ডী......। পর পর এগারো জন । কত জীবন শেষ হলো । আমার বাইরের আমির কোন তাপ- উত্তাপ নেই । সে বরঞ্চ চায় না ভাষা নিয়ে কোন আলঙ্কারিত হতে । কিন্তু ভেতরের আমি । সে তো গুমড়ে কেঁদে ওঠে । সে কিন্তু সেই রক্তের হোলিখেলার কথা ভোলেনি ।
ক্যালেন্ডারের পাতায় উনিশে মে ঠিক আঠেরো মে -র পরে । কিন্তু বাঙ্গালিদের কাছে প্রতিদিনই ১৯শে মে । যুদ্ধ করেই বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে । প্রয়োজনে কেউ কেউ প্রাণ দিয়েছেন । আবারও কেউ কেউ দেবেন । কিন্তু বাংলা ভাষায় অ-আ -ক -খ পাঠশালায় কোন মৃত্যু নেই । সেই পাঠশালায় সবার যেতে হবে । 
চোখটা ঝাপসা হয়ে উঠেছে । দেখতে পাচ্ছি ভেতরের আমির চোখ পুরু লেন্সের চশমা দিয়ে দেখেছে । বহু মানুষ শিলচর রেলস্টেশনে । বাংলা ভাষা নিয়ে প্রতিবাদ । তাকে স্বীকৃতি দিতে হবে । প্রতিটি জীবন এক একটি ব্যঞ্জনবর্ণ । মুখের ভাষায় স্বরবর্ণের শব্দ । পৃথিবীর মানচিত্র বদলে দিলো । ভাষা নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় । 
দেখতে পাচ্ছি শিলচরের প্রতিবাদী মানুষগুলোর মুখ । কী অসম্ভব প্রত্যয়ী ! অ-আ -ক -খ পাঠশালার চালে । ভাষা তাঁদের অলঙ্কার । বোধের অহংকার । মুখগুলোর সামনে আসাম সরকার দাঁড়িয়ে । হারিয়ে গেছে তাঁদের ভাষা । গুলি ছুঁড়ছে । চারদিক অশান্ত হয়ে উঠছে । মানুষ বিভ্রান্ত । ছুটোছুটি করছে । কিন্তু ব্যঞ্জনবর্ণের চোখে আগুন জ্বলছে । ভাষার শত্রুদের সামনে আগুনের শিখা । চোখটা একটু মুছে নিলাম । পরিস্কার দেখতে পেলাম ভাষা দাঁড়িয়ে । স্থবিরতা গ্রাস করেনি । ভাষা তাঁদের কথা জুগিয়েছে । জুগিয়েছে প্রেরণা । জীবন দিয়েছে । আমার চোখ শহিদ দেখতে চায়নি । সে দেখছে অ-আ -ক -খ -র জীবনের মিছিল । কেবল দৌড়চ্ছে স্বরবর্ণ । পেছনে ব্যঞ্জনবর্ণ ।

 লেখক: ঋতীশ চক্রবর্তী,সর্বভারতীয় সম্পাদক, সুরনন্দন ভারতী,কোলকাতা                                                          

,

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here